‘টিম উইনার’ খুঁজবেন নাঈম

‘টিম উইনার’ খুঁজবেন নাঈম

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন নাঈম ইসলাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন দাপট দেখানো এই ক্রিকেটার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি। একসময় ‘ছক্কা নাঈম’ হিসেবেও বেশ পরিচিত ছিলেন। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পেলেন বড় এক প্রশাসনিক দায়িত্ব। অনেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে কোচ হওয়ার। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সী নাঈম বেছে নিলেন নির্বাচকের কঠিন পথ। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার দৈনন্দিন রুটিন অনেকটাই বদলে গেছে। তবে নতুন এই জীবনের সঙ্গে তিনি বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিচ্ছেন। জাতীয় দল নির্বাচন, খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার স্পষ্ট ভাবনা রয়েছে। ২০২৭ বিশ্বকাপ ঘিরেও তিনি আশাবাদী। দলে ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ এমন বিতর্ক না জড়িয়ে স্বচ্ছতা আনতে চান। নতুন দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। সেই কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-


প্রশ্ন: মাঠ থেকে সরাসরি নির্বাচকের চেয়ার- এই বদলটা কীভাবে নিচ্ছেন?
নাঈম: একসময় তো খেলা ছাড়তেই হতো। ক্যারিয়ারের একদম শেষ পর্যায়েই ছিলাম। এই সময়ে দারুণ একটি সুযোগ এলো। মনে হলো, এটাই আমার জন্য সেরা বিকল্প। তাই এই সিদ্ধান্ত নেয়া। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।


প্রশ্ন: অনেকের স্বপ্ন থাকে কোচ হওয়ার। আপনার এমন ইচ্ছা ছিল না?
নাঈম: জীবনে কোনো কিছুই আমার সুপরিকল্পিত নয়। কখনো ভাবিনি এত বছর ক্রিকেট খেলবো। এখন যে অবস্থানে আছি, সেটাও কল্পনা করিনি। অনেক কিছুই অপরিকল্পিতভাবে ঘটে। সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাকারী সৃষ্টিকর্তা। নির্বাচক হওয়াটাও নিশ্চয়ই তারই পরিকল্পনা।


প্রশ্ন: নির্বাচক হিসেবে চাপ সামলানোর মানসিক প্রস্তুতি?
নাঈম: জাতীয় দলে যারা সুযোগ পান, তারা প্রত্যেকেই পারফর্ম করার যোগ্যতা রাখেন। তবে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানের তফাত আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা ছেলেটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে এসেই পারফর্ম করবে, তা সব সময় হয় না। মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। সমালোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। দায়িত্বশীল জায়গায় থাকলে দায়ভার নিতেই হবে।


প্রশ্ন: দল নির্বাচনের কোন কাজটিকে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়?
নাঈম: আমরা হয়তো সেরা দলটিই নির্বাচন করি। ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দেরই বেছে নিই। এরপরও কেউ পারফর্ম না করলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এটি খুব স্বাভাবিক। এর বাইরে আলাদা কোনো চ্যালেঞ্জ আমি দেখি না।


প্রশ্ন: পক্ষপাতিত্বের এই বিতর্ক কীভাবে এড়াবেন?
নাঈম: অতীতের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে ভবিষ্যতে সবকিছু স্বচ্ছ হবে, এতটুকু বলতে পারি। আপনারা জানতে পারবেন, কেন কেউ দলে এসেছে আর কেন বাদ পড়েছে। প্যানেলে প্রধান নির্বাচক বাশার (হাবিবুল বাশার সুমন) ভাই ও শান্ত (হাসিবুল হোসেন) ভাইয়ের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে নাদীফও (নাদীফ চৌধুরী) আছেন। সবার সংমিশ্রণে আমরা খুব ভালো একটি প্যানেল। আশা করি ভালো কিছু করতে পারবো।


প্রশ্ন: বাদ পড়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে পরিকল্পনা কী হবে?
নাঈম: বাদ পড়া খেলোয়াড়দের কারণ জানার অধিকার আছে। কেউ জানতে চাইলে অবশ্যই সঠিক কারণ জানাবো। তাকে কী কী উন্নতি করতে হবে, সেই গাইডলাইন দেবো। এতে খেলোয়াড়ের কামব্যাক করা অনেকটাই সহজ হবে।


প্রশ্ন: বাদ পড়া ক্রিকেটারদের ‘এ’ দল বা এইচপিতে খেলিয়ে ছন্দে ফেরানোর কথা ভাববেন?
নাঈম: প্রতিটি খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমরা ‘এ’ দল বা এইচপির খেলার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করব। যাতে বাদ পড়া খেলোয়াড়রা ঘরোয়া লীগ ও সেখানে পারফর্ম করে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।


প্রশ্ন: দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন?
নাঈম: আমি দলে ‘টিম উইনার’ চাই। শুধু ব্যক্তিগত রানের জন্য খেলা নয়, এমন খেলোয়াড় প্রয়োজন, যে দলকে জেতাতে পারবে। মনে রাখতে হবে, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। আর দলের চেয়ে দেশ বড়।


প্রশ্ন: ২০২৭ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে কী ভাবছেন?
নাঈম: অতীতের থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বকাপের রোডম্যাপ তৈরি করবো। খেলোয়াড়দের ভূমিকা ও বিকল্প কারা হবে, তা নির্ধারিত থাকবে। ১৫ জন মূল খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ব্যাকআপ প্রস্তুত থাকবে। সাকিবের বিষয়ে বলবো, সে যদি অ্যাভেইলেবল থাকে এবং দেশের হয়ে খেলে, তবে তা অবশ্যই দলের জন্য অনেক বড় একটি ইতিবাচক দিক। তবে আমাদের সবসময় শুধু সাকিবের ওপর নির্ভর না করে সামনের দিকে তাকাতে হবে। বর্তমানে যারা অ্যাভেইলেবল আছে, তাদের ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে এবং তাদের নিয়েই পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সে যদি দলে থাকে, সেটি আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা।


প্রশ্ন: সাকিব নির্ভরশীল না হয়, সেদিকেই কি ইঙ্গিত করছেন?
নাঈম: আমি কোন উদ্দেশ্যে কথাটি বলেছি, সেটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সারাক্ষণ শুধু সাকিব-সাকিব করি, তবে দলের বাকি খেলোয়াড়রা অবহেলিত বোধ করতে পারে। দল তখন অতিরিক্ত সাকিব-নির্ভর হয়ে পড়বে। আমি চাই আমাদের ফোকাসটা ‘টিম উইনার’ তৈরির দিকেই বেশি থাকুক।


প্রশ্ন: অবসর নিয়ে কী ভাবছেন?
নাঈম: অবসর তো নিতেই হবে। ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান এবং অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবসরের সিদ্ধান্ত নেবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন