চিলমারীতে তেল সংকটে দীর্ঘ লাইন দুর্ভোগ

চিলমারীতে তেল সংকটে দীর্ঘ লাইন দুর্ভোগ

ফন্ট সাইজ:

তেলের জন্য চলছে হাহাকার, চারদিকে সংকটের আওয়াজ। পাম্পমালিকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ১শ’ থেকে ২শ’ টাকার পেট্রোল নিতে অপেক্ষা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন হচ্ছে দীর্ঘ। মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইনে চিলমারী-কুড়িগ্রাম প্রধান সড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক যানজট। থানাহাট ও জোড়গাছ বাজারে তেল ডিলারগণ তেল উত্তোলন করলেও বিভিন্নভাবে সংকট দেখিয়ে কৌশল অবলম্বন করায় বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। বাড়ছে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারীতেও জ্বালানি তেল সংকটে ভুগছে সর্বস্তরের মানুষ। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন চাহিদামতো মিলছে না ক্রেতার ভাগ্যে, ফলে চিলমারীর একটি মাত্র পাম্প সাগর ফিলিং স্টেশন হাজার হাজার মানুষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। সামান্য কিছু বরাদ্দের তেল পাম্পে আসার পরপরই চিলমারীসহ আশপাশের বেশকিছু উপজেলার মোটরসাইকেলসহ তেলের উপর নির্ভরশীল যানবাহন ও কৃষকদের চাহিদা মেটাতে না পারায় প্রায় সময় পাম্প শ্রমিকদের সঙ্গে ক্রেতাদের প্রতিনিয়ত ঝগড়া সৃষ্টি হচ্ছে। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় ইতিমধ্যে পাম্প মালিকপক্ষ থেকে সময় ও গাড়ি প্রতি তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। যদিও সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু দেখা গেছে সকাল ৮টা থেকে গাড়ি নিয়ে চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে ফলে চিলমারী-কুড়িগ্রাম সড়কে প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত তেল সরবরাহকালীন পুরো সময় সৃষ্টি যানজটে মাত্র ১ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৪০ মিনিট পার হচ্ছে ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে জনসাধারণ।
পেট্রোল নিতে আশা নূর আলম বলেন, সকাল ৯টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১২ টার দিকে তেল পেয়েছি মাত্র ১শ’ টাকার। এদিকে চিলমারীতে আরও বেশকিছু তেল ডিলার তাদের বরাদ্দের তেল আনলেও সামান্য কিছু নামেমাত্র বিক্রি করলেও কৌশলে সংকট দেখিয়ে নিজস্ব কিছু খুচরা বিক্রেতা দিয়ে চড়া মূল্যে ডিজেল বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, থানাহাট বাজারে তেল ডিলার (ব্যবসায়ী) সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্স দোকানে সব সময় তেল পাওয়া গেলেও বর্তমানে তেল দিতে অনিহা প্রকাশ করছেন এবং দিলেও কৌশলে দামও বেশি নিচ্ছে। মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না, এরপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মানুষের পাশে থাকার।
তথ্যমতে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত একেএম খায়রুল থানাহাট বাজার ডিজেল মজুত ২ হাজার ৩শ’ লিটার, আনোয়ার হোসেন বাদল জোড়গাছ বাজার ডিজেল মজুত ৪ হাজার ২শ’ লিটার ও সাগর ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ৩ হাজার লিটার ও পেট্রোল ১ হাজার ৫শ’ লিটার মজুত ছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন