সাভারে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই লাশ নিয়ে দিনাজপুরে স্বামী, তদন্তে পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

সাভারের হেমায়েতপুর তেঁতুলতলা (মৌকপাড়া) এলাকায় আতিরাণী (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মরদেহ দিনাজপুরে নিয়ে আসার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। আইনবিদদের মতে, ময়নাতদন্ত ছাড়া এভাবে মরদেহ স্থানান্তর সরাসরি দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ।
নিহতের মা জানান, এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর আতিরাণী ও চানবাবুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আতিরাণীর ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের ছুটিতে তারা সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে শুক্রবার আতিরাণীর মা ঢাকা ফিরছিলেন। যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় চানবাবু ফোনে জানায়, আতিরাণী আত্মহত্যা করেছে। তার অভিযোগ, আমার মেয়ে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। যৌতুকের দাবিতে তাকে মেরে ফেলে এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে। কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই তারা তড়িঘড়ি করে লাশ নিয়ে গ্রামে পালিয়ে এসেছে।
স্বামী চানবাবু দাবি করেন, আতিরাণী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফিরে এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, আতিরাণী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না। তবে এমন ঘটনার পর কেন স্থানীয় পুলিশকে না জানিয়ে সরাসরি নিজ গ্রামে মরদেহ নিয়ে আসা হলো সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া মরদেহ স্থানান্তর করার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় থানা পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার এসআই মাহবুবুর রহমান জানান, একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) মূলে মরদেহ বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে এই মৃত্যুর সুরতহাল প্রতিবেদন সাভার থানায় পাঠানো হবে, যেহেতু ঘটনাস্থল সাভার এলাকা।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জজ কোর্টের এডভোকেট রুহুল আমিন জানান, যেহেতু নিহতের পরিবার সন্দেহ পোষণ করছে এবং তাদের অগোচরে মরদেহ স্থানান্তর করা হয়েছে, তাই এটি নিঃসন্দেহে একটি অপরাধ। পুলিশি ময়নাতদন্ত ছাড়া এক জেলা থেকে অন্য জেলায় লাশ স্থানান্তর করা সরাসরি দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ। এটি আলামত নষ্ট করার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। মরদেহ বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা- তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে, নিহতের পরিবার এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন