মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে শুরু হয়েছে তেল সংকট, সেই প্রভাব পড়েছে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায়। জ্বালানি তেল আসার খবর পেয়েই সদরপুর ফিলিং স্টেশনে ভিড় করতে শুরু করে ট্রাক্টর, ট্রাক, বাস, প্রাইভেটকার, ব্যক্তিগত মোটরবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে জ্বালানি তেল বিতরণে পুলিশের সহায়তা নিতে বাধ্য হয় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার সদরপুর ফিলিং স্টেশনে এমনই চিত্র দেখা যায়। আলম নামের জনৈক প্রাইভেট কার মালিক জানান, দু’ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, ভিড়ের কারণে তেল নিতে বিলম্ব হচ্ছে। ট্রাক্টরচালক মতি মিয়া জানান, সেচ কাজের জন্য তেল নিতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রায়হান নামের মোটরবাইক চালক বলেন, অনেকক্ষণ ধরে লাইনে আছি। বাইকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের স্টাফ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোটরবাইকের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। বিকাল ৩টায় তেল আনলোড হয়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মোটরবাইকে তেল দেয়া হয়েছে। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই চাপ বাড়ছে। একই মোটরসাইকেল ৩ থেকে ৪ বার তেল নিয়েছে। তাদের কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। সদরপুর ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম এই প্রতিবেদককে জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকে পেট্রল অকটেন বন্ধ, ডিজেল কিছুটা ছিল যাত্রীবাহী গাড়ি ও সেচ কাজের জন্য দিয়েছি। দু’দিন পর আজ আমাকে ২ হাজার পেট্রল, ৩ হাজার ডিজেল ও ৩ হাজার অকটেন দিয়েছে। আগামীকাল আমি তেল পাবো না। এরই মধ্যে হাজার হাজার মোটরবাইক এসে ভিড় করেছে। ফিলিং স্টেশন ও স্টাফদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছি।
সদরপুরে জ্বালানি তেল সংকট আতঙ্কে ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
২৫ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
