স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বদলেছে পাঁচবার

সহযোগীদের খবর

স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বদলেছে পাঁচবার

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বদলেছে পাঁচবার’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা বদলেছে। সর্বশেষ গত বছরের জুন মাসে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়। ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—অন্তর্বর্তী সরকারের করা এই সংজ্ঞাও বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে এখন আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনার পর অন্তর্বর্তী সরকার আরও ৯ মাস ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, শ্রেণিবিভাজন করার কাজটি তেমন এগোয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই–বাছাইয়ের কাজটি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। নতুন সংজ্ঞার আলোকে জামুকা গত ৯ মাসে ৪০ জনকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ করার সুপারিশ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার। নতুন সংজ্ঞায় কে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, আর কে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’, সে জন্য পুরো তালিকা যাচাই–বাছাই করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেন, নতুন সংজ্ঞা মেনে শ্রেণিবিভাজন করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হবে। তা ছাড়া এই সংজ্ঞা নিয়েও বিতর্ক আছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সংজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী তাঁরা কাজ শুরু করবেন।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে ১৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে গিয়ে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, সবকিছু ভালোভাবে জেনে তারপর এসব বিষয়ে কথা বলবেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশ ‘দ্য বাংলাদেশ (ফ্রিডম ফাইটারস) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অর্ডার, ১৯৭২’ এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে ২০১৮ ও ২০২৫ সালে। এ ছাড়া ১৯৮০ ও ২০২২ সালে সামান্য পরিবর্তন হয়।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে ১৯৭২ সালের আদেশে বলা হয়, ‘ফ্রিডম ফাইটার মিনস অ্যানি পারসন হু হ্যাড সার্ভড অ্যাজ আ মেম্বার অব অ্যানি ফোর্স এনগেজড ইন দ্য ওয়ার অব লিবারেশন।’

অর্থাৎ যিনি মুক্তিযুদ্ধে যেকোনো একটি বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছেন, তিনিই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালের আদেশ ১৯৮০ সালে সামান্য সংশোধন করা হয়। তবে ওই সংশোধনী ছিল মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সম্মানী বা ভাতা কারা পাবেন না সে বিষয়ে।

সংজ্ঞায় বড় পরিবর্তন আসে ২০১৮ সালে

২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকার ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট’ আইনে মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। এই সংজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত। এতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে যাঁরা দেশের অভ্যন্তরে গ্রামে-গঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ নেন, তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হবেন। এর পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর বিরুদ্ধে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন, এমন সব বেসামরিক নাগরিকেরাও মুক্তিযোদ্ধা। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী, মুজিব বাহিনী, মুক্তিবাহিনী ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, ইপিআর নৌ কমান্ডো, কিলো ফ্লাইট আনসার বাহিনীর সদস্যরাও মুক্তিযোদ্ধা।

২০১৮ সালের সংজ্ঞায় মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁদের বয়স সরকার নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে ছিল, তাঁরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হন। এই সংজ্ঞায় আরও বলা হয়, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন এবং যেসব বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এই সংজ্ঞায় আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) সঙ্গে সম্পৃক্ত সব এমএনএ (জাতীয় পরিষদের সদস্য) বা এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য), যাঁরা পরবর্তী সময়ে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন; তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হবেন। এতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে নির্যাতিত সব নারী (বীরাঙ্গনা) মুক্তিযোদ্ধা হবেন। এ ছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সাংবাদিক; স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সব খেলোয়াড়; এবং মুক্তিযুদ্ধকালে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া মেডিকেল টিমের সব ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নতুন একটি আইন করে। এর নাম দেওয়া হয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২। কেন নতুন আইন করা প্রয়োজন হলো তার ব্যাখ্যায় বলা হয়, জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠন করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই ব্যাখ্যা ২০১৮ সালের আইনে ছিল না।

নতুন সংজ্ঞায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও

‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাতেও পরিবর্তন আসে। এ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হয় ২০২৫ সালের ৩ জুন।

মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞায় ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে’ এই লাইনটি বাদ দেওয়া হয়, যা এর আগের (২০২২ সালের সংজ্ঞায়) সংজ্ঞায় ছিল।

নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা দেশের ভেতরে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, এরূপ সব বেসামরিক নাগরিক (ওই সময়ে যাঁদের বয়স সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে ছিল) তাঁরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও সেই সরকার স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্যরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

এর পাশাপাশি হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে নির্যাতিত সব নারী (বীরাঙ্গনা) মুক্তিযোদ্ধা হবেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া ফিল্ড হাসপাতালের সব ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নতুন এই সংজ্ঞায় প্রথমবারের মতো ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা দেশের ভেতরে বা প্রবাসে অবস্থান করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করতে সংগঠকের ভূমিকা পালন, বিশ্বজনমত গঠন, কূটনৈতিক সমর্থন অর্জন এবং মনস্তাত্ত্বিক শক্তি অর্জনে বাংলাদেশের যেসব নাগরিক প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।

কারা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ এ জন্য পাঁচটি শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন এবং বাংলাদেশের যেসব নাগরিক বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত, মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তৃতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) সঙ্গে সম্পৃক্ত সব এমএনএ বা এমপিএ, যাঁরা পরবর্তী সময়ে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। চতুর্থত, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক। পঞ্চমত, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

বয়স কমানো নিয়ে বিতর্ক

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যেকোনো আবেদনকারীর বয়স ১৯৭১ সালে ন্যূনতম ১৫ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আবেদনকারীদের বয়সসীমা দুই দফায় কমিয়েছে।

২০১৪ সালের জুনে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধার ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর নির্ধারণ করা হয়। এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। এতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি এটি সংশোধন করে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১২ বছর ৬ মাস।

বয়স কমানোর সুযোগ দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় এমন অনেকের নাম যুক্ত হয়, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীসহ অনেকে এই সুযোগ নিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক আফসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে, এই কাজ আওয়ামী লীগ সরকার করেছে, হয়তো সামনেও হবে। বিভিন্ন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা করেছে, সেখানে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। এতে কিছু মানুষ সুবিধা পেয়েছে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে কোনো সরকার বের হতে পারেনি। এতে দেশের কোনো লাভ হয়নি। দেশের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রেও কোনো লাভ হয়নি।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘তেল মজুত না করার নির্দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু অপব্যবহার বা অবৈধ মজুত করলে সবার জন্য সমস্যা হবে। তাই লিফলেট ও পাম্পগুলোতে ব্যানার লাগিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি পেট্রোলপাম্পে তেলের জন্য ভিড় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার কাছে অনেক ফুটেজ আছে, অনেকে তেল মজুত করছেন। অনেকে দরকার না থাকা সত্ত্বেও বারবার তেল নিচ্ছেন। এতে করে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার মোবাইল ফোনে থাকা তেল মজুতের ফুটেজ দেখান মন্ত্রীদের। তিনি বিশ্বের এই সংকটময় মুহূর্তে সবাইকে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি। জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সবাইকে তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। এটাই প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। এদিকে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে যাচ্ছে সরকার। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি থেকে এই এলএনজি কেনা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে। এরপরও বর্তমান সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি করে দেশে তেলের মজুত ঠিক রেখেছে। তাই তেলের কোনো সংকট নেই। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। মজুত করলে লাভ হবে না।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী তেলের মজুত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি বলেন, তেলের মজুত সন্তোষজনক। জাহাজ আসছে। কিন্তু পাম্পে তেল সহসা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার মোবাইল ফোনে থাকা তেল মজুতের ফুটেজ দেখান মন্ত্রীদের। বলেন, দেখেন আমার কাছেও ফুটেজ আসছে, মানুষ কিভাবে তেল মজুত করছে। এটা ঠিক নয়। উদ্বেগের। জনগণকে বোঝাতে হবে। এখন পুরো পৃথিবীতে একটা সংকট চলছে। জনগণকে বোঝানোর জন্য লিফলেট প্রচার করবেন। এছাড়া আর কী করা যায় দেখেন। ওই বৈঠকে এপ্রিল ও মে মাসে কটা তেলবাহী জাহাজ বাংলাদেশে আসবে এবং তেলের জন্য কত টাকা দরকার তার একটা তালিকা প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনোভাবে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। কোনোভাবে তেলের কোনো সংকট করা যাবে না। প্রয়োজনে তেলের সব উৎস খুঁজে দেখতে হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, তেলের অপব্যবহার বা মজুতদারি থেকে বিরত থাকতে সরকার কাল-পরশু লিফলেট ছাপিয়ে বিলি করবে। এমনকি স্কুলে-স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে প্রচারণা চালাবে। যাতে তারা তাদের অভিভাবকদের তেল ব্যবহারে সচেতন করতে পারে।

