ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মসজিদের ইমামসহ দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উভয়পক্ষের অন্তত দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এতে কয়েকটি গ্রামের লোকজন অংশ নেয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। নিহতরা হলো- গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি জামে মসজিদের ইমাম মুফতী মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০), তিনি মো. হান্নান মিয়ার ছেলে এবং চৌরা গোষ্ঠীর কাশেম মিয়া সমর্থিত। অপর নিহত আক্তার হোসেন (৫০), গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোনারো গোষ্ঠীর রহিম তালুকদার গ্রুপ এবং চৌরা গোষ্ঠীর কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাঁধে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কাশেম মিয়ার পক্ষের লোকজন দাবি করেন, আগের রাতে রহিম তালুকদার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক শতাধিক লোক ভাড়া করে এনে তাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন এবং সকালে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইমাম হাবিবুর রহমান টেটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই সময় আক্তার হোসেনও টেটাবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অন্যদিকে, রহিম তালুকদারের পক্ষের লোকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কাউকে ভাড়া করে আনেননি। বরং কাশেম মিয়ার লোকজন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এনে তাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার বিষয়ে জানতে রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং দ্রুত বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন-আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। এখন পর্যন্ত দু’জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি, তবে কারা কোন পক্ষের তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
