প্যারিসে মার্কিন ব্যাংকের সামনে বোমা হামলা নস্যাৎ, পুলিশ তদন্ত শুরু

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি সম্ভাব্য বোমা হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা, এফপি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে, যা সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাটি শনিবার গভীর রাতে প্যারিসের অভিজাত ৮ম অ্যারোঁদিসমঁ এলাকায় ঘটে। সেখানে একটি ভবনের বাইরে এক ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু ব্যবহার করার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই ব্যক্তি দাহ্য পদার্থ ভর্তি একটি পাত্রে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করে। তবে এ ঘটনায় আরেকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাকে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটর দপ্তর তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া উপকরণ পরীক্ষা করে হামলার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ এই ঘটনাকে “একটি সহিংস সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে একটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলার প্রবণতা ইউরোপে নতুন নয়। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইউরোপে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে কম প্রযুক্তিনির্ভর কিন্তু উচ্চ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হামলার প্রবণতা বাড়ছে। একক ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলার চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের ওপর ঝুঁকি আগের তুলনায় বেশি।
ফরাসি সরকার জানিয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থাপনা এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার পর প্যারিসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার বলছে, যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্স অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। ফলে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, ইউরোপে সন্ত্রাসবাদের হুমকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন