কিশোরগঞ্জে বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও তারা জ্বালানি পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করে পেট্রোল-অকটেন দেয়া হচ্ছে। এরপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের নেপথ্যে শক্তিশালী একাধিক সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন কারসাজি রয়েছে বলে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে রোববার বিকালে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। সভায় ফিলিং স্টেশন মালিক ও প্রতিনিধি, ডিপো প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। জ্বালানি সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক থাকার পরও সৃষ্ট সংকটের কারণে সভা থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা জুড়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত আসে মতবিনিময় সভা থেকে।
রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোনো পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন নেই। পাম্পগুলো থেকে শুধু ডিজেল দেয়া হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেন পাওয়ার আশায় পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল চালকরা। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি পাম্প ছাড়িয়ে সড়কের বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানির আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা। একাধিক পাম্পে ঘুরেও অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। দুপুর ২টার দিকে শহরের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মুরাদ অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে বাসের দীর্ঘ সারি। পাম্পটিতে পেট্রোল-অকটেন না আসায় শুধু ডিজেল দেয়া হচ্ছে। ফলে পাম্পটিতে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড়ও দেখা যায়নি। মেসার্স মুরাদ অ্যান্ড কোং-এর প্রোপাইটর আলমগীর মুরাদ রেজা বলেন, সর্বশেষ গত ১৮ই মার্চ আমরা সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছি। এরপর আর কোনো পেট্রোল কিংবা অকটেন পাইনি। তাই আমাদের পাম্পে কোনো অকটেন-পেট্রোল নেই।
মিশু নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমি তেল নিতে কিশোরগঞ্জের সবক’টি পাম্প ঘুরেছি। কোথাও তেল পাইনি। ১০০ টাকার তেলও দিচ্ছে না। তেল খুঁজতে গিয়ে ২০০ টাকার তেল খরচ করেছি। এখন আর এক ফোঁটা তেলও নেই। তাই পাম্পেই গাড়ি রেখে যাচ্ছি। চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান চৌধুরী হেলাল জানান, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। ফলে পেট্রোল-অকটেন দেয়ায় সমস্যা হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বশেষ ৭ই মার্চ তারা ৫ হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ৪ হাজার লিটার করে তিনবার পেট্রোল পেয়েছেন। এতে করে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকরা পাম্পটিতে দিন-রাত ভিড় করছেন। তাদের সুশৃঙ্খল রাখাই এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির পর থেকেই এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে বিভিন্ন পাম্পে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে গত শুক্রবার থেকে পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি করছেন পাম্প মালিকরা। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, কিশোরগঞ্জ সদরে মোট ৭টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, জ্বালানির কৃত্রিম সংকট যেন তৈরি না হয় এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্টসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করি, সহসাই এর সুফল মিলবে।
কিশোরগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন নেপথ্যে কারসাজি
আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
