২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবলের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনছে ফিফা। শুধু ৪৮ দলের বড় টুর্নামেন্টই নয়, মাঠের লড়াইকে আরও গতিশীল এবং নিখুঁত করতে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সময়ক্ষেপণ রোধ এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) বিতর্কের অবসান ঘটাতে আনা এ পরিবর্তনগুলো প্রতিটি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে!
বদলি খেলোয়াড়ের সময়সীমা
বদলির সময় মাঠ ধীরে ধীরে হেঁটে গিয়ে সময় নষ্ট করার দিন শেষ। নতুন নিয়মে কোনো ফুটবলারকে তুলে নেয়া হলে তাকে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। এর চেয়ে বেশি সময় কেউ নিলে তার পরিবর্তে নামা খেলোয়াড়কে আরও ১ মিনিট ডাগআউটে অতিরিক্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, ১০ সেকেন্ডের ভুল দলকে ১ মিনিটের জন্য ১০ জনের দলে পরিণত করবে!
পাঁচ সেকেন্ডে থ্রো-ইন
এখন থেকে থ্রো-ইনের ক্ষেত্রেও স্টপওয়াচ চলবে। বল হাতে নেয়ার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে তা মাঠে পাঠাতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বল থ্রো করতে ব্যর্থ হলে রেফারি সেটি প্রতিপক্ষকে দিয়ে দেবেন!
অহেতুক চোটে কড়াকড়ি
খেলা চলাকালীন চোট পেয়ে মাঠেই চিকিৎসা নিলে অনেক সময় খেলার গতি নষ্ট হয়। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় মাঠের ভেতর চিকিৎসা গ্রহণ করলে তাকে সুস্থ হওয়ার পর অন্তত ১ মিনিট সাইডলাইনের বাইরে থাকতে হবে। মূলত, এটি অহেতুক চোটের ভান করে পড়ে থেকে সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমিয়ে আনবে।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ডেও ভিএআর
এতদিন ভিএআর শুধু সরাসরি লাল কার্ডের ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করতে পারতো। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ডের সমান) দেখানোর ক্ষেত্রে যদি রেফারির ‘স্পষ্ট ভুল’ থাকে, তবে তা ভিএআর খতিয়ে দেখতে পারবে। এমনকি কর্নার কিকের ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এখন থেকে প্রযুক্তির সাহায্য মিলবে।
শুধুমাত্র অধিনায়ক
রেফারির ওপর চড়াও হওয়া অথবা তাকে ঘিরে ধরার দিনও শেষ হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেফারির থেকে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে শুধু দলের অধিনায়কই কথা বলতে পারবেন। অন্য কোনো খেলোয়াড় তর্কে জড়ালে বা রেফারিকে ঘিরে ধরলে সরাসরি হলুদ কার্ড দেখানো হবে।
