আইনগতভাবে আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনস (অ্যাফকন) ট্রফির মালিক এখন মরক্কো হলেও সেটি সুরক্ষিত আছে সেনেগালের কাছে। ফাইনালের দিন সেনেগাল জিতলেও, শেষ বাঁশি বাজার আগে মাঠ ছাড়ার কারণে কয়েক সপ্তাহ আগে মরক্কোকে বিজয়ী হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করে সেনেগালিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএফ)। এতোসবের মধ্যে সেই ট্রফি নিয়েই এবার প্যারেড করলো সেনেগাল ফুটবলাররা। প্যারিসের স্তাদ দ্য ফ্রান্সে এরপর পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে জয় তুলে নেয় তারা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যাফকন ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ে তারা। গত ১৭ই মার্চ এই ঘটনাকে ‘ম্যাচ বর্জন’ ও ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে গণ্য করে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)। এবং নাটকীয়ভাবে সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে ৩-০ গোলে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তকে ‘নগ্ন প্রশাসনিক চুরি' আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করে সেনেগাল। আদালতের রায় আসার আগে সেই ট্রফি নিয়ে এবার প্যারেডও করলো দলটি।
পেরুর বিপক্ষে ম্যাচটির আগ কনসার্ট শেষে অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির নেতৃত্বে ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে পুরো দল। গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরলে গ্যালারিতে থাকা হাজারো সেনেগালিজ প্রবাসী উল্লাসে ফেটে পড়েন। এরপর বর্ণাঢ্য প্যারেড শেষে ট্রফিটি সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি আবদুল্লায়ে ফলের সামনে রাখা হয়। মরক্কোর আইনজীবীরা এই প্রদর্শনী বন্ধে আইনি নোটিশ দিলেও সেনেগাল কর্তৃপক্ষ সেসব পাত্তাই দেয়নি।
এদিনের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল সেনেগালের জার্সি। সিএএফের রেকর্ড বইয়ে তাদের শিরোপা একটি হলেও তারা মাঠে নামে দুই তারকাখচিত জার্সি পরে, যার একটি ২০২১-এর এবং অন্যটি সেই বিতর্কিত শিরোপার স্মারক। পেরু ম্যাচে অবশ্য নিয়মিত একাদশের অনেক তারকাকেই বিশ্রাম দেয়া হয়। তবুও মাঠের লড়াইয়ে পেরুকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয় সেনেগাল।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ‘সম্মান’ রক্ষার্থে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। সিএএসে করা সেই আপিলের রায় আসতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে সেনেগাল সরকারের দাবি, এ ঘটনায় সিএএফের ভেতর ‘দুর্নীতির’ গন্ধ রয়েছে এবং এ কারণে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও সামনে এসেছে। মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আইনি লড়াই-ই নির্ধারণ করবে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত দল।
