আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘পিবিআইয়ের তদন্ত: আদালতে করা মামলার ৬৩% আসামিই নির্দোষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে হত্যা, হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে আদালতে করা মামলাগুলোতে আসামি করা ব্যক্তিদের বড় অংশই তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হচ্ছেন। এ পর্যন্ত তদন্ত শেষ হওয়া ৮২টি মামলার প্রায় ৬৩ শতাংশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এ ছাড়া বেশ কিছু মামলার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাঁদের অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়েছে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি এড়াতে মামলার আগে যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারা দেশে থানায় ও আদালতে অসংখ্য মামলা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা (সিআর) ১৯৫টি মামলার তদন্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে দেখা যায়, এগুলোর মধ্যে ৮২টি মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই ৮২টি মামলায় মোট ৭ হাজার ৬৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বাকি ৪ হাজার ৭৯৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এসব মামলার মোট আসামির ৬২ দশমিক ৬৫ শতাংশই নির্দোষ বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই সূত্র জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া ৮২টি মামলার মধ্যে ৮টি হত্যা মামলা। বাকি ৭৪টি মামলা অন্যান্য আইনে করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ, ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলার অভিযোগে করা অনেক মামলায় অনেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে তদন্তে আসামিদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় করা মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে জানান পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, অনেক মামলার তদন্তে কিছু নির্দোষ ব্যক্তিকে আসামি করার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু মামলায় প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেসব মামলায় এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক বেশ কিছু মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্ত করা মামলাগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. কাওছার মিয়া (২০) নিহত হওয়ার অভিযোগে করা হত্যা মামলাও রয়েছে। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ২৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত কাওছারের মা মোছা. পারুল খাতুন। মামলার তদন্তকালে বাদী ছেলে নিহত হওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ পিবিআইকে দেখাতে পারেননি। এমনকি কাওছার ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হন। ফলে ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় এই মামলায় পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলামোটর এলাকায় গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় গত বছরের ১০ এপ্রিল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন শিক্ষার্থী রায়হান (২১)। মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক, বিভিন্ন পেশায় জড়িত ব্যক্তিদেরসহ ২৯৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়া যায়নি।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিন আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিকসহ ঢাকার বাইরের জেলায় বসবাসকারী ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাঁদের ছাড়া বাকি আসামিদের নাম অভিযোগপত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরার আজমপুরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ মোট ৬৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন পোশাক কারখানার কর্মী মো. পিয়াস আহমেদ (২৫)। তবে মামলা তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পিবিআই।
জানতে চাইলে ওই মামলার বাদী পিয়াস আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলায় কিছু সাধারণ মানুষের নাম ঢুকে গিয়েছিল। যারা জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা হয়ে গেছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় মামলার আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কোনো মামলায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আসামি করার প্রমাণ মিললে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এতে মিথ্যা মামলা করার প্রবণতা কমবে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমবে।
প্রথম আলো
