যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর খবর প্রচারিত হচ্ছে ঠিক তখনই ভারত নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি। তিনি বলেছেন, 'উত্তেজনা কমাতে ভারত অবশ্যই একটি কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্লোবাল সাউথের অন্যতম প্রধান শক্তি ভারত। তাদের বিদেশনীতি ভারসাম্যপূর্ণ। এই সব কারণে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের ক্ষেত্রে ভারতের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ইরানের দূত আরও বলেছেন, ভারত সকল পক্ষের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তাই কূটনৈতিক আলোচনায় একটি বিশ্বস্ত পক্ষ হিসেবে কাজ করতে ভারত সক্ষম।'
সংবাদ সংস্থার খবর অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তির জন্য ইরানকে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ট্রোল করেছেন ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় সামরিক মুখপাত্র। ডনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, 'তিনি কি নিজের সাথেই আলোচনা করছেন?' ট্রাম্পকে উপহাস করে ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, 'আপনি আমেরিকার যে কৌশলগত শক্তির কথা বলতেন তা কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। যারা নিজেদের বৈশ্বিক পরাশক্তি বলে দাবি করে, তারা জগাখিচুড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া। ইরানের সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেছেন, পরাজয়কে একটি চুক্তি হিসাবে সাজিয়ে নেবেন না। আপনাদের ফাঁকা প্রতিশ্রুতির যুগের অবসান হয়েছে।'
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানি নেতৃত্বের 'সঠিক মানুষদের' সঙ্গে আলোচনা করছেন। নিউইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদনে বলেছে যে ১৫ দফা পরিকল্পনাটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, এই ১৫ দফা পরিকল্পনার কাঠামো তিনটি প্রধান দাবির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা, নাতাঞ্জ, ফোর্ডো এবং ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলি বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া।
এরই সঙ্গে হামাস, হিজবুল্লা বা হুথির মাধ্যমে 'ছায়াযুদ্ধ' ত্যাগ করতে বলা হয়েছে ইরানকে। এই সব গোষ্ঠীদের অর্থায়ন বা সাহায্য বন্ধ করতে বার্তা দেওয়া হয়েছে তেহরানকে। এরই সঙ্গে ইরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং যুদ্ধবিরতির সময়সীমা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে এই পরিকল্পনায়। এসবের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানকে ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রস্তাবের জবাবে ইরান বেশক কিছু দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি বন্ধ করে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। এমন এক সময়ে এই দাবিগুলো এসেছে যখন তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই।
শান্তি প্রক্রিয়ার আবহে ভারত নিয়ে ইরানের দূতের মন্তব্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
২ মাস আগে
২৫ মার্চ (বুধবার), ২০২৬, ৪ঃ০৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
