দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ আনতে বাড়তি ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা

সহযোগীদের খবর

দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ আনতে বাড়তি ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ আনতে বাড়তি ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আমদানিনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব এখন বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এ মাসে দেশে আসা দুটি ডিজেলবাহী জাহাজের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানিতে আগের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।
সরকার বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে শুরু করলেও দেশে এখনো জেট ফুয়েল ছাড়া ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে পরিবহন, শিল্প ও উৎপাদন খাতে এখনো সরাসরি বড় প্রভাব পড়েনি। জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন খরচ বাড়বে। এর চাপ পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।

যুদ্ধের আগে বিপিসি জ্বালানি তেল বিক্রি করে মুনাফা করে আসছিল। গত অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। যেমন প্রতি লিটার ডিজেলে ১–২ টাকা, পেট্রল ও অকটেনে ৩–৪ টাকা মুনাফা করছিল বিপিসি। দাম বাড়ার পর এখন বিপিসি প্রতি লিটার ডিজেলে ৬৮–৬৯ টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। এ পরিস্থিতিতে সরকার কি ভর্তুকি দেবে, নাকি ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করবে—সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে সরকারকে বাড়তি দামে খোলাবাজার থেকেও জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
তবে গত সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, সামনে সময় সহজ নয়। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়বে, জিনিসপত্রের দামও বাড়বে, আর সেই চাপ সয়ে নিয়েই এগোতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি ইরানি বাহিনীর বন্ধ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৪৪ ডলার। গত সোমবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৬ দশমিক ৬০ ডলারে, যা প্রায় ১৬৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অকটেনের দাম ৭৮ দশমিক ৩৯ ডলার থেকে বেড়ে ১৬৩ দশমিক ৭১ ডলারে ওঠে, অর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ১০৮ শতাংশ। জেট ফুয়েলের দাম ৮৯ দশমিক ৪০ ডলার থেকে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ২২৮ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৫৫ শতাংশ বেশি। বাড়তি দরে আগামী মাসেও তেল নিয়ে জাহাজ দেশে আসবে।
ছয় জাহাজ তেলে বাড়তি ব্যয় এক হাজার কোটি টাকা

বিপিসি সিঙ্গাপুরভিত্তিক মূল্য নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটসের সূচক অনুসরণ করে তেল কেনে। তেল জাহাজে তোলার দিনকে ঘিরে আগের দুই দিন, ওই দিন এবং পরের দুই দিনের গড় দাম ধরে প্রতি ব্যারেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ফলে স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় মূল্যবৃদ্ধি হলে আমদানি ব্যয়ে তার দ্রুত প্রতিফলন ঘটে।
বিপিসির হিসাবে, ১৬ মার্চ ‘এমটি চাং হাং হং টু’ নামের একটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ১২৬ ব্যারেল ডিজেল আমদানি করা হয়। যুদ্ধের আগে এই চালানের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ তেলের জন্য এখন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ একটি জাহাজেই বাড়তি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬২ কোটি টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম পড়েছে ১৭০ দশমিক ৯৯ ডলার।

একই রকম পরিস্থিতি হয়েছে ‘এমটি রাফালস সামুরাই’ নামের আরেকটি জাহাজের ক্ষেত্রেও। প্রায় ২ লাখ ব্যারেল ডিজেল নিয়ে ১৪ মার্চ দেশে আসে জাহাজটি। যুদ্ধের আগে এর সম্ভাব্য ব্যয় ছিল প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা। কিন্তু চূড়ান্ত হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক জাহাজেই বাড়তি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।
বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইতিমধ্যে সাত জাহাজ ডিজেল ও এক জাহাজ ফার্নেস তেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি জাহাজে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

দেশে বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

গতকাল উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মাসের শুরুতে লিটারে ১৭ টাকা বাড়ার পর এবার বেড়েছে আরও ৯০ টাকা।
দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম এখন প্রতি লিটার ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। এর আগে ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। গত মাসে তা ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে।

দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেল–নির্ভর। মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশ পূরণ হয় ডিজেল দিয়ে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই সরাসরি আমদানি করা হয়। বাকিটুকু অপরিশোধিত তেল আমদানি করে পরিশোধন করা হয়। কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি, যা এখনো দেশের বাজারে আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

দরকার স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু বিপিসি গত কয়েক বছরে বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে, তাই এই বাড়তি ব্যয় তাদের সেই মুনাফা থেকেই আংশিক সামাল দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সরকার অন্যান্য খাতের বৈদেশিক ব্যয় কমিয়ে জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি দিতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ও জনগণ—দুই পক্ষেরই বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। এখনই একটি সুনির্দিষ্ট রেশনিং পদ্ধতি ঘোষণা করা দরকার, যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তিতে যাওয়া উচিত হবে না। যুদ্ধের কারণে বাজার প্রতিদিন বদলাচ্ছে। তাই এখন তিন মাসের পরিকল্পনা ধরে এগোনোই বাস্তবসম্মত হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভুয়া ঠিকানায় পুলিশ নিয়োগ’। খবরে বলা হয়, ভুয়া ঠিকানায় পুলিশ নিয়োগ! খবরের এমন শিরোনাম অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তবে তা ঘটেছে। শুধু দু-একজন নন, শত শত। আওয়ামী জমানায় গোপালগঞ্জসহ বিশেষ ছয়টি জেলার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জেলা কোটায় নিয়োগ দিতে এমন নজিরবিহীন দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। বাকি জেলাগুলো হলো ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট ও খুলনা। বিরোধী মত দমনসহ ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করতে পুলিশবাহিনীর মধ্যে এভাবে ‘আওয়ামী বাহিনী’ তৈরি করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে এই অপকর্মে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছরে যিনি একাধিক প্রাইজ পোস্টিং ভোগ করে সরকার পতনের শেষদিন পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার ছিলেন।

সূত্র জানায়, এসব জেলার দলীয় কর্মীদের পুলিশে ঢোকাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি কিনে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চাকরি হওয়ার পর অনেকে কেনা জমি বিক্রি করে টাকাও তুলে নেন। তবে দলীয় বিবেচনায় এভাবে পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে বড় ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়। ফলে এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাতারাতি অর্থবৃত্তে ফুলেফেপে উঠে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এসপি হাবিবসহ পুলিশের একটি সিন্ডিকেট।

এদিকে এ ধরনের জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) চিহ্নিত করতে সরকার নড়েচড়ে বসেছে। কারা, কীভাবে এ ধরনের নিয়োগ দিয়েছে এবং নিয়োগ দেওয়ার সময় কত ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়-সেসব বিষয় চিহ্নিত করতে ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব জেলার এসপিকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ছয় ধরনের নির্দেশনা দিয়ে এক মাস তথা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি যুগান্তরের হাতে এসেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-প্রথমত, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ভিন্ন জেলার প্রার্থীকে শুধু জমি ক্রয়ের ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলে পৃথক কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে কি না। তৃতীয়ত, প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগযোগ্য বা নিয়োগ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কি না। চতুর্থত, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিকতা অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়ে চাকরি পেয়েছেন কিনা। পঞ্চম, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কি না। ষষ্ঠ, নির্দেশনায় বলা হয়, অসাধু পুলিশ সদস্য, দালাল ও প্রতারকচক্র তথা পরীক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কতটা তৎপর ছিলেন। এসব বিষয় অনুসন্ধানে ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর ৩ সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) ও রিজার্ভ অফিসার-১/২।

কালের কণ্ঠ

‘জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্পে ভিড়, ভোগান্তি চরমে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঈদুল ফিতর ঘিরে সরকারি আশ্বাস ছিল, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। কোথাও তেল সরবরাহ বন্ধ, কোথাও সীমিত বিক্রি, আবার বন্ধ পাম্পের সামনেও গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যানবাহন চালকদের।

অন্যদিকে সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ব্যাংক খোলার ফলে এরই মধ্যে ডিপো থেকে পাম্পগুলোয় নতুন করে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করারও আহবান জানানো হয়েছে, যাতে অযথা ভিড় বা আতঙ্ক তৈরি না হয়।

ঈদে সাত দিনের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুললেও সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন গাড়িচালকদের।
আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বিজয় সরণি, খিলক্ষেতসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একই দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। চালকরা জানিয়েছেন, একাধিক পাম্প ঘুরেও তাঁরা তেল পাননি। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে মাঝপথে আটকে পড়েছেন।

সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। এতে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটেছে। বিপিসি ও পেট্রল পাম্প মালিকরা বলছেন, মূল সমস্যার একটি বড় কারণ হলো ঈদের দীর্ঘ ছুটি। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশন মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে তাঁরা ডিপো থেকে নতুন করে জ্বালানি তুলতে পারেননি।
বিদ্যমান ব্যবস্থায় ব্যাংকনির্ভর এই প্রক্রিয়া জ্বালানি সরবরাহকে অচল করে দেয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে চলমান সংকট শিগগিরই কেটে যাওয়ার লক্ষণ আমরা দেখছি না। তবে এটি যেহেতু বৈশ্বিক সংকট, তাই আমাদের কিছুদিন মেনেই চলতে হবে। সংকট দূর করতে হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো বাড়াতে হবে। সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া এই সংকট দূর করা সম্ভব না।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহের ঘাটতি সংকট বাড়াচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল মেলেনি বলে অভিযোগ এসেছে। কোথাও সীমিত বিক্রি, কোথাও পাম্প পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তেল না পাওয়ায় ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য, ডিপোর বরাদ্দ তালিকা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সংকট মূলত আমদানির ঘাটতির কারণে নয়; এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত অব্যবস্থাপনা।
পেট্রোল পাম্প মালিক, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইরানে হামলার পর জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্কে বাংলাদেশে ক্রেতারা অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে সরকার ৬ মার্চ জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রথা চালু করে। এতে ভোগান্তি বেড়ে গেলে ১৫ মার্চ রেশনিং প্রথা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোগান্তি কমেনি। ঈদের টানা ছুটির কারণে সংকট আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অযথা দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তিনি বলেন, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল আছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার তেলের দাম বাড়ায়ানি এবং সরবরাহও কমায়নি। তাই পেট্রোল পাম্পের সামনে দীর্ঘা লাইন ধরে তেল সংগ্রহের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অব্যবস্থাপনা ও সীমিত সরবরাহে সংকট সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে পর্যান্ত সরবরাহ করার কথা বলা হলেও পাম্প মালিকদের দাবি, তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছরের চাহিদাকে ভিত্তি করে তার চেয়ে কম সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল সরবরত করা হচ্ছে, তা দিয়ে বর্তমানে ক্রেতার চাহিদা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পাম্পগুলোতে তীর চাপ তৈরি হয়েছে।

ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা এবং চট্টগ্রামের ১২ পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরা চাহিদার চেয়ে ৩০০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত তেল কম পাচ্ছেন। ডিপো পর্যায়ে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে। নারায়তাজের গোদনাইল ডিপোর বরাদ্দ তালিকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পকে তাদের ধারণক্ষমতা ও চাহিদার তুলনায় কম তেল দেওয়া হচ্ছে। তেজগাওয়ের একটি পাম্প প্রতিদিন ২৫ হাজার লিটার তেল বিক্রি করে, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার লিটার। এতে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, ক্রেতার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।

সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি আছে ব্যাংকিং জটিলতা। ঈদের টানা ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারেননি। পে অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল উত্তোলনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আগে চেকের মাধ্যমে নেওয়ার বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও এখন সে পথ বন্ধ। পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। ছুটির সমায় সে ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সংকট হয়েছে তীর।

ইত্তেফাক

‘১৩৩ অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করতে হবে ১০ এপ্রিলের মধ্যে, সংসদে পাশ না হলে স্বয়ংক্রিয় বাতিল’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইন আকারে সংসদে পাশ না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামিল বা বাতিল হয়ে যাবে।

সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহ সংসদের অধিবেশন বসার পর প্রথম বৈঠকেই উত্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে, সংসদ চাইলে আইন হিসেবে পাশ করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।’

অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বিষয়ে সংবিধানে বেঁধে দেওয়া এই সময়সীমা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদকে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
১২ মার্চ সংসদের প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠকে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। এরপর ১৫ মার্চ সংসদের দ্বিতীয় বৈঠকে আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার জন্য এই বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর এবং কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তাব করলে তা গৃহীত হয়।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘এক-এগারোর কুশীলব জে. মাসুদ গ্রেফতার’। খবরে বলা হয়, আলোচিত ‘এক-এগারো’ অধ্যায়ের অন্যতম কুশীলব, বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ডিবি সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানবপাচারসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে পল্টন থানার একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিচারাধীন। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।’

১/১১-এর ছায়া থেকে ‘ক্ষমতার মানুষ’

‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায়। জরুরি অবস্থা জারি ও সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে যেসব সামরিক কর্মকর্তা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তাদের অন্যতম বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র নেতৃত্বে ছিলেন। এই কমিটির অধীনে যৌথবাহিনীর মাধ্যমে দেশব্যাপী রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

‘মাইনাস টু’ বিতর্ক ও রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ

এক-এগারো-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক ধারার শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল।
এই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমান ও তার ছোট ভাই আরাফাত রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বিশেষ করে তারেক রহমানকে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে জিয়ার কনিষ্ট ছেলে আরাফাত রহমানের অকাল মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে।

আজকের পত্রিকা

‘তেলের সংকট বেড়েই চলেছে’-এটি আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঈদযাত্রা সামনে রেখে সরকার গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও মানুষের ভোগান্তি ঈদের ছুটির মধ্যে আরও প্রকট হয়েছে। মজুত না থাকার কথা জানিয়ে বহু ফিলিং স্টেশন জরুরি এই পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। ডিজেল ও কেরোসিনের জোগান স্বাভাবিক থাকলেও পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটতে হচ্ছে; বিশেষ করে ব্যক্তিগত যানে ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়া বহু নগরবাসী ফেরার ক্ষেত্রে মহাসংকটে পড়েছে।

চলমান সংকটকে পুঁজি করে তেলের কালোবাজারি শুরু হওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতির জন্য অযথা আতঙ্কিত ক্রেতাদের অবিবেচনাপ্রসূত বাড়তি কেনাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (ঈদের আগের দিন) সারা দেশে সরকারি তেল ডিপোগুলো বন্ধ ছিল। ঈদের দিন এবং তার পরের দিন রোববারও ডিপো ছিল বন্ধ। ফলে গত বৃহস্পতিবারের পর থেকে সোমবার পর্যন্ত কোনো ফিলিং স্টেশন নতুন করে তেল সংগ্রহ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতেই কিছু পেট্রলপাম্পের তেল শেষ হয়ে যায়। ঢাকায় যেসব পাম্পে বড় ধরনের মজুত ছিল, তারা শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করতে পেরেছে। রোববার ঢাকার বেশ কিছু পাম্পে ডিজেলের জোগান থাকলেও পেট্রল ও অকটেনের ভোক্তারা ফিরেছে খালি হাতে।

পাম্পমালিকদের অভিযোগ, সরকার রেশনিং শিথিল করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে ডিপো থেকে তেল এখনো সীমিতভাবেই মিলছে। তেলের লরিগুলো ডিপো থেকে অর্ধেক বা তার কিছু কমবেশি অবস্থায় ফিরে আসছে। অনেক পাম্পে দৈনিক ১৩-১৮ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকলেও ডিপো থেকে দিচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার লিটার থেকে ৯ হাজার লিটার। হাতে গোনা দু-একটি পাম্প ১৩ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল পাচ্ছে। এই অবস্থায় ক্রেতাদের তাদের চাহিদামতো পর্যাপ্ত তেল দেওয়ার কারণে বিকেল কিংবা সন্ধ্যা নাগাদই জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি তেল বিপণনের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিনটি কোম্পানি রয়েছে—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। সরকার এ তিন কোম্পানির মাধ্যমে বেসরকারি ফিলিং স্টেশনগুলোয় পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করে থাকে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পিছু হটছেন ট্রাম্প’। খবরে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এবারকার আগ্রাসন চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর পর দেশটির সঙ্গে নেপথ্যে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলতে শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান অবশ্য আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘যুদ্ধের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা’ হিসেবে দেখছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আরজিসির দাবি, শত্রুপক্ষের যুদ্ধের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা তাদের নজর এড়িয়ে যায়নি। যেকোনো নতুন আগ্রাসনের নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আঘাত হানা হবে বলে ইরান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামাতে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কথা প্রকাশ্যে এলেও বাস্তবে যুদ্ধের ২৪তম দিন গতকাল মঙ্গলবারও ইরান এবং ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে টানা পাল্টা জবাব দেওয়ার পর চতুর্থ সপ্তাহে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন আনার আভাস দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প গত শনিবার ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলার ঘোষণা দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। তা না হলে ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন। এমন হামলা হলে ইরান পুরো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেয়।

পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে বৈশি^ক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিতে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গত রবিবার সামনে এসেছে। এ দেশ তিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে মুখোমুখি বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন