মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান ক্রমবর্ধমান যুদ্ধাবস্থা ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধের কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) আমদানিতে চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খোঁজার জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রে এমন আগাম প্রস্তুতি দেখালেও কৃষি খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, বিশেষ করে কৃষি রাসায়নিক পণ্য তথা বালাইনাশকের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এখনো কোনো বিশেষ ছাড় বা বিকল্প পরিকল্পনা করা তো দূরের কথা বরং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রাপ্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ খাত সংশ্লিষ্টদের। অথচ কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন পূর্ণতা পাবে না, এই দর্শন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বলেছেন, কৃষিই হবে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ২৪শে মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, ওষুধের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে একক কোনো উৎস বা অঞ্চলের ওপর (চীন ও ভারত) নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প দেশ বা উৎস অনুসন্ধানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আমদানিনীতি শিথিল করে বিকল্প দেশ থেকে দ্রুত কাঁচামাল আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই আগাম প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির এক নেতা বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। বিকল্প উৎস না খুঁজলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি কৃষি খাত নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই নেই। চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। কৃষি রাসায়নিক পণ্য ও বিশেষ করে বালাইনাশকের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যবসায়ীরা এখনো নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও উচ্চ শুল্ক হারে আটকে আছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে যদি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তবে কৃষি উপকরণের দাম আরও বেড়ে যাবে। অথচ এই খাতে কাঁচামাল আমদানিতে কোনো বিশেষ সরকারি সুবিধা বা ছাড়ের ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। বরং এর সম্প্রসারণে শুল্ক বা অশুল্ক বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব বাধা কাটাতে গত ২১শে অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ ১১টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। পরে এক প্রজ্ঞাপনে কৃষি রাসায়নিকের কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ করে দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করতে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
সম্প্রতি ঈদ-পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি খাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা আগামীর দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাই কৃষি ও খাদ্য বিভাগের সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি ও ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুদ্ধাবস্থায় কৃষির রাসায়নিক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে ওষুধের মতো সরকারের নির্দেশনা দেয়া দরকার। পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে কাঁচামাল ক্রয়ে যাতে কোনো বাধা না হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন