টিকিটের চড়া দামের কারণে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

টিকিটের চড়া দামের কারণে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো মাস দু’য়েক বাকি, এর আগেই মাঠের বাইরের উত্তাপ ছড়াচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। আসরে টিকিটের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্য নির্ধারণ এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভিযোগে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (ফিফা) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ফুটবল সাপোর্টারস এসোসিয়েশন (এফএসএ)। সংস্থাটির দাবি, একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফিফা দর্শকদের পকেট কাটছে। আগামী ১১ই জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া আসরের টিকিটের দাম নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। ইউরোপিয়ান কমিশনের কাছে জমা দেয়া অভিযোগে এফএসএ এবং ইউরোকনজুমারস বলে, ‘২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ফিফা তাদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমর্থকদের ওপর এমন সব শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’ পরিসংখ্যান বলছে, গত বারের বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের খরচ কয়েকগুণ বেশি। কেউ যদি প্রতিটি রাউন্ডের একটি করে মোট ৮টি ম্যাচ সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির টিকিটে দেখতে চান, তবে তাকে প্রায় ৫,২২৫ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ টাকার বেশি)। মধ্যম সারির টিকিটের জন্য এই খরচ ৮,৫৮০ পাউন্ড এবং প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে তা প্রায় ১২,৩৫০ পাউন্ড! অথচ কাতার বিশ্বকাপে ৭টি ম্যাচের জন্য এই খরচ ছিল যথাক্রমে ১,৪৬৬, ২,৬৪৫ এবং ৩,৯১৪ পাউন্ড।

সমালোচনার মুখে অবশ্য ফিফা ১০৪টি ম্যাচের জন্যই ৬০ ডলারের (প্রায় ৪৫ পাউন্ড) কিছু ‘সাশ্রয়ী’ টিকিট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। তবে সমর্থকদের দাবি, এটি লোক দেখানো। ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলোর গ্রুপ পর্বের ম্যাচের জন্য স্রেফ ৪০০টি এমন সস্তা টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। এফএসএ পরিচালক রোনান ইভাইন এ বিষয়ে বলেন, ‘ফিফা আলোচনার কোনো সুযোগ না রাখায় আমরা ইউরোপিয়ান কমিশনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছি। ভক্তদের সামনে এখন কেবল দু’টি পথ খোলা। হয় চড়া দাম দাও, নয়তো গ্যালারিতে বসার স্বপ্ন ছাড়ো।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন