বাঘ বিধবার বিড়ম্বনা

ঈদ সংখ্যা ২০২৬

বাঘ বিধবার বিড়ম্বনা

ফন্ট সাইজ:

ডিসেম্বর ২০১৬। পানখালী চুনা জেলেপাড়া। শ্যামনগর, সাতক্ষীরা। মন্দিরের পাশে এক চিলতে চত্বর। সেখানে পাড়ার বউ-মেয়েদের জটলা। তাদের খুনসুটিতে লজ্জায় রাঙা বিন্দা দাসী। রাতের আঁধারে কুঁচিয়া ধরতে গিয়ে খলুই ভর্তি ঢোঁড়া সাপ ধরে এনেছে তার স্বামী মনীন্দ্র। বিন্দা দাসীর লজ্জারাঙা মুখাবয়বে তাই অনিশ্চয়তারও শঙ্কা। মুখে আঁচল চেপে সেঁধিয়ে গেলেন খুপড়ির মতো ঘরটায়। ভাগ্যিস নিজেও কিছু কুঁচিয়া ধরে এনেছিলেন মাছের ঘের থেকে। একটু পরই খলুইটা নিয়ে বাজারে ছুটবেন তিনি।
তার মতোই অনিশ্চয়তার শঙ্কায় ভুগছে এ পাড়ার ৩৫ ঘরের বাসিন্দা। দিনের পর দিন নোনা পানিতে থেকে হাত-পায়ের চামড়া কুঁচকে গেছে মাঝবয়সী কৌশলা রায়ের। চোখের সামনে হাত দুটো তুলে বলেন, ‘খেটি খেটি হাত পা নেই আর। তাতে কিইবা এসে যায়। বাদাবনে তো যেতিই হয়। এই তো এখন যাবো। কুইচে ধরবো। তা না হলে কি করবো। কি খাবো। বাদাতেই তো নিয়তি।’
এই বাদা মানে সুন্দরবন। চট্টগ্রাম থেকে মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত সমুদ্রজীবীদের মান্য সাধক বদর পীরের নামে বদর বন। তারপর বাদা বন। এরা সংক্ষেপে বলে বাদা।
যাদের বয়স আছে তারা হয়তো রোদ-বৃষ্টি সয়ে তবু যেতে পারে বাদাবনে। কিন্তু বয়স্কদের বেলায় তো সে সুযোগও নেই। ৯০ বছর বয়সী অনীল মণ্ডলকে দেখিয়ে তাই কৌশলার কথা, ‘বাদা বনে চোখের দরকার। কানের দরকার। ওনার তো এখন ওসব আর নেই। দুই ছেলেকে ছেড়ে এসেছেন বাঘের মুখে। এখন অপরের দয়ায় জীবন চলে।’
পাড়ার আর একটু ভেতরে ঢুকতেই নশমনিকে দেখা গেলো পুরনো কাঁথার সেলাই খুলছেন। এই কাঁথা যেমন ঘরের শীতে কাজে লাগে, তেমনি দরকার হয় বনের ভেতর শীত তাড়াতেও। কিন্তু নোনা পানি ভেজা বাতাসে দু’তিন বছরের বেশি টেকে না কোনো কাঁথা। পুরনো সেলাই খুলে তখন নতুন কাপড় আর সেলাই চড়াতে হয়। নশমনি এখন ঠিক সে কাজটাই করছেন।
একটা চালাঘরের দাওয়ায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে চার বছরের বিপ্লব। চোখে তার শিশুসুলভ বিস্ময় নয়, নিস্পৃহ নজর। মা বিজয়া রানী সরদার অবশ্য অনবরত হাসছেন। এ হাসিকে কিছুতেই স্বাভাবিক বলার জো নেই।
হাসি থামিয়ে বলেন, ‘এলাকার লোক কাজে নেয় না। বনে না গেলি তো না খেয়ি মরবো। এ সময়টায় মাছ, কাঁকড়া কম। তবু তো যেতি হবে। ওখানে দস্যুতে ধইরে বলে, বাড়িতে কতা কও। নইলে বস্তায় ভইরে জলে ফেইলে দেবো। কিন্তু বাদাবনে না যেয়ি আর উপায় কি!’
একই হতাশা সত্তরোর্ধ্ব খগেন আর ননি কুণ্ডুরও। বয়স হয়ে গেছে বলে এখন আর বাদাবনে শরীর কুলায় না তাদের।
পাশের বারান্দায় চুলায় লাকড়ি ঠেলছেন পূর্ণিমা মণ্ডল। তার কোলে চুপচাপ শুয়ে উঁকি মারছে যে কৌতূহলী শিশু, মহাভারতের চরিত্র অনুসরণে তার নাম রাখা হয়েছে অভিমন্যু। মহাভারতে এই চরিত্র মৎস্য রাজকন্যা উত্তরার স্বামী আর অর্জুন-সুভদ্রার পুত্র হিসেবে অমিত তেজের অধিকারী। কিন্তু এই জেলেপাড়ার অভিমন্যুর জীবন সব সময়ই ঝুঁকির ভেতরে ঘুরপাক খায়। চারিদিকে পানি থাকায় ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বেশি এদিকটায়। মা পানি নিতে গেলেও দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে যায় শিশুর পা। অবুঝ অভিমন্যুকেও কোলে নিয়ে রান্নার কাজটা চালিয়ে নিতে হচ্ছে মা পূর্ণিমাকে।
মানিক বন্দোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝির মতোই এখানে এদের সঙ্গে ঈশ্বর থাকেন না। ঈশ্বর থাকেন এদের ঘিরে রাখা ঘের মালিকদের ভদ্র পল্লীতে। পার্থক্য কেবল এই যে, মানিকের সেই জেলে পল্লী ছিল পদ্মার পাড়ে। আর এই জেলে পল্লীটার কাছের নদীটার নাম মালঞ্চ। ওটা পেরুলেই সুন্দরবন।
আর এই পল্লীতে খোপ খোপ ঘরের বেড়ে সরু উঠোন। মাঝখানে একটা মাটির ঢিবি। কুয়াশা ঠেলে উঁকি দেয়া সূর্যটা একটু নরম আলো ছড়িয়েছে তার ওপর। তাতে ভাসুর হরেন মণ্ডলের জন্য খাবার পেতেছেন কমলা। স্বামী তো গেছেই, এক দেবরও খোরাক হয়েছে বাদাবনের বাঘের। ৯০ বছর বয়সী শ্বশুর বাসুদেব মণ্ডল দাওয়ায় বসে ঝিমুচ্ছেন। দুই ছেলেকে বাঘে খাওয়ার দুই ঘটনারই সাক্ষী তিনি। সে ঘটনায় এখন আর চোখ ভেজে না তার। শরীরে কুলোয় না বলে বনে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বহু দিন। তার অবস্থা এখন বাঘ বিধবা বৌমার মতোই।
নিজের খাবারটা নিজেকেই জোগাড় করতে হয় কমলাকে। তার কণ্ঠে তাই আক্ষেপ, ‘বহু কষ্ট কইরেছি। কুচে ধরে খেয়িছি। বর্ষা খেয়িছি। ঝড় খেয়িছি। টাকার অভাবে ছেলেটা পরীক্ষা দেতি পারলো না। আর কতো কষ্ট কপালে রয়িছে কে জানে!
আর এক বাঘ বিধবা সীতা রানীর স্বামীকেও বাঘে নিয়েছে বছর সাতেক হলো। দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে এখন দিনরাত অমানবিক খাটুনি তারও। তাদের মতো বাঘ বিধবারা তো নিজেদের সমাজেরই চক্ষুশুল।

কারও স্বামীকে বাঘে নিলে অবহেলার অমানিশা নেমে আসে তার জীবনে। ফুটতে থাকে দোষারোপের ফুলঝুরি। যে পর্বের শুরু হয় স্বামী বনে যাওয়ার সময় থেকেই। ওই মুহূর্ত থেকেই প্রতিক্ষণের জন্যই বাঘের কবল থেকে স্বামীকে রক্ষার প্রার্থনা করতে হয় এদের।
স্বামী যতদিন বনে থাকে, ততদিনই আলগা মাথায় চলাফেরা বারণ। বন্ধ রাখতে হয় শরীরে সাবান ঘষা। রান্নার জন্য মরিচ পোড়াতে পারে না তখন। সব ধরনের ভাজা পোড়া বন্ধ রাখতে হয়। এমনকি চাল বা ডাল ভাজিও করতে পারে না জেলে বধূরা।
এরপরও কারও স্বামীকে বাঘে নিলে ধরে নেয়া হয়, তার স্ত্রীর হয়তো ব্রত পালনে কোথাও গাফিলতি হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাই অথৈ জলে হাবুডুবু খেতে থাকে বাঘ বিধবারা। জেলে সমাজে তাদের বলা হয় অপয়া। স্কুলে ছেলেমেয়েদের দেখা হয় অবহেলার চোখে। গোটা জীবনটাই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে বাঘ বিধবাদের। নিজের খাবার নিজেদেরই জোগাড় করতে হয় তাদের। বাঁচতে হয় প্রতিবেশীদের করুণার পাত্র হয়ে।

এদের সহায়তার জন্য সরকারের উদ্যোগ থাকলেও তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের হাত অবধি পৌঁছায় কমই। যাদের মাধ্যমে এই সহায়তা বিতরণের কথা, তারাই দালাল দিয়ে বাঘ বিধবাদের টাকা মেরে দেয়। আর কিছু টাকা ফিরে যায় বাঘ বিধবারা কি করবেন তা বলতে না পারায়।
আর এক বাঘ বিধবা যখন তার সংগ্রামী জীবনে ঝাঁপি খুললো, জেলেপাড়ার মাথার ওপরে তখন মধ্যগগণের সূর্যটাকে ফের ঢেকে দিয়েছে পৌষের কুয়াশা। এভাবে বুঝি ঘন কুয়াশায় প্রতিনিয়ত খাবি খায় বাধ বিধবাদের জীবন। আসি আসি করেও আসে না সূর্যটা।

অক্টোবর ২০২২, গাবুরা, শ্যামনগর। চুনা জেলেপাড়া থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে নীলডুমুর। সাত সকালেই চামড়া পোড়ানো রোদ। শেষ শরতে এসে যেন ভর করেছে কাঠফাটা গ্রীষ্ম। নীলডুমুর বাজারে গাছের ছায়াতেও ভ্যাপসা গরম। ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলো বাড়বাড়ন্ত জলে টালমাটাল। জোয়ারে ফুঁসছে খোলপেটুয়া।
বাগদার রেণুপোনা ধরার জেলেরা অনেক আগেই জাল গুটিয়ে ফিরে গেছে। ওপাড়ের বাঁধ বরাবর তাদের নোঙর ফেলা নৌকাগুলো খাঁ খাঁ। এক নিঃসঙ্গ নারী কেবল পলিজমা পাড়ের কাছাকাছি কাঁকড়া খুঁজে চলেছেন গলা সমান পানিতে। বছর ছয় কি সাত বছর বয়সী এক কন্যা শিশু টালমাটাল খোলপেটুয়ায় ভাসছে অসম সাহসিকতায়।
এখানে উত্তর থেকে এসে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার মাথার দিকটায় একটা বাঁক খেয়েছে খোলপেটুয়া। তারপর গাবুরাকে বেড় দিয়ে দক্ষিণে এগিয়েছে। এখানে পশ্চিম পাড়ে নীলডুমুর বাজার। পূর্বপাড়ে গাবুরার সীমানায় ঠায় দাঁড়িয়ে এক সারি কেওড়া গাছ। ইঞ্জিন নৌকায় নদী পাড়ি দিতে বড় জোর মিনিট দশেক।
নৌকা ঘাটেই মোটরসাইকেল সমিতির অফিস। এই দ্বীপের প্রধান গণপরিবহন। সম্প্রতি বিদ্যুৎ এসেছে এখানে। সমিতির অফিসে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে ভিড় জমেছে। গুটি কয়েক দোকান নিয়ে এখানেই দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার প্রধান বাজার। ভরদুপুরে অধিকাংশই বন্ধ। বাজারকে ডানে রেখে বাধরাস্তা ধরে এগুতেই চোখের সামনে মেলতে থাকে সুন্দরবনের বেড়ে শুয়ে থাকা দ্বীপটার কষ্টের ভাঁজ।
৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপের ৪৫ হাজার মানুষের প্রধান জীবিকা সুন্দরবনের নদী ও সাগরে মাছ ধরা, সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া, বাঘের পেটে যাওয়া এ দ্বীপের মানুষের নিত্য নিয়তি। কখনও কুমিরেরও শিকার হয় এরা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তবু জীবন মুঠোয় নিয়ে নামতে হয় নদীতে। বাঘের মুখে পড়ার ভয় আছে জেনেও যেতে হয় বাদাবনে।
এবড়োথেবড়ো বাঁধে তাই রোদে পুড়েও নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত জেলেরা। বাঁধের ওপাশে চকবাড়া। একপাশে মোল্লাপাড়া। দ্বীপের অধিকাংশ স্থান খালী আর অনাবাদী হলেও এখানটায় গায়ে গা লাগানো ঘর-বাড়ি। এক উঠোন দিয়ে আর এক উঠোনে যাওয়ার পথ। স্যাঁতসেঁতে দাওয়া, সরু সরু গলি। পুকুর থেকে কলস ভরে খাওয়ার পানি আনছেন হাড্ডিসার গৃহবধূরা।
রোদজ্বলা দুপুরে সুনসান হয়ে আছে মোল্লাপাড়াও। সরু মাটির রাস্তাটা এগিয়েছে সোজা। একপাশে ঘোলা পুকুর। বিপরীতে গায়ে গা লাগানো বাড়িঘর। উঠোনে উঠোন জোড়া। স্যাঁতসেঁতে সরু গলির পাশে মাটি ফেলে উঁচু দাওয়া। সোজা হয়ে দাঁড়ালে মাথা ঠেকে যায় জীর্ণ টিনে। তারই একটাতে মুখোমুখি জোবেদা খাতুন। একটু পর এসে হাজির বকুল আক্তার। দুটো বাড়ি পেরিয়ে দেখা গেল, একা একা দাওয়ায় বসে অপলক তাকিয়ে আছেন মনোয়ারা খাতুন।
সবাই বাঘ বিধবা। জীবিকার প্রয়োজনে বাদায় গিয়ে যাদের স্বামী বাঘের শিকার।
বাদায় মধু সংগ্রহে গিয়ে বাঘের থাবায় প্রাণ দিয়েছেন জোবেদা খাতুনের শ্বশুর নীদু মোড়ল। অনেক বছর পর ওই বাদায়ই বাঘের হামলায় প্রাণ যায় তার স্বামী শওকত মোড়লের। একই পরিণতি বকুল আক্তারের স্বামী আফসার গাজীর। মনোয়ারা খাতুনের স্বামী কাওসার মোড়লের। সবাই স্বামীহারা বাঘের থাবায়।
জোবেদার স্বামীকে বাঘে ধরার সময়ে তার ছোট ছেলেটা ছিল সঙ্গে। রহমত আলী বাবু। বাবার আধা খাওয়া লাশটা বাঘের কবল থেকে উদ্ধার করেছিল সবাই মিলে। কিন্তু দলের সবার মাথার উপরে মহাজনের ঋণ। যে ঋণ নিয়েই নৌকা ভাড়া করে বাদায় যাওয়া। মধু নিয়ে না ফিরলে ঋণ শোধ হবে কীভাবে! দলের অন্যরা তাই তখনই ফিরতে দেয়নি বাবুকে। বাবুও বুঝেছিল প্রয়োজনটা। বাবার লাশ আগলে ছিল দু’তিন দিন। গোলপাতায় মোড়ানো লাশটা যখন বাড়িতে আনা হলো তখন ফুলে ঢোল। দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি কবর দিলো লাশটাকে।
বকুল আক্তারের স্বামীকে বাঘে ধরা ও তার পরের গল্পটাও নিদারুণ মর্মান্তিক।
স্বামীকে বাঘে ধরার খবর পাওয়ার কথা স্মরণ করে চোখের কোলে অশ্রু গড়ায় মনোয়ারা খাতুনের। দৃষ্টির শূন্যতায় যেন সেদিনেরই ঘটনাপ্রবাহ মূর্ত। অস্ফুটে বলেন, দেবর এইসে কলো, তোমার কপালে আগুন ধইরে গেছে। আমার ভাইয়েরে বাঘে খেইয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর আরও দুর্বিষহ জীবন। মনোয়ারার ভাষায়, সবাই তখন দূইরে দূইরে রাখে। বলে, ও খারাপ মেয়ি। ওরে কোনো কাজে ডাকা যাবে না। ওর হাতে খাওয়া যাবে না। কিন্তু, স্বামী হারা মাইনষের সঙ্গে আন্ধারে সব ঘেঁষতি চায়। কী একটা জেবন গেলো তখন!
স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর বাড়িতে আর জায়গা হয়নি কারোই। জোবেদা, বকুল, মনোয়ারা সবাই সন্তানসহ বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। ‘অপয়া’ জীবনের লাঞ্ছনা সয়ে জীবন কাটান। ধীরে ধীরে ছেলেমেয়েরা বড় হয়। তাদেরও সংসার হয়। ছেলে বউদের সঙ্গে শুরু হয় আর এক জীবন সংগ্রাম।
চুনা জেলেপাড়ার ওই হিন্দু পল্লীর বাঘ বিধবাদের মতোই গাবুরার এই মোল্লাপাড়ার মুসলমান বাঘ বিধবাদের ভাগ্য। একে তো বেঁচে থাকাই অতি কঠিন এক সংগ্রাম, তারওপর জীবন দুর্বিষহ সমাজের কটুকথায়। সব হারানো বাঘ বিধবারা তবু সন্তানদের দোষ আড়াল রাখতে চান। তারপরও মুখ ফসকে আক্ষেপ বেরিয়ে আসে মনোয়ারাদের। না বলি না বলি করতে করতেই জোবেদার কণ্ঠ চিরে বেরিয়ে আসে, এখনো অপয়া বলে খোঁটা দেয় ছেলেদের বউরা। সে কথা তো আর ছেলেদের কানে তুলতি পারি না। সমাজের মানুষ বড় কাজে অলক্ষ্মী কইয়ে দূরে সরায়ে রাখে।
মোল্লাপাড়ার আকাশে সূর্যটা আরও প্রখর হয়ে ওঠে। বাড়ে ভ্যাপসা গরম। নিজেদের দুঃখ, কষ্ট, অপ্রাপ্তির বেদনা ভুলে সচল হয় বাঘ বিধবার হাত। হাত পাখা ঘুরে মমতা ছড়ায় স্যাঁতসেঁতে দাওয়ায়। Í


চুনা জেলেপাড়ার বাঘ বিধবা কমলা (বসা) এবং বিজয়া (দাঁড়ানো)














কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন