প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে এখন গ্রাহকদের অন্তহীন দুর্ভোগ। গেল ক’দিন থেকে জেলা জুড়ে তেলের এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর তেলেসমাতি, নাকি সংকট এমন প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট দুর্ভোগগ্রস্তদের। তেল নিয়ে এখন চরম হট্টগোল আর ঝগড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে। তেল নেই এমন সাইনবোর্ড ঝুলিয়েও গ্রাহকদের নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। গ্রাহকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছেন না চাহিদা অনুযায়ী তেল। যা জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ। জানা যায়, গত দুইদিন জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ থাকার পর শনিবার শহর ও আশপাশের ৪টি পাম্পের মধ্যে শহরের কুসুমবাগ এলাকায় একটি পাম্পে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ শুরু করে। তেল সরবরাহের খবর পেয়ে শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ফিলিং স্টেশনগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে তেলের জন্য ছুটছেন। মোটরসাইকেলে দেয়া হচ্ছে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকার তেল। জেলার বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের আড়তদাররা বলছেন এভাবে জ্বালানি তেলের সংকট চলমান থাকলে সবকিছুরই দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। কারণ এখনই তেল নেই এমন অজুহাতে পণ্যবাহী অনেক পরিবহনই বাড়তি ভাড়া চাইতে শুরু করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তেল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকরা অভিযোগ করে জানান তারা প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তেল মজুতের বিরুদ্ধে মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।
মৌলভীবাজারে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট, দুর্ভোগ
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে
২৯ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
