সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। জ্বালানি তেল নিয়ে ঈদের আগে দু’দিন কিছুটা শঙ্কা ছিল। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এরপর থেকে কোনো সমস্যা নেই। ডিপো থেকে তেল কম পেলেও নিজেরাই রেশনিং করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ব্যবসা করছেন পাম্প মালিকরা। কিন্তু হঠাৎ করেই বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে ডিপো এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করায় উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আর এই উৎকণ্ঠায় পাম্পে পাম্পে বাড়তি চাপের আশঙ্কা করছেন পাম্প মালিকরা। তারা জানিয়েছেন- একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক পাম্পে চলে এলে সমস্যা হতে পারে। নতুবা ঈদ পরবর্তী সময়ে তারা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ব্যবসা করতে পারছেন।
সরকারের নানা বাধ্য বাধ্যকতায় চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে পাম্প মালিকদের। সিলেটে জ্বালানি তেলের চাহিদা সাড়ে ১০ লাখ লিটার। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা হচ্ছে ৮ লাখ, পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা আড়াই লাখ। চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে কম জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। ডিপো কর্মকর্তারা বলছেন- চাহিদার বিপরীতে সাড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল ও দুই লাখ লিটার পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পুরো বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সামাল দিচ্ছেন পাম্প মালিকরা। তারা জানিয়েছেন- সিলেটে অকটেন ও ডিজেলের প্রাপ্তি কিছুটা সংশোধিত হলেও সামাল দেয়া যাচ্ছে। এতে কোনো অঘটন ঘটছে না।
চাহিদামতো না দিতে পারলেও যেটুকু দেয়া হচ্ছে এতে গাড়ির মালিকরা সন্তুষ্ট হচ্ছেন। ডিজেলের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। নির্দেশ রয়েছে রেশনিং করা যাবে না। কিন্তু সেটি মানা হচ্ছে কৌশলে। চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি কম থাকায় পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে কম তেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। এতে করে পাম্প মালিকরা বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল নিয়ে হুলুস্থুল বাধলেও সিলেটের পরিস্থিতি ভিন্ন রয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে সরকার জ্বালানি তেল ডিপোর বাড়তি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আর এই নিরাপত্তা বাড়ানোর কারণে উৎকণ্ঠা শুরু হচ্ছে। তেল সংকটে পড়তে পারে সিলেট- এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই গতকাল বিকালে পাম্পে পাম্পে ভিড় জমান। তবে মালিকরা বিষয়টিকে কৌশলে সামাল দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বলে একাধিক পাম্প মালিক।
তারা জানিয়েছেন- দুপুরের পর থেকে সিলেট নগরের খোজারখলায় থাকা পদ্মা ও যমুনা ডিপোতে দুই প্লাটুন করে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পরও বাড়তি নিরাপত্তার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেটের প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন সিএনজি ও পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও নগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদনান। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আমরা মনে করছি সিলেটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক তৎপরতা। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আর এই আতঙ্কের কারণে পাম্প মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ বাড়তে পারে।
তিনি মনে করেন- বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সমন্বয়হীনতায় এটি হতে পারে। পেট্রোলপাম্প মালিকদের জ্বালানি মজুতের কোনো সুযোগ নেই। যদি পাম্প মালিকরা জ্বালানি মজুতের পরিমাণ প্রকাশ করেন এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে। সিলেটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ব্যারিস্টার আদনান দাবি করেন- যে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে সেখান থেকে সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, নির্মাণকাজের ঠিকাদারসহ কয়েকটি প্রকল্পে বেশির ভাগ তেল চলে যায়। এরপরও পাম্প মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে স্বাভাবিক রাখছেন পরিবেশ। এদিকে- সিলেটের মোটরসাইকেলে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে পাম্প মালিক ও গ্রাহকদের তিনটি শর্ত দিয়েছে মেট্রোপলিশ।
এতে বলা হয়েছে- তেল সংগ্রহের সময় চালককে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে হবে, শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেলে তেল দেয়া যাবে। চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য স্বচ্ছ ভাইজারযুক্ত হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। পুলিশ জানায়- এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো- সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ বা অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ব্যবহার কমানো। এই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ।
