সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন রোনান সুলিভান। জয়ের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে ভারতকে হারানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড। আজ মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে ভারতকে হারানোর সুযোগ সুলিভানদের সামনে। ম্যাচটি জিতলে ‘বি’ গ্রুপের সেরা হয়ে সেমিফাইনালে পা রাখবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু বিকাল পৌনে ৫টায়। দেখা যাবে স্পোর্টসওয়ার্কজ ইউটিউব চ্যানেলে। পাকিস্তানের বিদায়ের পর ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশ ও ভারতের। এ কারণে দু’দলই আজ নির্ভার থেকে মাঠে নামবে। শেষ চারে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিপক্ষ কারা হবে সেটি এ হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। সেই ম্যাচে স্পটলাইটে ছিলেন রোনান সুলিভান। লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেকেই জোড়া গোল করে সামর্থ্যের প্রমাণ দেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড। ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক আর ৬৭ মিনিটে নিখুঁত হেডে পাকিস্তানের জাল কাঁপিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। ডাগআউটে বসে ভাইয়ের খেলা দেখেন একাদশে সুযোগ না পাওয়া ডেকলান সুলিভান। আজ ভারতের শক্তিশালী রক্ষণের বিপক্ষেও রোনান সুলিভানই হবেন বাংলাদেশের প্রধান তুরুপের তাস। তবে কোচ আজ ডেকলানকেও খেলাতে পারেন। গতকাল অনুশীলনে এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের আইরিশ কোচ মার্ক কক্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা সমন্বয়হীনতা দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড লাইনে মানিক ও মোরশেদ আলীদের সঙ্গে মাঝমাঠের বোঝাপড়ার অভাব ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ মার্ক কক্সের কৌশলী পরিবর্তনে বদলে যায় দলের চেহারা। ভারতের বিপক্ষে শুরু থেকেই সেই ধার বজায় রাখা জরুরি। সেদিক লক্ষ্য রেখে ম্যাচের আগের দিন ফিটনেস ও টেকনিক্যাল বিষয়ের দিকে জোর দেন হেড কোচ কক্স। গতকাল অনুশীলনের পর দলের মিডফিল্ডার আশিকুর রহমান বলেন, ‘পাকিস্তান ম্যাচের পর চারদিন সময় পেয়েছি। এ সময় আমাদের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছেন কোচ। পাকিস্তান-ভারতের ম্যাচ দেখে শিক্ষা নিয়েছি। নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে কীভাবে ভারতের সঙ্গে ভালো খেলা যায় সেই চেষ্টা করবো।’ ভারত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ। এ জন্য মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতিও আর্জি জানান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের মিডফিল্ডার স্যামুয়েল রাকসাম বলেন, ‘ভারত কিভাবে খেলে সেদিক পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। আপনারা (সমর্থক) মাঠে আসবেন, আমাদের সাপোর্ট করবেন যেন আমরা ভারতকে হারাতে পারি।’ দলের ম্যানেজার সামিদ কাসিম বলেন, ‘আমরা ভারতকে হারানোর পরিকল্পনা করেছি। কীভাবে আক্রমণ করবো ও রক্ষণ সামলাবো সেই বিষয়ে কোচ ছেলেদের নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সবাই সুস্থ আছে। বোঝাপড়াও ভালো।’ বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত-দুই দলেরই সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে তালিকার শীর্ষে ভারত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। ম্যাচটি ড্র হলে রানার্সআপ হিসেবেই সেমিফাইনালে যেতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। অন্য গ্রুপ থেকে নেপাল ইতিমধ্যে শেষ চার নিশ্চিত করায়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বয়সভিত্তিক সাফে বাংলাদেশ বরাবরই শক্তিশালী দল। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের এই আসরের আগে সাতবার অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে প্রথমবার অংশ নিয়ে সেমিফাইনাল খেলার পর ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মুকুট ধরে রাখার মিশনে ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটি যুবাদের জন্য বড় পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১লা এপ্রিল টুর্নামেন্টের দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ৩রা এপ্রিল হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ
গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
স্পোর্টস রিপোর্টার
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
