আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘আ.লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তারা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।
বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজারজন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।
উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।
৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তারা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।
সমকাল
সমকালের শিরোনাম ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বেড়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। গত এক মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩১ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে।
জ্বালানি তেল এবং এলএনজি দুটোই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনে বাংলাদেশ। শুধু মার্চ ও এপ্রিলে ৭ কার্গো এলএনজি কিনতে সাধারণ সময়ের চেয়ে আড়াই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়েও এলএনজিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয় সরকার। এখন দাম বাড়ায় এই ভর্তুকি হবে কয়েক গুণ। লাভে থাকা জ্বালানি তেলও ভর্তুকি মূল্যে বেচতে হবে। খরচ সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার। গতকাল বৃহস্পতিবার এই দাম ছিল ১০৫.৯ ডলার। কিছুদিন আগেও আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজির দাম ছিল ৯ থেকে ১৪ ডলারের মধ্যে। স্পট মার্কেটেও ফেব্রুয়ারি নাগাদ দাম ছিল ১২ থেকে ১৫ ডলার। সাম্প্রতিক সংকটে সেই দাম বেড়ে কিছু কার্গোর এলএনজি ২৮ ডলার পর্যন্ত দরে কিনতে হয়েছে।
চলতি মাসে প্রথমে দুই কার্গো এলএনজি কেনা হয় ২৩ থেকে ২৮ ডলার দরে। ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এরপর তিন কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয় ২০-২১ ডলারে। মোট খরচ হয় ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ দুই কার্গোর অনুমতি দেওয়া হয় ১৯ দশমিক ৭৭ ডলারে। এতে খরচ প্রায় ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাস আগে এক কার্গো কিনতে ব্যয় হতো ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। এখন ব্যয় হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশ থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সম্ভাবনার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম ‘হরমুজে চলতে পারবে বাংলাদেশের জাহাজ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জাহাজ চলাচলে সম্মতি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই জলপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুতালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ সাগরপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনো কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।’
এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু দেশ রয়েছে যেমন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত এবং আরও কয়েকটি দেশ এমনকি বাংলাদেশও আমি মনে করি, এসব দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধের পরও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী বাংলাদেশগামী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ মাসের শুরুতে তেহরানকে অনুরোধ জানায় ঢাকা। বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ইরানকে অনুরোধ জানানো হয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেয় ইরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে কূটনৈতিক চিঠি দিতে হবে।
ঢাকা ও তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশে যে জাহাজগুলো আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে ২৫ মার্চ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশগামী কয়েকটি জাহাজে করে কয়েক লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অপরিশোধিত তেল আসার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একজন জে৵ষ্ঠ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জাহাজগুলোতে পণ্য হিসেবে জ্বালানি রাখার ধারণক্ষমতা, কবে ও কোন দেশের বন্দর থেকে জ্বালানি নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) নিবন্ধন অনুযায়ী জাহাজের শনাক্তকরণ নম্বর ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘আকাশপথেও জ্বালানির আগুন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দফায় দফায় জেট ফুয়েলের (উড়োজাহাজের জ্বালানি) দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথের ভাড়া এক লাফে আকাশ ছুঁয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটের প্রতিটি টিকিটে যাত্রীদের আগের তুলনায় গড়ে অন্তত দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক রুটেও টিকিটপ্রতি গড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আরেকদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে সম্ভাবনাময় অ্যাভিয়েশন খাত।
এদিকে বাংলাদেশে দাম বেড়ে গেলেও ভারত ও নেপাল এখনো জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে পাকিস্তানে সাড়ে ২৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।এদিকে বাংলাদেশে দাম বেড়ে গেলেও ভারত ও নেপাল এখনো জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে পাকিস্তানে সাড়ে ২৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘পাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বেশি। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে এবং প্রায় আগের দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
যুগান্তর
যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘আদালতে মামুন খালেদ/ ডিজিএফআই’র ক্লিয়ারেন্স ছাড়া আসামি ছাড়া হতো না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আসমিকে ছাড়া হতো না বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সংস্থাটির সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার রিমান্ড শুনানিতে তিনি এই সরল স্বীকারোক্তি দেন। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। শুধু তাই নয়, মামুন খালেদ ডিজিএফআইকে রাজনীতিকরণের অন্যতম কুশীলবও।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে মামুন খালেদ বলেন, ‘আমি ২০০৭ সালে ডিজিএফআই-এর জেএসএস (সিগনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো) ফোর্সেসে যোগদান করি। যেখানে কমিউনিকেশন সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন মামলায় বেইল সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছি। সেসময় বিচারকদের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগ করে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমাদের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) মামলায়ও বেইল সংক্রান্ত কাজ করেছি।’
এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৫০০-৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। তারা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।
