সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঢিলেঢালা উৎকণ্ঠায় কৃষকরা

চারদিনের আল্টিমেটাম

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঢিলেঢালা উৎকণ্ঠায় কৃষকরা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঢিলেঢালা ও নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃষ্টি হলেই হাওর এলাকার প্রায় চার লাখ কৃষক উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা আর বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময় গিয়ে অতিরিক্ত সময়েও শেষ না হওয়ায় উজানের ঢলের পানিতে ফসল ডুবির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কয়েকটি মূল বাঁধের কাজ অনিয়মের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। মানববন্ধনে কৃষকরা দাবি করেছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও হাওরের দরুন গ্রামের পাশের ৮৮নং প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেখানে বাঁধের পুরনো মাটি কেটে স্লোপ করা হয়েছে। মাটিয়ান হাওরের অন্যতম আলমখালী বাঁধের কাজও নড়বড়ে। মেশিন বাড়ির ৮১নং প্রকল্পের কাজও এখনো শেষ হয়নি। এদিকে বৃহৎ শনি হাওরের বাঁধের অবস্থাও একই রকম। এটি রক্ষায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এ হাওরের কৃষকরা। এই হাওরের আহম্মকখালী এলাকায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ অসময়ে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, অসময়ে ব্লক বিছানোর কাজ করায় দুর্বল বাঁধ পানির ধাক্কায় যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। গত শুক্রবারে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল হাওরের বাঁধের কাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে বাঁধের কাজ ঢিলেঢালা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং চারদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। শনির হাওরপাড়ের সংবাদকর্মী মনি রাজ শাহ বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যে কাজ করার কথা, সেটি হচ্ছে মার্চের শেষ সপ্তাহে। হাওরের হাজার হাজার হেক্টর ফসল নিয়ে রীতিমতো খামখেয়ালি করা হচ্ছে। নদীর পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙে লাখো কৃষকের স্বপ্ন ডুবতে পারে। মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাওরের বাঁধের কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়নি। তিনি পিআইসি গঠনে অনিয়ম, প্রকল্পে সাইনবোর্ড না থাকা এবং নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ তুলে বলেন, এবার বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী বলেন, শনির হাওরের বোরো ধানের দিকে শুধু ভাটি অঞ্চল নয়, পুরো সিলেট ও দেশবাসী তাকিয়ে থাকে। অথচ ব্লকের কাজ নিয়ে অবহেলা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষক পরিমল বলেন, জামখোলা হাওরে দীর্ঘদিন ধরে দুটি স্লুইসগেটের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে এবার বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, কয়েকদিন আগে হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেছি অনেক জায়গায় এখন পর্যন্ত মূল বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। যা দুঃখজনক। সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, তবে পানি কমায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। শনির হাওরের আহম্মকখালী বাঁধে যে কাজ বাকি আছে, তাতে ফসল ডুবির শঙ্কা নেই। মাটিয়ান হাওরের মূল বাঁধগুলোতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে মাটি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বোরো ধান রক্ষায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৭১৮টি পিআইসি’র মাধ্যমে কাজের ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুক্রবারে হাওরের বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঢিলেঢালা দেখতে পেয়েছি। উজানের ঢলের পানি এখন এলে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, বাঁধের কাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যেসব বাঁধ দুর্বল রয়েছে সেগুলো দ্রুত সবল করতে চারদিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন