চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তার মেয়ে রুমানা ইসলাম জানান, তার মায়ের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও সঙ্গে নিউমোনিয়াও ছিল। ৭ই মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে তার জানাজা হয়। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। মাহবুবা রহমান পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকের রেডিও ও চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী। তিনি মূলত পল্লিগীতি ও আধুনিক গানের শিল্পী। ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথম তার গান প্রচারিত হয়। দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তিনি গেয়েছিলেন ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি। এরপর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের সুরে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ ছবির ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’ গানে কণ্ঠ দেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ ছবিতে সরোদবাদক তিমিরণের সুরে এবং কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লেখা ‘মোতি হো কে সিসা হো, জো টুট গ্যায়া’ গানটি করেন। মাহবুবা রহমান নিজের সংগীতগুরু মমতাজ আলী খানের সুরে অনেক গান করেন। দ্বৈত কণ্ঠের গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘বৈদেশি নাগর’, ‘যাইও না যাইও না বৈদেশে যাইও না’ এবং ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবির ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’। স্বামী খান আতাউর রহমানের সঙ্গে প্রথম রেডিওতে মাহবুবা রহমান গেয়েছেন ‘আমার থাকতো যদি পাখির মতো ডানা’ গানটি। ১৯৬১ সালে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে তিনি গেয়েছেন ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ ও ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে’। ১৯৬৮ সালে করাচির হিজ মাস্টার ভয়েস থেকে খান আতাউর রহমানের সুরে এই শিল্পীর বেশ কিছু গান রেকর্ড করা হয়। এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতেও গান করেন মাহবুবা রহমান। পাশাপাশি ‘সোনার কাজল’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ ছবিতেও
প্লে-ব্যাক করেন তিনি।
চিরনিদ্রায় মাহবুবা রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
