ম্যাচ জুড়ে লড়াই হলো সেয়ানে-সেয়ানে। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শেষটা রাঙালো ফরাসিরা। প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারালো ফ্রান্স। ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে ফরাসিদের জয় ২-১ গোলে। অনেকটা সময় ১০ জনের দল নিয়েও দারুণ লড়াই করে জয় তুলে নিলো কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।
ম্যাচের পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি নিজেকে ‘অর্ধেক সন্তুষ্ট’ দাবি করেন। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ইতালিয়ান অভিজ্ঞ কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি, আজকের ম্যাচ পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দারুণ মানসম্পন্ন, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেছি এবং একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। সেখানে প্রতিপক্ষ জয় নিশ্চিত করতে সময় নষ্ট করছিল। আমি নিশ্চিত যে, আমরা বিশ্বকাপের জন্য আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবো।’
ব্রাজিলের ১৭টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে থাকে স্রেফ ৪টি। বিপরীতে ৭টির মধ্যে ৩টিই লক্ষ্যে রাখে ফ্রান্স। গ্যালারিতে উপচে পড়া ৬৬ হাজার দর্শকের সিংহভাগই আসেন হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়ে। তবে মাঠের লড়াই শেষে সেই উন্মাদনা থাকেনি। শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে থাকে ফ্রান্স। ৩২তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে। মাঝমাঠ থেকে অহেলিয়া চুয়ামেনির কেড়ে নেয়া বল খুঁজে পায় উসমান দেম্বেলেকে। তার নিখুঁত থ্রু পাস ধরে রক্ষণচেরা গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার এক চিপ শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার ৫৬তম গোল। ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুডের (৫৭ গোল) ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে।
বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে ব্রাজিল। ৫৫তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় সেলেসাওরা। বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডার উপামেকানো প্রতিপক্ষ একজনকে বাজেভাবে ফাউল করে বসেন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিতে (ভিএআর) যাচাই করে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। তবে ফ্রান্সের একজন কম থাকলেও সেই সুযোগ লুফতে পারেনি ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা। উল্টো ৬৫তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উগো একিতিকে।
৭৮তম মিনিটে একমাত্র গোলটি পায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর কাটব্যাক থেকে লুইস এনরিকের শট ব্রেহমের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। জাতীয় দলের হয়ে জুভেন্টাস ডিফেন্ডারের প্রথম গোল এটি। শেষ দিকে ভিনি ও থিয়াগো সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিকে মোটেই কেবল একটি প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখেননি এমবাপ্পে। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি কোনো প্রীতি ম্যাচ ছিলো না। টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিক্যালি আমরা কোথায় আছি, তা দেখার জন্য ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারা দারুণ একটি সুযোগ। এ ধরনের ম্যাচ খেলতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।’ রিয়াল ফরোয়ার্ড আরও বলেন, ‘ম্যাচের আগে বলেছিলাম যে, এ ম্যাচ থেকে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। তাই কপটতা করব না এবং ম্যাচটিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো করে দেখবো।’
ম্যাচটিকে নিয়ে ফক্সবরো শহর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজকদের নিরাপত্তা খরচ বাবদ দ্বন্দ্বের কারণে সংশয় ছিলো। পরে শেষ মুহূর্তে তা কাটানো হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আবহে প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে খেলা এই জয় ফ্রান্সকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। আগামী ১লা এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নামবে ব্রাজিল। এর আগে ২৯শে মার্চ রাতে ফ্রান্স খেলবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
১০ জনের ফ্রান্সের কাছে হেরে ‘অর্ধেক সন্তুষ্ট’ ব্রাজিল কোচ
স্পোর্টস ডেস্ক
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
