হঠাৎ মেয়েকে নিয়ে প্রীতি ফুটবল দেখতে স্টেডিয়ামে তারেক রহমান

হঠাৎ মেয়েকে নিয়ে প্রীতি ফুটবল দেখতে স্টেডিয়ামে তারেক রহমান

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রীর আগমন মানেই সাজ সাজ রব, নিরাপত্তার কড়াকড়ি, কর্মকর্তাদের আনাগোনা- সব মিলিয়ে একটা মহা হুলস্থুল অবস্থা তৈরি হওয়া। এমনটাই দেখা গেছে বিগত দিনে। তবে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এমন কিছু কাজ করেছেন যা প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ি কমিয়েছেন। নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে হঠাৎ করেই বিকালে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে এসে হাজির হন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান। উপস্থিত হয়ে সাবেক ফুটবলারদের প্রীতি ম্যাচ দেখেছেন তারেক রহমান, পুরস্কারও দিয়েছেন নিজ হাতে। সেখানে ক্রীড়া নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা পূনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। জানান ক্রীড়া নিয়ে তার সরকারের পরিকল্পনার কথা। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় সাবেক ফুটবলাররা। লাল দল ও সবুজ দল- এই দুই ভাগে ভাগ হয়ে তারা মাঠে নামেন পরস্পরের বিপক্ষে। দুই দল মাঠে হাজির হয়ে গিয়েছিল আগেই। ডাগআউটে প্রস্তুতি নিচ্ছিল খেলা শুরুর জন্য। এমন সময়ই হঠাৎ মাঠে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠে আসার জন্য তার কোনো সূচি নির্ধারিত ছিল না। এমনকি তিনি যে মাঠে আসছেন, এমন কথাও আগে থেকে কেউ জানায়নি। তার সঙ্গে ছিলেন কন্যা জাইমা রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। হঠাৎ করেই ভিআইপি গেট দিয়ে সরাসরি মাঠে ঢুকে তিনি চলে যান ডাগআউটে। সেখানে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দলের ফুটবলারদের পরিচয় করিয়ে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে হ্যান্ডশেক করেন। এরপর স্টেডিয়ামে স্থাপিত অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের ওপর দিয়ে পুরো মাঠ প্রদক্ষীণ করেন তিনি। পরে গিয়ে অবস্থান নেন ডাগআউটে। সেখানে বসেই খেলা উপভোগ করেন তিনি। কোনো দেশের কোনো সরকার প্রধানের এভাবে ডাগআউটে বসে খেলা উপভোগ করার এটা এক বিরল ঘটনা হয়ে থাকলো। খেলার বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী চলে যান ভিভিআইপি লাউঞ্জে। সেখানে তিনি আসরের সালাত আদায় করেন। এরপর ফিরে এসে ডাগআউটে বসে আবারও খেলা দেখতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান এই প্রথম ক্রীড়াঙ্গনের কোনো অনুষ্ঠানে আগমন করলেন এবং সেটা হঠাৎ করেই। ডাগআউটে বসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং লাল দল ও সবুজ দলের খেলা উপভোগ করেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লাল দলের নেতৃত্বে ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক। আর সবুজ দলের নেতৃত্ব দেন ছাইদ হাসান কানন। দু’দলেই জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলাররা অংশগ্রহণ করেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অবশ্য গোলবারের নিচে নয়, মাঝমাঠে খেলেছেন। লাল দলে আরও খেলছেন আলফাজ আহমেদ, রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির, কায়সার হামিদ, গোলাম গাউসরা। সবুজ দলের হয়ে খেলছেন এনামুল, ওয়ালী ফয়সাল, ছাইদ হাসান কানন ও গোলাম রব্বানী ছোটনরা। খেলা শেষে দু’দলের ফুটবলারদেও গলায় মেডেল পরিয়ে দিয়েছেন তারেক রহমান। এতে বেশি উচ্ছ্বসিত সাবেক ফুটবলাররা। তারা বলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এটি বিরল ঘটনা। রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির বলেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রী কোন প্রকার প্রটোকল ছাড়া যেভাবে মাঠে বসে আমাদের খেলা দেখেছেন এটা আসলে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এরকম ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রীই পারবেন পিছিয়ে পরা ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণের সঞ্চার করতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে তার বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা পূর্ণব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করতে চাই। আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলা, প্রত্যেকটি উপজেলা, প্রত্যেকটি ইউনিয়নের স্কুলগুলোর মধ্যে প্রত্যেক শ্রেণিতে খেলাকে গুরুত্ব দিতে চাই। ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরগুলো আরো কিভাবে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারি, সেটিও আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমাদের তার জন্য চেষ্টা আছে। বাংলাদেশের বহু মানুষ আছেন যারা ক্রীড়ার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত আছেন, তাদের সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে আসুন আমরা বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতটিকে সুন্দরভাবে দলমত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে গড়ে তুলি। যাতে এই ক্রীড়া দেশের আরো সম্মান বয়ে আনতে পারে। এই ক্রীড়া আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও তৈরি করতে সক্ষম বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সিরু

২ মাস আগে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! আলহামদুলিল্লাহ

মন্তব্য করুন