তেলের দাম বাড়বে না-উপদেষ্টা : জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই পেট্রোলপাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুত করলে লাভবান হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং দাম যেহেতু বাড়ছে না, এই মজুত করে রাখার প্রবণতা আসলে তাদের জন্য খুব বেশি বেনিফিশিয়াল (লাভজনক) হবে না।

কালের কণ্ঠ

জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইন’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেট্রল পাম্পগুলোতে এখনো জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন রয়েছে। অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না অনেক চালক। কোথাও সীমিত সরবরাহ, আবার কোথাও পুরোপুরি বিক্রি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় যানবাহন চালকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

অনেকেই এটিকে নগরজীবনের জন্য অস্বাভাবিক ও দুর্ভোগের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুদ আছে, বিভিন্ন উৎস থেকে আরো সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার কারণে চালকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, যা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট মূলত আমদানির ঘাটতির কারণে নয়; বরং পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতার ফল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কালশী, বিজয় সরণি, আসাদ গেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পেয়ে রাজধানীর অনেক জায়গায় সাময়িক সময়ের জন্য পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কোথাও কোথাও ‘অকটেন নাই’ বা ‘বন্ধ’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু পাম্পে মঙ্গলবার রাতেই তেল শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ আসতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

পাম্পগুলোর সামনে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। অনেক চালক সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন, আবার কেউ অনিশ্চয়তার মধ্যেই অপেক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে টানাপোড়েন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে যে অধ্যাদেশে, সেই 'গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫' নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অধ্যাদেশটি বাতিলের প্রস্তাব করেছে। এতে তারা আপত্তি জানিয়েছে। তবে সরকারি দলের ভাষ্য, তারা অধ্যাদেশটি বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়নি। আলোচনা চলছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভা শেষে পরস্পরবিরোধী এই ভাষ্য জানিয়েছে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
১৪ সদস্যের এ কমিটি ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছে। এ কমিটির ১১ সদস্য বিএনপির। তিনজন জামায়াতের। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি জাতীয় সংসদে পাস ক করাতে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল

বিশেষ কমিটির বৈঠক সূত্র জানায়, গণভোট ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশেও বিএনপি পরিবর্তন আনতে চাইছে। বিরোধী দলের দাবি, পরিবর্তন বা আলোচনার জন্য সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে সরকারি দল। এর মাধ্যমে আগের মতো প্রধানমন্ত্রীর হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখতে চায়, যা জুলাই সনদের লঙ্ঘন। সূত্রটি জানায়, ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনও একমত হতে পারেনি বিশেষ কমিটি। আগামী ২৯ মার্চ কমিটির তৃতীয় বৈঠক হবে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। ইউনুস সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ গত ১৩ মার্চ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে।

গতকাল বিশেষ কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান জানান, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশেও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি।

ইত্তেফাক

১১৯ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় এক-এগারোর সময়ে আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। সেদিন আসামিকে আদালতে উপস্থিত করতে বলা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

এদিকে মানবপাচারের মামলায় রিমান্ডে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ১১৯ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা। আদালতে দাখিল করা দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসত্ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ আছে। তারা সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে তারা রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতিসাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণের অসত্ উদ্দেশ্যে সরকার দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবদ্ধ আইনসংগত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন। তারা ৭ হাজার ১২৪ জন মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণসহ সর্বমোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাত্ করেছেন।

এ ঘটনায় গত ১১ মার্চ আসামি মাসুদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারাসহ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ সনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। এজন্য সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো বিশেষ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাত্ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গণভোট অধ্যাদেশ ঘিরে বিতর্ক’। খবরে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, জাতীয় সনদ এবং গণভোট- এই তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি ও সংসদীয় প্রক্রিয়া আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা শতাধিক অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গঠিত বিশেষ কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও, গণভোটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

এক দিকে সরকার বলছে, সংবিধান ও জুলাই সনদের আলোকে সব সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অন্য দিকে বিরোধী দল অভিযোগ করছে, গণভোট ও সনদের মূল চেতনাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ কমিটির সভাপতি এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশে ঐকমত্য এলেও কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো সমাধান আসেনি। কমিটি ১৮-২০টি বিষয়ে এখনো ঐকমত্যে আসতে পারেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৯ মার্চ রাত ৮:৩০ মিনিটে পরবর্তী সেশনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে বাকি থাকা বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অধিকাংশ অধ্যাদেশে ঐকমত্য, ২ এপ্রিল জমা চূড়ান্ত প্রতিবেদন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর ব্যাপক পর্যালোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিশেষ কমিটি। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১২০টির বেশি অধ্যাদেশের ওপর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষ করেছি। কোনগুলো বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল হবে- সে বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, এই বিস্তৃত পর্যালোচনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ২ এপ্রিল জমা দেয়া হবে। তবে যেসব বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে, সেগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকেই বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

আজকের পত্রিকা

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ, জামায়াতের ‘না’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে। আইন মন্ত্রণালয় এই সুপারিশ করেছে দাবি করে এর বিরোধিতা করেছে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এই বিরোধিতা করেন জামায়াতের সদস্য।

সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে ২৯ মার্চের বৈঠকে অথবা সংসদ অধিবেশনে আলোচনা করা হবে।

সূত্র বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়েছে। তবে গণভোট অধ্যাদেশসহ ২০টির বিষয়ে গতকালের মুলতবি বৈঠকেও একমত হতে পারেনি বিশেষ কমিটি। এগুলোর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ সংশোধন; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধন এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল। ফলে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৯ মার্চ আবার আলোচনা হবে। বিশেষ কমিটিতে ঐকমত্য না হলে সেগুলো সংসদে তোলা হবে।

ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে আইনে পরিণত না করলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। পরে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করতে বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষ কমিটি গত মঙ্গলবার বৈঠক করে। গতকাল মুলতবি বৈঠক হয়েছে। বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানি তেলে বিদ্যুতেও শঙ্কা!’। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেলের অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌপথে পণ্য পরিবহন। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর এবং ঘাটে খালাসের কাজে নিয়োজিত লাইটার জাহাজগুলো (ছোট জাহাজ) চলাচল করতে পারছে না। আর এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে কয়লা পরিবহনে যেমন সমস্যা দেখা দিয়েছে তেমনিভাবে ভোগ্যপণ্য পরিবহনে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তেল আমদানির উপাত্তে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন বেশি তেল এসেছে।

দেশের ৫টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য মাসে গড়ে সাড়ে ৮ লাখ টন কয়লা আমদানি হয়ে থাকে। এসব কয়লা বহনকারী মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়ায় অবস্থান করে থাকে। সেখান থেকে লাইটার জাহাজে করে বাঁশখালীর এস আলম প্ল্যান্টে, পায়রা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিবহনের জন্য মাসে প্রায় ১২০০ লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একেকটি জাহাজ দুই বা তিন ট্রিপের মাধ্যমে কয়লাগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দিয়ে থাকে।

কিন্তু এখন লাইটার জাহাজের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানান বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম জুয়েল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়লা পরিবহনের জন্য আমি এখন জাহাজ পাচ্ছি না। আর এই না পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ বলা হচ্ছে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এই ডিজেলের অভাবে আমি যদি লাইটার জাহাজে করে কয়লা পৌঁছাতে না পারি তাহলে তো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। তখন সারা দেশে লোডশেডিং বেড়ে যাবে এবং ব্ল্যাক আউটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এদিকে লাইটার জাহাজ পরিচালনায় নিয়োজিত বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের মোহাম্মদ শফিক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন যেখানে দরকার সাড়ে চার লাখ টন ডিজেল সেখানে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া হয়েছে মাত্র এক লাখ টন। সড়কপথে রাস্তার পাশে পেট্রোল পাম্প থেকে গাড়িগুলো তেল নিতে পারে। কিন্তু নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে একবার তেল নিয়ে ঢাকা বা মোংলায় যায় এবং আবারও ফিরে আসে। অর্থাৎ যাওয়া-আসার তেল একসঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। এখন এই তেলের অভাবে আমরা লাইটার জাহাজ চালাতে পারছি না।

লাইটার জাহাজ না চালাতে পারলে সমস্যা কী হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এতে মাদারভেসেলগুলো বন্দরের বহির্নোঙরে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একদিন বেশি অপেক্ষা করলে কমপক্ষে ২০ হাজার মার্কিন ডলার বাড়তি পরিশোধ করতে হয়। আর দিন শেষে তা ভোক্তার ওপরেই বর্তাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন