মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের ইতিহাস সুবিশাল। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আইকনিক ভেন্যুটি বর্তমানে পরিচিত বার্নোত স্টেডিয়াম নামে, যেখানে খেলে গেছেন পেলে-ম্যারাডোনার মতো মহারথীরাও। ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রায় দুই বছরের সংস্কারের পর এর পুনঃউদ্বোধনীতে তাই ঢল নামে সমর্থকদের। তবে মেক্সিকো-পর্তুগালের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটির আগেই ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। বক্স সিট এলাকা থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। পরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোবিহীন ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।
ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে বইতে থাকে উৎসবের হাওয়া। দীর্ঘ দুই বছর সংস্কার মহাযজ্ঞের পর ২০২৬ বিশ্বকাপের মহড়া হিসেবে আয়োজিত মেক্সিকো-পর্তুগালের ম্যাচটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তবে সেই আনন্দঘন পরিবেশে বিষাদের ছায়া নেমে আসে অতি দ্রুতই। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে কর্তৃপক্ষ জানায়, স্টেডিয়ামের বক্স সিট এলাকা থেকে এক দর্শক নিচে পড়ে প্রাণ হারান। নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং কাঠামোর বাইরের অংশ বেয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে প্রথম তলায় লাফ দেয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনার শিকার হন। মর্মান্তিক ঘটনাটি পুনরুত্থানের আনন্দকে মুহূর্তেই ম্লান করে দেয়।
আসন্ন বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে স্টেডিয়ামটি ঢেলে সাজানো হলেও, অব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রবেশপথ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের। তবে অনেকেই আবার এসব বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন। মাঠের ভেতরে যখন উৎসব, বাইরে তখন চলছিল প্রতিবাদ। স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা আবাসন, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ তুলে মহাসড়কে ফুটবল খেলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
মাঠের লড়াইয়ে রোনালদোবিহীন পর্তুগাল দাপট দেখালেও গোলের দেখা পায়নি। জোয়াও ফেলিক্স এবং গনচালো রামোসের প্রচেষ্টাগুলো কাজে লাগেনি। এক পর্যায়ে রামোসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরেও আসে। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিক দলের আরমান্দো গঞ্জালেস সহজ সুযোগ মিস করেন। তাতে গ্যালারিতে উপস্থিত মেক্সিকো সমর্থকরা হতাশায় দুয়োধ্বনি দেন। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
আসতেকা বা বানোর্তে স্টেডিয়াম ফুটবল বিশ্বের একমাত্র মাঠ যেখানে, পেলে ও ম্যারাডোনা দুজনই বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। শুধু তাই-ই নয়, ইতিহাসের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে এখানে অনুষ্ঠিত হয় দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই দু’বার ট্রফি তুলে ধরেন পেলে (১৯৭০) ও ম্যারাডোনা (১৯৮৬)। আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গডের’ জন্ম কিন্তু এখানেই। আবার ‘শতাব্দীর সেরা ম্যাচ’ হিসেবে খ্যাত ১৯৭০ বিশ্বকাপের ইতালি ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার সেমিফাইনালও অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এবং এটিই প্রথম স্টেডিয়াম, যেখানে তিনটি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। আগামী ১১ জুন এ মাঠেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।
পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে আগামী ১লা এপ্রিল বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে মেক্সিকানরা। একই দিন ভোরের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