‘দেশে হামের প্রাদুর্ভাব, মার্চে ২১ শিশুর মৃত্যু’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কমপক্ষে সাত জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চলতি মাসেই হামে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের ব্যাপারে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়ায় পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। শিশুদের হামের টিকা দেওয়ায় ঘাটতি আছে। হাম খুবই সংক্রামক, অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে ১৫–১৮ জন সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই রোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, শিশুমৃত্যু বাড়তে পারে।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশেই কমবেশি হাম আছে। তবে আমরা ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে বেশি রোগী দেখতে পাচ্ছি।’
তবে সরকারের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভোলা ও পটুয়াখালীর রোগীরা রাজধানীর এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিনিধি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও রোগী আছে।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোয় যোগাযোগ করে জানা গেছে, ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২টি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩টি, রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৩টি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্যাভির স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার নিজাম উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক। সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত টিকাদান, শক্তিশালী নজরদারি, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সরেজমিনে হাসপাতাল
গতকাল দুপুরে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর ভিড় ও লম্বা লাইন। অনেকের কোলে শিশু। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কেউ এসেছেন হাম কি না, তা নিশ্চিত হতে; কেউ এসেছেন বসন্ত কি না, তা জানতে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে হাম, বসন্ত, এইচআইভি/এইডস, ধনুষ্টংকার, কালাজ্বর ও জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা হয়।
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় হামের রোগীর জন্য শয্যা আছে আটটি; কিন্তু গতকাল দুপুর পর্যন্ত শুধু হাম ও হাম সন্দেহে রোগী ভর্তি ছিল ১১৭ জন। বিভিন্ন তলায় বারান্দা ও মেঝেতে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েদের শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
নরসিংদীর বাগহাটা গ্রাম থেকে আসা মুন্নি আখতারকে দেখা যায়, চারতলার বারান্দায় তাঁর এক বছরের ছেলে আহমদুল্লার জন্য জায়গা করে নিয়েছেন। মুন্নি আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ১৫ দিন আগে ছেলের জ্বর হয়, পরে গায়ে র্যাশ ওঠে। স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ছেলেকে দেখান। তারপর ওই ক্লিনিক থেকে জানায় ছেলের হাম, এই হাসপাতালে আনতে পরামর্শ দেয়।
রাজধানীর বছিলা এলাকা থেকে আসা এক নারী বলেন, এক বছরের ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও কোনো ওয়ার্ডে শয্যা পাননি।
হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (শিশু স্বাস্থ্য) এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪৫০ জন রোগী হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল যে ১১৭ জন ভর্তি ছিল, তাদেরও ৭০ ভাগ হামের রোগী। চলতি মার্চে তিনটি শিশু মারা গেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আজিমপুর থেকে বেশি রোগী আসছে। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর টিকা নেওয়া নেই।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানি সংকট জাতীয় সমস্যায় রূপ নিচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে জ্বালানি সংকটের বহুমুখী প্রভাব পড়েছে। ক্রমেই এটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দেশে জ্বালানি মজুতের স্বল্পতা এবং ডলার সংকটের কারণে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সামষ্টিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে; পাশাপাশি পেট্রোলপাম্পগুলোয় তেল নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার সংঘর্ষের মতো সামাজিক অস্থিরতাও দেখা দিচ্ছে। গবেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানির এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমলে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৬১ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খানের মতে, আগামী কয়েকটা দিন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তারও বড় পরীক্ষা। কারণ, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়বে। আর দীর্ঘ সময় দাম ১২০ ডলারের বেশি থাকলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প খাত নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়বে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। তাই সমস্যা সমাধানে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যুতের জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে সৌরশক্তি এবং বায়ো জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, জ্বালানি তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পালটা পদক্ষেপ হিসাবে তেল পরিবহণের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশে তেলের সংকট দেখা দেয়। শুরুতে পরিবহন খাতে তেল কেনায় রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছিল সরকার। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং: তেলের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে দেশে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এলপিজি আমদানির বড় অংশ হরমুজ হয়ে আসে। ফলে রান্নার গ্যাসের সংকট তৈরি হচ্ছে। ছোট-বড় কারখানা ও কৃষি সেচে ডিজেল জেনারেটরের খরচ বাড়ছে। চাপ বাড়ছে খাবারের দোকানে।
শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত: তেলের সংকটের কারণে ইতোমধ্যে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আগামী দিনে প্লাস্টিক, রাসায়নিক, টায়ার, পেইন্টের মতো তেলনির্ভর কাঁচামালের দাম বাড়বে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উৎপাদন খরচ বেড়ে অনেক ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বড় কোম্পানিগুলো কিছুটা সামলাতে পারলেও ছোট ইউনিটগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তেলের পাশাপাশি দেশে গ্যাসেরও সংকট চলছে। চাপ কম থাকায় অনেক কারখানা বন্ধ বা আংশিক চালু রয়েছে। এতে আগামী দিনে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষি খাতে সমস্যা: দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩ শতাংশের মতো। আর কর্মসংস্থানে প্রথম অবস্থানে রয়েছে এ খাত। কিন্তু ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কৃষির অন্যতম উপকরণ সার। এটি তৈরিতে গ্যাস লাগে। সারের দাম বাড়লে চাষের খরচ বৃদ্ধি পাবে। ডিজেলচালিত ট্রাক্টর ও পাম্পের খরচ বেড়ে ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের খাবারের খরচও বাড়বে। ছোট চাষিরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। ফলে আগামী দিনে ফসল উৎপাদন কমতে পারে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
পরিবহন খাতে অস্থিরতা: তেলের অভাবে পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি বাদ দিয়ে গণপরিবহণ কিংবা কাছাকাছি দূরত্বে হেঁটে পথ চলছে। এছাড়াও তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ ও দৈনন্দিন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসের খরচ বেড়ে মুনাফা কমবে। সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাবে। ডিজেল ও বিমান জ্বালানির দাম বাড়লে ট্রাক, বাস, ট্রেন ও উড়োজাহাজের খরচ বৃদ্ধি পাবে। পণ্য পরিবহণ ব্যয় বাড়লে নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে।
কালের কণ্ঠ
‘রামেক হাসপাতালে আইসিইউ অব্যবস্থাপনা: ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘আমার বচ্চা ২১ দিন নিউমোনিয়ায় কষ্ট পাচ্ছিল। ফুসফুস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ওকে আইসিইউতে ভর্তি করতে বলেছিলেন ডাক্তাররা। দুই দিন অপেক্ষা করে আইসিইউর সিরিয়াল পাইনি।
তাকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে যাই। এর পরও তাকে বাঁচানো যায়নি। আগেই রাজশাহী হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করানো গেলে আজ এই কঠিন দিনের মুখে পড়তে হতো না আমাকে। একটি আইসিইউ বেডের জন্য আমার সন্তানকে হারাতে হলো।
এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে গতকাল শনিবার বিকেলে কথাগুলো বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা তমা বেগম। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২১ দিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল তাঁর ১৫ মাসের সন্তান সাইফান। গত ২২ মার্চ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে সাইফানকে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। তখন হাসপাতালের আইসিইউর কোনো শয্যাই খালি ছিল না।
সাইফানের সিরিয়াল ছিল ২২ নম্বরে। গত ২৪ মার্চও সিরিয়াল দিয়ে তার জন্য শয্যা মেলেনি। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। শেষমেশ সাইফানের বাবা শিশির ইসলাম ছেলেকে নিয়ে ওই দিনই বিকেল ৪টায় রাজশাহী থেকে রওনা দিয়ে রাত ৯টায় ঢাকার ডিআরবি হাসপাতালে পৌঁছেন। আইসিইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে।
হতাশ মা-বাবার বুকে তখন আশা জমছিল। কিন্তু এখানে ভর্তি করানোর ঘণ্টা দুয়েক পরই মারা যায় তাঁদের আদরের সন্তান।
শুধু কি সাইফান? রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে শয্যা না পেয়ে এভাবে গত ১০ মার্চ থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৮ দিনে মারা গেছে ৫১ শিশু। তারা সবাই আইসিইউ শয্যার জন্য ‘অপেক্ষমাণ তালিকায়’ ছিল। তারা সিরিয়াল পেয়েছে মৃত্যুর পর। তাদের বেশির ভাগই মারা গেছে রাজশাহী হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তাদের প্রত্যেককে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য চিকিৎসকরা সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকেই হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করাতে পারেননি অভিভাবকরা। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকালের পর অপেক্ষমাণ আরো দুটি শিশু মারা গেছে। যদিও এই দুই শিশুর নাম-ঠিকানা দেয়নি দায়িত্বরত সূত্রটি।
গতকাল বিকেলে হাসপাতালের আইসিইউ ও শিশু ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রোগী ও তাদের স্বজনদের অন্তহীন ভোগান্তির চিত্র। চার বছর বয়সী আদিব হাসান ভর্তি আছে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। ঠাণ্ডাজনিত কারণে শ্বাসকষ্ট এতটাই বেশি যে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে গত শুক্রবার দুপুরে আদিবকে সাধারণ শিশু ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। এরপর আদিবের বাবা শাহীন আলম তাকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় শিশু আইসিইউতে ভর্তি করানোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যান। কিন্তু তিনি গিয়ে দেখেন—তার আগে আরো ৩১ শিশু রোগীর সিরিয়াল দেওয়া আছে। শয্যা ফাঁকা হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয় আদিবের বাবাকে। গতকাল সকালে আইসিইউতে শয্যা ফাঁকা হলে মোবাইলে কল করে শাহীন আলমকে তাঁর শিশুসন্তানকে ওয়ার্ড থেকে নিয়ে যেতে বলা হয়।
তবে শিশু ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক তখন আদিবের অবস্থা কিছুটা ভালো জানিয়ে অক্সিজেনের নলটি খুলে দিয়ে বলেন, ‘এখন আর আইসিইউতে পাঠানো লাগবে না।’ এর ঘণ্টা চারেক পর বিকেলে আবারও আদিবের অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন আবারও ওয়ার্ড থেকে তাকে আইসিইউতে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু তখন আদিবের বাবা গিয়ে দেখেন আইসিইউতে শয্যা ফাঁকা নেই। ততক্ষণে অন্য শিশুকে ভর্তি করানো হয়েছে সেখানে। এবার আদিবের সিরিয়াল গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ নম্বরে। আদিবের মা হোসনে আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আইসিইউর সামনেই বলতে থাকেন, ‘দুপুরেই আমার ছেলেকে যদি আইসিইউতে পাঠানো হতো তাহলে এখন এই অবস্থা হতো না। ছেলে তো আমার নিস্তেজ হয়ে আছে। এখন আর কি বাঁচানো যাবে?’ আইসিইউর দায়িত্বরতদের কাছে অনুরোধ করে তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনারা একটু চেষ্টা করে দেখেন না দ্রুত আমার ছেলেকে আইসিইউতে ভর্তি করানো যায় কি না। ছেলের কিছু হলে আমি তো বাঁচব না।’
অন্যদিকে আড়াই বছরের নুসাইবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আইসিইউতে রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু নুসাইবাকে আইসিইউতে ভর্তি করাতে গেলে তার বাবা সবুজ আলী দেখতে পান, ২১টি শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। নুসাইবার নাম ছিল ২২ নম্বরে। কিন্তু ‘সিরিয়াল’ আসার আগেই গত ১২ মার্চ নুসাইবা মারা যায়। এর চার দিন পর আইসিইউর কর্মীরা ফোন করে শিশুটির সিরিয়াল পাওয়ার কথা জানান। নুসাইবার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়—সে সিরিয়াল পাওয়ার আগেই মারা গেছে। জানা গেছে, নুসাইবার বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাঠেংগায়।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘১০ জেলায় হামের প্রকোপ বাড়ছে শিশুর মৃত্যু’। খবরে বলা হয়, দেশের অন্তত ১০টি জেলায় হাম রোগ
উদ্বেগজনকভাবে সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঁচ শিশু এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে মারা গেছে তিন শিশু। পাবনায় গতকাল শনিবার ২৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি মাসে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না পেয়ে ১৫ দিনে মোট ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আরও কেউ কেউ হামে আক্রান্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, সংক্রমণ এখন নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত বসন্তকালে শুরু হওয়া এ ধরনের প্রকোপ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল টিকার সংকট দূর না করা এবং বিভিন্ন দাবিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলন।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং ভাইরাসজনিত উচ্চ সংক্রামক রোগ হওয়ায় হাঁচ-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ-মাথায় প্রদাহে আক্রান্ত হয় শিশু। এসব শিশুকে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।
ইত্তেফাক
‘জ্বালানি তেল নিয়ে ভোগান্তি ও মজুতদারি বন্ধ হচ্ছে না’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে তেলের সরবরাহ ঘাটতি এবং অবৈধ মজুতদারি থামেনি। ফলে কমেনি গ্রাহকদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ। সড়কে যানবাহন অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও গতকাল শনিবারও অয়েল ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের জন্য মোটরযানের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তেল না পেয়ে বা দেরিতে পেয়ে কয়েকটি স্থানে ক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন গ্রাহকরা। অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে তেল বিতরণ পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা আনতে দেশের সব পাম্পে একজন করে ট্যাগ ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিপো থেকে তেল গ্রহণের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার পরিবর্তে ৭টা থেকে বিকাল ৩টা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তিত সময়ে ডিপো থেকে তেল নিতে পারবে ফিলিং স্টেশনগুলো। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। এ দুই এলাকা ছাড়া বাকি জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন। ট্যাগ অফিসারগণ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন এবং দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন। জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়াও জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। গত শুক্রবার ৬২টি জেলায় জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট ২৯৩টি অভিযান পরিচালনা করে। এদিন ৭৮টি মামলা দায়ের ও ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল শনিবারও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযানে অবৈধ মজুতদারি ধরা পড়ে এবং জরিমানা ও মামলা করা হয়। এদিকে অবৈধ মজুতদারি বন্ধে তথ্য প্রদানকারীর জন্য পুরস্কার ঘোষণাও করা হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। নাগরিকদেরকে এ বিষয়ে অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।
মজুতদারি ঠেকাতে ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলার একটি, কুড়িগ্রামের দুটি, রংপুরের তিনটি, রাজশাহীতে তিনটি, সিলেটে দুটি, মৌলভীবাজারে তিনটি, কুমিল্লায় তিনটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি ও সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ডিপো অর্থাৎ মোট ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘যুদ্ধে ইয়েমেন, দিশেহারা ট্রাম্প’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া সর্বাত্মক যুদ্ধ এক মাস অতিক্রম করেছে। এই এক মাসে যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখা কেবল দুই দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য নতুন এক অশনিসঙ্কেত নিয়ে এসেছে। ২০২৩ সাল থেকে বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে আসা হাউছিরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংজ্ঞায়িত এবং শক্তিশালী।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করছে যে, ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের এই ত্রিমুখী লড়াই কেবল সামরিক সঙ্ঘাত নয় বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটি যদি হাউছিরা পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেয়, তবে হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খালের ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব অর্থনীতিতে এমন এক ধস নামবে যা সামলানো বর্তমান বিশ্বের জন্য প্রায় অসম্ভব।
অন্য দিকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এই যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম রাজনৈতিক ও কৌশলগত সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। নিজের ঘোষিত এই যুদ্ধে ট্রাম্প এখন অনেকটা দিশেহারা। এক দিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে, অন্য দিকে তার জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে।
ট্রাম্প এখন এক গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছেন; হয় তাকে ইরানের সাথে একটি নমনীয় চুক্তিতে গিয়ে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো মধ্যপ্রাচ্যের এই ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে নিজের প্রেসিডেন্সিকেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে হবে। ট্রাম্পের পাঠানো ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব তেহরান ইতোমধ্যে ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা হোয়াইট হাউজকে আরো অস্বস্তিতে ফেলেছে। যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ তো নেই-ই বরং ইরান ও তার মিত্রদের পাল্টা হামলা এবং ইসরাইলের অব্যাহত বিমান অভিযানে পুরো অঞ্চল এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে।
হাউছিদের অংশগ্রহণ ও বিশ্ব বাণিজ্যের রুদ্ধ পথ
ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অংশে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হাউছিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন, ইরান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রতিবাদেই তাদের এই অভিযান। যদিও এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হাউছিদের হামলাগুলো ছিল মূলত বিক্ষিপ্ত, তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তেলাবিবে তাদের ড্রোনের সফল আঘাতের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
বণিক বার্তা
‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী সরকার, মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী, বিশেষত এশিয়ার অনেক দেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের এ সংকটের লক্ষণগুলো দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দাম দিয়ে এলএনজি কিনছে সরকার। এপ্রিলের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজির সব কার্গো সরবরাহের নিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। এজন্য মোট নয় কার্গো এলএনজি কেনা হচ্ছে। বুধবার এসব কার্গো সরবরাহ পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা এপ্রিলের চাহিদা অনুযায়ী নয়টি কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। বিষয়টি গত ২৫ মার্চ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটটি কার্গো কেনা হবে স্পট মার্কেট থেকে এবং বাকি একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়।’
যদিও এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, জ্বালানির জন্য আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশগুলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কিছু লক্ষণ দেখালেও আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা এবং দুর্বল বৈদেশিক অবস্থানের কারণে ‘অধিক ঝুঁকিতে’ রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নে এসব দেশ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
বর্তমানে এলএনজি কিনতে বেশি দাম দিতে হলেও সরকার সরবরাহ সংকট সামাল দেয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গ্যাস খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, স্পট মার্কেট থেকে কার্গোপ্রতি এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ গড়ে প্রায় ২২ ডলারে কেনা হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে সাড়ে ৯ থেকে ১০ ডলারে কেনা হতো। অর্থাৎ গ্যাসের সরবরাহ ঠিক রাখতে এখন দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি কেনা হচ্ছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি আগের অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন এলএনজি কার্গো কেনা হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে। সেই হিসেবে ভর্তুকিও আগের অর্থবছরে চেয়ে বেড়ে যাবে।’ কী পরিমাণ ভর্তুকি বাড়াতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ অর্থবছরে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি লাগবে।’
জ্বালানি নিয়ে সরকারের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে। আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে ২৪ মার্চ বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি আমদানির জন্য যে বাড়তি অর্থের দরকার পড়বে, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
দেশের ৭০-৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয় মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আর পরিশোধিত তেল কেনা হয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২৬ সালজুড়ে তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের বেশি থাকে, তাহলে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ। গতকাল এক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সংস্থাটির গবেষণা সূত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আগে জ্বালানি তেল সাধারণত ১৫ দিনের মজুদ রাখা হতো। এখন তা এক মাসের মতো আছে। এ মজুদ আরো বড় করার চেষ্টা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের জন্য সরকারের ভর্তুকির বিষয়ে ২৮ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) জানান, প্রতিদিন সরকার জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
কিন্তু সংকট মোকাবেলা সরকারের এত সব উদ্যোগের মধ্যেও মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন পরিস্থিতি। ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষমাণ থাকার পরও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন অনেকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, সুযোগ পেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এক শ্রেণীর অসাধু পাম্প কর্মী। অভিযোগ উঠছে যে অনেক পেট্রল পাম্পের মালিক তেলের দাম বাড়তে পারে—এ চিন্তা থেকে তেল বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। পাওয়া যাচ্ছে মজুদদারির অভিযোগও।
এর মধ্যে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় দেশের ভোগ্যপণ্য ও শিল্প খাত বড় ধরনের চাপে পড়েছে। বিশেষ করে নদীপথে জাহাজে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কারখানায় কাঁচামাল পৌঁছানো, উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। আবার পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য জ্বালানির অভাবে বাজারে পণ্য সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ধীরগতি তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর সাক্ষী যেন ‘সোনার হরিণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ডের বিখ্যাত আইন দার্শনিক প্রয়াত জেরেমি বেন্থাম ফৌজদারি মামলার সাক্ষীদের বলতেন বিচারের ‘চোখ’ ও ‘কান’। আদালতের বিচারক যেহেতু ঘটনার সময় উপস্থিত থাকেন না, তাকে নির্ভর করতে হয় সাক্ষীর ঘটনা দেখা, শোনার বিবরণ ও দালিলিক প্রমাণের ওপর। কিন্তু ফৌজদারি বিচারে এমন অনেক মামলা থাকে যাতে সাক্ষীর উপস্থিতি ‘সোনার হরিণের’ মতোই দুর্লভ। আইনজীবীদের ভাষায় তারা ‘হারিয়ে যায়।’ ফলে সাক্ষীর গড়হাজিরায় বিচারে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। সাক্ষীর স্মৃতিভ্রষ্টতাও তৈরি হয়। তাতে মামলার পরিণতি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয় বিচারপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
২০০০ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন পূর্ব উলন রোডে হায়দার আলী নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ অক্টোবর তিনজনকে অভিযুক্ত এবং ১৩ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ হয়। এ হত্যা মামলাটির বিচার চলছে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ঘটনার প্রায় ২৬ বছর এবং বিচার শুরুর আদেশের ২৪ বছর পর ১৩ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য হয়েছে। সবশেষ সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে আট বছরের বেশি সময় আগে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট তারিখে। আসামিদের একজন মাসুদ পলাতক। ইয়াসিন খান ওরফে কালা পলাশ ও আহসান হাবিব ওরফে রিপন এখনো হাজিরা দিচ্ছেন। মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মামা নুরে আলম সিদ্দিকী এখন আর আদালতে আসেন না।
২০০৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজধানী তেজগাঁওয়ের রেলক্রসিং এলাকায় ১৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হন দুই নারী। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০০৫ সালের ৩ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ হয়। মামলাটি বদলিমূলে এখন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে বিচারাধীন। মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২১ বছর আগের পুরনো এ মামলায় ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে কেবল দুজন (তদন্ত কর্মকর্তাসহ) সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবশেষ সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে ২০০৯ সালের ১৮ অক্টোবর। অর্থাৎ ১৬ বছর ধরেই সাক্ষ্যবিহীন চলছে মামলাটি। জামিনে থাকা দুই আসামি বড় নাসিমা ও ছোট নাসিমা বছরের পর বছর হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী (গত ডিসেম্বর পর্যন্ত) দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৩১টি। এর মধ্যে অধস্তন আদালতে অনিষ্পন্ন ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ মামলার মধ্যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ২৩ লাখ ৭২ হাজার। সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন ১১টি গুরুতর ফৌজদারি মামলার নথি পর্যালোচনা এবং মামলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে দেশ রূপান্তর। নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সাক্ষীর গড়হাজিরা কিংবা অনিয়মিত সাক্ষ্যের কারণে কমপক্ষে ১৪ বছর থেকে ২৮ বছর পর্যন্ত মামলাগুলোর বিচার অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।
এর মধ্যে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে বিচারাধীন ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালের দুটি হত্যা মামলা, ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারাধীন ১৯৯৭ সালের ১টি হত্যা মামলা, প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে বিচারাধীন ২০০০ সালের একটি হত্যা মামলা, নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে বিচারাধীন ২০১৩ সালের ১টি হত্যা মামলা, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ বিচারাধীন ২০১৩ সালের ১টি হত্যা মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ বিচারাধীন ছিল (এখন শিশু ধর্ষণ ট্রাইব্যুনালে বদলি) ১টি ধর্ষণের মামলা, প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে বিচারাধীন ২০০৯ সালের বিস্ফোরক আইনের ১টি মামলা, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ বিচারাধীন ২০০৩ ও ২০০৯ সালে মাদক আইনে দুটি মামলা এবং ঢাকার শিশু আদালত-২ এ বিচারাধীন ২০১২ সালে হওয়া একটি হত্যা মামলা রয়েছে। সারা দেশের আদালতগুলোতে এমন অসংখ্য অনিষ্পন্ন মামলা পড়ে আছে বছরের পর বছর।
সহযোগীদের খবর
পিবিআইয়ের তদন্ত: আদালতে করা মামলার ৬৩% আসামিই নির্দোষ
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
২৯ মার্চ (রবিবার), ২০২৬, ৯ঃ২৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
