আগে থেকেই সতর্ক সিলেটের প্রশাসন। কোনো কারসাজি সহ্য করা হচ্ছে না। চোখ রাখা হচ্ছে পাম্পে। এতে কিছুটা বিরক্ত পাম্প মালিকরা। তবে; সরকারকে সহযোগিতা করতে তারাও কাজ করছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি নিয়ে যে হুলস্থুল আছে সিলেটে তেমন নেই। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন- প্রশাসন থেকে একেক দিন একেক আইন করা হচ্ছে। এ আইনের কারণে পাম্প মালিকরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সিলেটের পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকট রয়েছে। পাম্প মালিকরা বুঝাপড়ার মাধ্যমে নিজেরা রেশনিং করে বিক্রি করছেন। এরপরও সতর্কতা হিসেবে এরই মধ্যে নগরের খোজারখলার ডিপো এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি’র পাহারা শুরু হওয়ার পর থেকে আপাতত ডিপো নিয়ে স্বস্তি ফিরেছে। খোলারখলার ডিপো এলাকায় রয়েছে একটি শক্তিশালী তেল চোরাই সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক। তারা ডিপো থেকে বের হওয়া গাড়ি থেকে তেল চুরি করতো। সেগুলো কম টাকায় কালোবাজারে বিক্রি করতো। বিজিবি মোতায়েন ও প্রশাসনের নজরদারি শুরু হওয়ার পর থেকে চোরাই তেল নেটওয়ার্কের সদস্যরা পিছু হটেছে। এতে পাম্প মালিকরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সিলেট নগরে রয়েছে অর্ধশতাধিক পেট্রোল পাম্প। সিএনজি গ্যাস বিক্রির পাশাপাশি বেশির ভাগ পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি করা থাকে। পাম্প মালিকরা শুধু যে যানবাহনে জ্বালানি বিক্রি করেন তা নয়, তারা বাইরের খোলাবাজারে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার তেল বিক্রি করতে হয়। বিভিন্ন সরকারি, আধা- সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উৎপাদন সহ নানা খাতে তেল বিক্রি হয়ে থেকে। বাইরের তেল বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় এখন অনেকেই বেকায়দায়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাইরে খোলা তেল কেনার ব্যাপারে অনুমোদনের নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ। যেসব প্রতিষ্ঠান পুলিশ কমিশনারের কাছে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে অনুমতিপত্র নিয়ে আসছেন পাম্প মালিকরা তাদের তেল দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি পাম্পে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিলেটের জন্য তদারকিতে যে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে তিনি শনিবার সিলেট এসে সফর করে গেছেন। প্রশাসন সহ পাম্প মালিকদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। তিনি চলে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের হিসাব সহ চলতি বছরের হিসাব নিয়ে বসেছেন ডিপো মালিকরা। নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেসব পাম্প মালিক ২০২৫ সালে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল সংগ্রহ করেছেন তাদের কম সরবরাহ করা হবে। আর যারা বেশি পরিমাণ তেল বিক্রি করেননি তাদের নির্ধারিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে। এই নির্দেশনায় সিলেটের পাম্প মালিকদের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। পাম্প মালিকরা বলছেন সরকার কম তেল দিলেও রেশনিং উঠিয়ে নিয়েছে। এতে করে অনেকেই এসে বেশি তেল চান। তারা সংকট দেখিয়ে কম তেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। এ কারণে সিলেট নগরে তাদের কোনো পাম্পই বন্ধ করতে হচ্ছে না। তবে প্রশাসন থেকে নতুন যে আইন গ্রহণ করা হয়েছে সেটি হবে আত্মঘাতী। যদি তেল কম দেয়া হয় তাহলে অনেক পাম্প মালিকই তাদের পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন। এতে করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। গতকাল থেকে পাম্পে পাম্পে তদারকি শুরু করেছে সিলেটের জেলা প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেটরা গিয়ে তেল সংগ্রহ ও বিক্রির বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এই অবস্থায় দক্ষিণ সুরমায় একটি পাম্পে সংগ্রহ ও বিক্রিতে অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। পরে অবশ্য পাম্প মালিকদের আপত্তির মুখে প্রশাসন জরিমানার বিষয়টি সুরাহা করেছে। সিলেট জেলা সিএনজি পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান জানিয়েছেন- সিলেটে যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ না হয় সেজন্য প্রশাসনের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও কাজ করছেন। পাম্প মালিকরা কখনো অনৈতিক কাজে জড়িত নয়। সামাল দিতে প্রশাসনকে টিমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।
সিলেটের জ্বালানি নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
