কুয়েত ও দুবাইয়ে ইরানের হামলা, উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করলেন প্রেসিডেন্ট

কুয়েত ও দুবাইয়ে ইরানের হামলা, উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করলেন প্রেসিডেন্ট

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকায় ইরান দাবি করেছে, তারা দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দুটি ‘ঘাঁটি’তে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এসব ঘাঁটিতে। সেখানে ৫ শতাধিক মার্কিন সেনা ছিল। একজন মুখপাত্র দাবি করেন, দুবাইয়ে এম্বুলেন্সগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কমান্ডাররা নিশ্চয়ই বুঝে গেছে যে, এই অঞ্চল আমেরিকান সেনাদের কবরস্থানে পরিণত হবে। শেষ পর্যন্ত তাদের ইসলামী যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানায়, দুবাইয়ে কোনো মার্কিন সেনার ওপর হামলা হয়নি। সেন্টকমের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে বলা হয়, ইরানের শাসকগোষ্ঠী সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, যাতে তারা তাদের দুর্বল সামরিক অবস্থান আড়াল করতে পারে। ওদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটকে সমর্থন না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তারা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানে হামলার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, আমরা বহুবার বলেছি, ইরান আগে থেকে হামলা চালায় না। কিন্তু আমাদের অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক কেন্দ্র আক্রমণ করা হলে আমরা কঠোর প্রতিশোধ নেবো। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর উদ্দেশ্যে বলছি- আপনারা যদি উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চান, তাহলে আমাদের শত্রুদের আপনার ভূমি থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতে দেবেন না।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মুখপাত্র পরে জানান, হামলাগুলো চালিয়েছে ইরান, তার মিত্র গোষ্ঠী এবং সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠনগুলো। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানবন্দরসহ অনেক জায়গায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জরুরি পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হচ্ছে।
ইরানের দাবি-৬টি মার্কিন নৌযানে হামলা: ইরানের গার্ডস বাহিনী দাবি করেছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৮৪তম ধাপে কুয়েতের শুয়াইক বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দেশীয় প্রযুক্তির ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যেমন কাদর ৩৮০ ক্রুজ মিসাইল (যার পাল্লা ১,০০০ কিলোমিটার) ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, এই অভিযানে শুয়াইক বন্দর, দুবাইয়ের উপকূল ও বন্দর এলাকায় মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর ওপর নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করে, তিনটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে এবং বাকিগুলোতে আগুন লেগেছে। এ ছাড়া আল-খার্জ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ যান ও লজিস্টিক বহর ধ্বংস করার কথাও দাবি করা হয়েছে।
দুবাইয়ের হোটেলে কামিকাজে ড্রোন হামলা: ইরান দাবি করেছে, তারা কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে দুবাই উপকূলে অবস্থানরত মার্কিন ড্রোন ইউনিটের সদস্যদের সমাবেশস্থল এবং একটি হোটেলে হামলা চালিয়েছে। ওদিকে ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি শনিবার আল-মাসিরাহ স্যাটেলাইট টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তারা দক্ষিণ ইসরাইলের ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। গত মাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইয়েমেন থেকে ইসরাইলের দিকে হামলা চালানো হলো। ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ চলাকালে হুতিদের জাহাজে হামলার কারণে লোহিত সাগরের নৌপরিবহনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন