হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বললেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জোর দিয়ে বলেন, শান্তিচুক্তি করতে হলে ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন চালু করতে হবে। তিনি মজা করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ট্রাম্প প্রণালি বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প তার ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনার নাম নিজের নামে পরিবর্তন করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তিনি প্রথমে বলেন, এটি একটি ভুল মন্তব্য ছিল। কিন্তু পরে আবার বলেন, আমার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই দুর্ঘটনা নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ইরান বারবার অস্বীকার করলেও ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান শান্তিচুক্তির জন্য প্রস্তুত এবং এক মাস ধরে চলা সংঘাত শেষ করতে আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ইরান এখন ‘পিছু হটছে’। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে তেহরানের নেতৃত্ব, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পারমাণবিক কর্মসূচি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। মিয়ামিতে সৌদি সমর্থিত এফআইআই প্রায়োরিটি বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা এখন আলোচনা করছি। যদি আমরা কিছু করতে পারি, সেটা দারুণ হবে। কিন্তু তাদের এটা (হরমুজ প্রণালি) খুলতে হবে। ‘তাদেরকে স্ট্রেইট অব ট্রাম্প খুলতে হবে- মানে হরমুজ। দুঃখিত, আমি খুবই দুঃখিত। এটা ভীষণ খারাপ ভুল।’ ট্রাম্প বলেন, গণমাধ্যম এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করবে।

তবে তিনি আবারও বলেন, আমার ক্ষেত্রে এমন ভুল খুব বেশি হয় না। এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রেখেছেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভেনেজুয়েলার তেলের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, তেমনিভাবে ইরানের তেলের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়াও ‘একটি বিকল্প’ হতে পারে- যদিও যুদ্ধ তখনও চলছিল। রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প নিজের নাম বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহার করার জন্য পরিচিত। এর আগেও ওয়াশিংটনের কেনেডি আর্টস সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ নাম রাখার আগে এমন মন্তব্য করেন।

গত বছর ওয়াশিংটনের একটি শান্তি ইনস্টিটিউটও তার নামে পুনঃনামকরণ করা হয়। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি আগে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর থেকে এই সরু জলপথ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। শুক্রবার এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ইরান এই প্রণালিতে স্থায়ী ‘টোল ব্যবস্থা’ চালু করতে পারে। এই পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন