প্রথম আলো
‘আট হাজার সরকারি চাকুরের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সন্দেহজনক’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের জমা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্য যাচাই–বাছাই করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যাচাইয়ে অন্তত আট হাজার জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্য সন্দেহজনক পাওয়া গেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি ১০০ জনের নাম যাচাই করতে গিয়ে ৭ থেকে ৮ জনের দেওয়া তথ্য সঠিক নয় বা তথ্যে গরমিল রয়েছে বলে উঠে আসছে।
মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে যাঁরা সরকারি চাকরি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। ১৪ আগস্ট সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক–ই–আজম। পরদিনই তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও যাচাই–বাছাই শেষ করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী ১৪ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের পাঠানো তথ্যে গরমিল ও ভুলভ্রান্তি ছিল। তাঁদের কাছ থেকে আবারও তথ্য চাওয়া হয়েছে। সে কারণে সময় বেশি লাগছে। তিনি বলেন, তালিকা যাচাই–বাছাই শেষ। এখন পরিবীক্ষণের কাজ চলছে। তবে এ মন্ত্রণালয়ে জনবল কম। এ জন্য তালিকা চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে।
নিজেদের সহকর্মীদের বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘এটা একেবারে ভুল। কাজের চাপ থাকায় তালিকা করতে সময় লাগছে।’
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে ১৯৭২ সাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের নির্ধারিত কোটার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদেরও ওই কোটাসুবিধার আওতায় আনা হয়। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা কোটার পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ। মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন কোটা বাতিল হয় জুলাই আন্দোলনের ফলে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি কতজনের
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৫৭টি মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির সঙ্গে একটি ছক উল্লেখ করা হয়। ছকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নাম ও পদবি, মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির সম্পর্ক, এমআইএস (মুক্তিযোদ্ধার তালিকার তথ্যভান্ডার) নম্বর, ভারতীয় তালিকা ও লাল মুক্তিবার্তায় নাম এবং গেজেটের তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে তথ্য আসতে থাকে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলে চাকরি করছেন ৯০ হাজার ৫২৭ জন। উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, অনেকে সঠিক তথ্য দেননি। আবার অনেকের তথ্যে গরমিল ছিল। ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে আসা তথ্য অসম্পূর্ণ পাওয়া যায়। এরপর ৭৬৯ জনের কাছ থেকে আবারও তথ্য চাওয়া হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৯০ হাজার ৫২৭ জনের তথ্য প্রাথমিক যাচাই–বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে। এখন আবার পরিবীক্ষণ চলছে। ৬৭ হাজার চাকরিজীবীর তথ্য পরিবীক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিদের পরিবীক্ষণের কাজ শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
পরিবীক্ষণ শেষ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনের জমা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ অথবা তথ্য সঠিক নয়, তা আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বলতে রাজি হননি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদে যাঁরা চাকরি নিয়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এঁদের চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ জমা দিয়ে সরকারি চাকরি করার খবর বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ভুয়া সনদ ব্যবহার করে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নিয়েছিলেন কামাল হোসেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কামাল হোসেন এখন কারাগারে।
কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং চাকরি লাভসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবিব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান।
২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রথম আলো তৎকালীন পাঁচজন সচিব মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যে সনদ নিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাঁরা হলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজ উদ্দিন মিঞা, তখন ওএসডি হওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান (তখন প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার। পরে তদন্ত শেষে তাঁদের সনদ বাতিল করা হয়।
‘হয়তো কখনো আলোর মুখ দেখবে না’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মোট ১২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় মোট ৩৯৬ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ৩৯৬ জনের সনদ ব্যবহার করে তাঁদের পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন কি না, তা যাচাই জরুরি। সরকার চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত। তবে নেওয়া হয়নি। অবশ্য কারও কারও মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হলেও আদালতের আদেশে তা তাঁরা ফিরে পান।
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যাঁরা চাকরি করছেন, কোনো রাজনৈতিক সরকারই তাঁদের নাম প্রকাশের ব্যাপারে স্বচ্ছ ছিল না। তিনি বলেন, যখনই সরকার ভুয়া সনদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিজীবীদের নাম প্রকাশ করতে যাবে, তখনই তদবির শুরু হবে। ফলে এ তালিকা হয়তো কখনো আলোর মুখ দেখবে না।
আবদুল আউয়াল মজুমদার আরও বলেন, গোঁজামিল দিয়ে আর কত দিন রাষ্ট্র চলবে? স্বচ্ছতার জন্য এ তালিকা প্রকাশ করা উচিত।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এক-এগারোর বিতর্কিত কুশীলবরা আতঙ্কে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতারের পর ওয়ান-ইলেভেনের অন্য কুশীলবদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুশীলবদের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকারীরা যেমন সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন, পাশাপাশি দেশে অবস্থানকারীরা চলে গেছেন আত্মগোপনে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক ওই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেফতারের পর কেউ কেউ দেশ ছাড়ারও চেষ্টা করছেন। তবে তাদের বিদেশ যাত্রার ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ওই কুশীলবরা কেউ বিমানবন্দর অতিক্রম করতে গেলে বাধার মুখে পড়বেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য মিলছে।
সূত্র বলছে, দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও এক-এগারোর সময় প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় কেউ কেউ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত অনেকেই রয়েছেন পর্দার আড়ালে। তবে বিতর্কিত ওই কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের তালিকা তৈরি করছে। বিশেষ করে বিতর্কিতদের মধ্যে এখনো যারা দেশে আছেন তারা যাতে দেশ ত্যাগ না করতে পারেন সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুগান্তরের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট একজন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, আদালতের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্দেশ এলে কারও বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়া হয়। তবে এর বাইরেও বিশেষ ব্যবস্থায় বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে প্রায় ১৯ বছর আগে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে সেনাবাহিনীর একটি অংশের সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল।। বিতর্কিত ওই সরকার ‘এক-এগারোর’ সরকার নামে বহুল পরিচিত। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মধ্যে হঠাৎ ক্ষমতাধর হয়ে উঠা কয়েকজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের বেসামরিক সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে ওই সময় দেশ পরিচালিত হয়েছে। দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা ওয়ান-ইলেভেনের সরকার শুরু থেকেই রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননের মিশনে নেমেছিল। শুদ্ধি অভিযানের নামে দেশজুড়ে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়। সে সময় একদল সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ও পর্দার আড়ালে থেকে সব কলকাঠি নেড়েছিলেন। কথিত দুর্নীতি প্রতিরোধের নামে তখন অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাইনাস করে নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করেছিল এক-এগারোর সরকার। ওই সরকারের নেপথ্যে ভূমিকা পালনকারী কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনীতিবিদদের অপদস্ত করে তাদের সম্পর্কে দেশবাসীর কাছে ‘নেগেটিভ পারসেপশন’ তৈরি করা। আর এর মধ্য দিয়ে এক-এগারোর সরকারকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখার অপচেষ্টা ছিল তাদের। কিন্তু দেশের জনগণ অগণতান্ত্রিক ওই সরকারকে বেশি দিন মেনে নেয়নি। ফলে তাদের সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। এক-এগারোর ওই সরকার শেষ মুহূর্তে এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তি করে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে ‘সেফ এক্সিট’ নেয়। ফলে পরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বিতর্কিত ওই সরকারের কুশীলবদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। বিতর্কিত ওইসব সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের কেউ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন, আবার কেউ দেশ ছেড়ে প্রবাসে আয়েশি জীবনযাপন করছেন। আওয়ামী লীগ প্রায় ১৬ বছর টানা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেও ওইসব বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং সব অপকর্মের দায়মুক্তি দিয়ে গেছে শেখ হাসিনার সরকার।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও এক-এগারোর কুশীলবদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মাথায় এক-এগারোর কুশীলব হিসাবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মানব পাচার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যার পৃথক দুটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করে। সাবেক প্রভাবশালী এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। এরপর থেকেই আতঙ্কে আছেন এক-এগারোর কুশীলবরা।
কালের কণ্ঠ
‘কঠোর হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগের চেয়ে কঠোর হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষা। নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে থাকবে বিশেষ অভিযান। নজরদারির জন্য পর্যায়ক্রমে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে বসবে সিসি ক্যামেরা। তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন করা হবে দেশের যেকোনো কেন্দ্র।
পাবলিক পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বসানো হবে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এই কেন্দ্রগুলো বিশেষভাবে তদারক করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রয়োজনে এবারও আগের মতো ‘হেলিকপ্টার মিশন’ থাকবে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন করা হবে দেশের যেকোনো কেন্দ্র। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তখন পাবলিক পরীক্ষায় ব্যাপক নকল হচ্ছিল। এহছানুল হক মিলন সেই নকল রোধে ‘হেলিকপ্টার মিশনে’ নামেন। পরীক্ষার সময় তিনি হুট করে হাজির হতেন যেকোনো কেন্দ্রে। এতে নকল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এর পুরো কৃতিত্ব পান এহছানুল হক মিলন।
বিগত বছরগুলোতে বেড়ে গেছে পাসের হার ও জিপিএ ৫। প্রায় ১৯ বছর পর সেই মিলনই পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবারও পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিতে এসএসসি শুরু হওয়ার আগে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে নিজে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যান বা তাঁর প্রতিনিধিদের পরীক্ষার আগে প্রতিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা থেকেই অতি প্রয়োজনীয় ছাড়া থাকছে না ‘ভেন্যু কেন্দ্র (পরীক্ষা কেন্দ্রের সহযোগী কেন্দ্র)’। পরীক্ষার্থীরা যা লিখবে, এর ভিত্তিতেই নম্বর পাবে। কোনো ধরনের অতিরঞ্জিত নম্বর দেওয়া হবে না। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা থেকে দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে সব মিলিয়ে আগের চেয়ে কঠোর হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা।
সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভবিষ্যতে বিষয় সংখ্যা কমানোর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি তেল সংকটের পেছনে অবৈধ মজুত, কালোবাজারি’। খবরে বলা হয়, দেশে প্রায় এক মাস ধরে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির সারি এখনও লম্বা। দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোথাও ঝুলছে 'তেল নেই' সাইনবোর্ড। সরবরাহ অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে সংকট আর বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
তাদের শঙ্কার সতত্যা মিলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন অবৈধ তেল মজুত জব্দ হচ্ছে। কালোবাজারে বিক্রির জন্য জরিমানাও করা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্বাভাবিক দর বেড়েছে। চলতি মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। আমদানির পেছনে সরকার প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দেশে তেলের সংকট নেই। বরং গত বছরের চেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনের বেশি তেল কিনছে। সেই সঙ্গে কালোবাজারিও হচ্ছে। অনেকেই তেলের অবৈধ মজুত করছে। কালোবাজারিরা মজুত করে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তেল নিয়ে যারা কারসাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সরকার বলছে সংকট নেই, তবে বাস্তবে জ্বালানি তেল নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তার মানে, কোথাও ঘাপলা আছে। সে বিষয়টা সরকারকে দ্রুত খুঁজে বের করে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাছাড়া বর্তমান যে সংকট, সে জন্য তো সরকার দায়ী নয়। ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ জ্বালানি নিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তাহলে আমাদের সেটা করতে সমস্যা কোথায়? প্রকৃত বাস্তবতা জনগণকে সরকারের জানানো দরকার। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সাশ্রয়ী এবং সচেতন হওয়া উচিত।
অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি
দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় পরিবহনকারী লরি থেকে তেল বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অবৈধ মজুতেরও প্রমাণ মিলেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রামে মজুত করা আনুমানিক ছয় হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন।
ইত্তেফাক
‘ঝরে পড়ছে অর্ধেক শিক্ষার্থী শিক্ষকের ঘাটতি ৭৩%’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শিক্ষক সংকট, উপকরণের অভাব, পুরোনো-অনুন্নত কারিকুলাম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কারিগরি শিক্ষায় বেহাল দশা বিরাজ করছে। দেশে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৪৪ শতাংশ। বিভিন্ন পলিটেকনিক, মনোটেকনিক এবং কারিগরি স্কুল ও কলেজে শিক্ষক পদের ৭৩ শতাংশই শূন্য আছে। এছাড়া জনশক্তি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যুরোর অধীন কারিগরি প্রতিষ্ঠানেও প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক পদ শূন্য।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এক শিফটের শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে দুই শিফট। অনেক প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরি সংকট। আবার ল্যাব থাকলেও নেই যন্ত্রপাতি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। ৩৮৭ বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি ছাড়া অন্যগুলো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মালিকরা সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান খুলে বসেছেন। এদিকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত ও বেতন কমের কারণে কারিগরিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যাবরেটরি ও শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী নয়: শিক্ষাবিদরা বলেন, কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যেভাবে কথা হয়, সেভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ব্যাবহারিক শিক্ষা পান না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যাবরেটরি ও শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী নয়। দক্ষ শিক্ষকেরও অভাব আছে। এতে কারিগরি শিক্ষার মানে ঘাটতি থাকছে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগও কম। আবার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারছে না দেশের কারিগরি শিক্ষা। নেই হাতেকলমে শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ। সনাতন শিক্ষার কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে সমমর্যদা পাচ্ছে না বাংলাদেশের ডিপ্লোমা।
এ কারণে পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক সহজে চাকরি পেলেও বেতন-ভাতা খুবই কম পান। ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রোবটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন টেকনোলজিসহ আধুনিক বিষয়গুলো কারিগরি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ দেন শিক্ষাবিদরা।
কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি দক্ষ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রকৃত মানবসম্পদে রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত ৪ মার্চ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশ দিয়ে বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলাতে কারিগরি শিক্ষাই হবে প্রধান চাবিকাঠি।
চাকরি না পেয়ে কারিগরি শিক্ষাগ্রহণে অনাগ্রহ: এক গবেষণায় দেখা গেছে, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছেন, যাদের মধ্যে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন শতকরা ৭২ শতাংশ। বাকি প্রায় ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগে ঝরে পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারিগরি শিক্ষাকে। উন্নত অনেক দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হারও বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে চাকরি না পেয়ে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ দিনদিন হারিয়ে ফেলছেন শিক্ষার্থীরা। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও ধারাবাহিকভাবে কমছে শিক্ষার্থী।
একই সঙ্গে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার গত ১৩ বছরে আট গুণ বেড়েছে। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২০২১ সালে জমা দেওয়া এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ কর্মজীবী, ৪ শতাংশ উদ্যোক্তা, ৩৮ শতাংশ বেকার ও ৪ শতাংশ কাজে আগ্রহী নন। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেকারত্বের হার বেশি। গ্রামাঞ্চলের মাত্র ৪৮ শতাংশ ডিপ্লোমাধারী কর্মক্ষেত্রে রয়েছেন।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘দীর্ঘস্থায়ী মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী, আর পারস্য উপসাগর হয়ে উঠেছে যেন এক বিশাল অগ্নিকুণ্ড। গত এক দিনে ইরান তার সামরিক শক্তির পূর্ণ মহড়া দিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ গালফ রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একইসাথে ইসরাইলের সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোতেও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেবল সামরিক সংঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থের বিরুদ্ধে ইরানের ‘অল-আউট’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধক্ষেত্র নয়; বরং মার্কিন সেনাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত প্রতিটি হোটেল, অফিস ও বাণিজ্যিক স্থাপনাও এখন তাদের নিখুঁত নিশানায়। রিয়াদের প্রাণকেন্দ্র লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক মিসাইল থেকে শুরু করে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ মুবারক আল-কবীর বন্দরে ক্রুজ মিসাইলের বিধ্বংসী আঘাত- ইরানের এই রণকৌশল গালফ দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাতে ১১ জনের প্রাণহানি এবং ১৭১ জন আহতের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান এখন আর কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করছে।
আলজাজিরা ও তাসনিম নিউজের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের রেভেল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মার্কিন সেনাদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারকারী যেকোনো স্থাপনা ধূলিসাৎ করে দেয়া হবে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়ে এবং কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল পর্যন্ত যুদ্ধের বিস্তার ঘটিয়ে ইরান বিশ্বনেতাদের এই বার্তাই দিচ্ছে যে- হয় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন থামবে, নয়তো পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। এই মরণপণ লড়াই এখন আর কেবল সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিটি উপসাগরীয় দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদিতে ৬ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা : সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদের কিছু এলাকা লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করলেও বাকি চারটি জনহীন এলাকা ও পারস্য উপসাগরের পানিতে পড়েছে। এর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদ অভিমুখে আসা আরো দু’টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি বাহিনী।
কুয়েতের বন্দরে আঘাত : কুয়েতের অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত ‘মুবারক আল-কবীর’ বন্দরে প্রতিকূল ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল আঘাত হেনেছে। এতে বন্দরের ব্যাপক যান্ত্রিক ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ভোরে কুয়েতের ‘শুয়াইখ বন্দরেও’ পৃথক একটি ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আরব আমিরাতে হতাহতের সংখ্যায় উদ্বেগ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছড়ে পড়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯টি ড্রোন সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করেছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গত এক মাসের যুদ্ধে ইরানি হামলায় আমিরাতে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আমিরাতি সশস্ত্র বাহিনীর দু’জন সদস্য এবং সামরিক বাহিনীর সাথে কর্মরত একজন বেসামরিক ঠিকাদার রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আরো আটজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় আমিরাতি এবং বিদেশী নাগরিকসহ মোট ১৭১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাত মোট ৩৭৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ মিসাইল এবং এক হাজার ৮৩৫টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
দেশ রূপান্তর
‘নেপথ্যে মজুদ-কালোবাজারি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত সরকারের এমন আশ্বাসের পরও প্রায় এক মাস ধরে দেশ জুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। কোথাও ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। চাহিদামতো মিলছে না জ্বালানি তেল। সংকটটা মূলত পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে। অথচ এ দুটি পণ্যের অর্ধেকের বেশি উৎপাদন হয় দেশে। তাহলে কেন এ সংকট? কেনইবা তেল নিতে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে?
খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, মূলত জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণেই এমন সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সেই সংকট আরও বেড়েছে আতঙ্কে চাহিদার অতিরিক্ত তেল কেনার ফলে। পাশাপাশি সরকার মুখে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের কথা বললেও, বাস্তবে কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরবরাহ করা হচ্ছে কিছুটা কম।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর বিপিসিকে অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে জ্বালানি তেল আমদানিতে। সরকার প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও বিদ্যুৎমন্ত্রী এর আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আপাতত দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। বরং গত বছরের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছে। সেই সঙ্গে কালোবাজারিও হচ্ছে। অনেকেই তেলের অবৈধ মজুদ করছে। কালোবাজারিরা মজুদ করে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিষয়গুলো নিয়ে সরকার যথেষ্ট কনসার্ন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম না বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তেল নিয়ে যারা কারসাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
যুদ্ধের জের ধরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকট চোখে পড়লেও সরকার বলছে, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে পারলে’ বাংলাদেশকে সংকট স্পর্শ করতে পারবে না। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা নেই।
সহযোগীদের খবর
আট হাজার সরকারি চাকুরের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সন্দেহজনক
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬, ৯ঃ০৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

MD.Altab Hossain
২ মাস আগেসহযোগি পত্রিকার সত্য প্রকাশের জন্য মানবজমিন সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাই।