হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্তকে এনআইএ জেরা করতে পারবে

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যায় যুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে জেরা করার আবেদন জানিয়েছিল ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। বিধাননগর মহকুমা আদালতের বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দমদম সংশোধনাগারে গিয়ে তাদের জেরা করতে পারবে বলে বিচারক উল্লেখ করেছেন।
১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে ভারতে গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ পাহারায় আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফায়সাল হাদি হত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালতের কার্যক্রম শেষে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ফের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল দাবি করে, সে হাদিকে খুন করেনি। এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে সিসিটিভি ফুটেজে তো তাকেই দেখা যাচ্ছে। তখন হাদির খুনে অন্যতম অভিযুক্ত বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি যে আমি গুলি করেছি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’ এদিন বিচারক দুই জনকেই ১২ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩ এপ্রিল তাদের ‌মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সরকারি আইনজীবীদের সূত্রে জানানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ১৬ নম্বর ধারা এবং ১৮ নম্বর ধারা প্রয়োগ করার আবেদন করেছিল এসটিএফ। সেই আবেদনও এদিন বিচারক মঞ্জুর করেছেন।
গত ৭ মার্চ মধ্যরাতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে মারা যান।
এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তদন্তে ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের করা মামলার তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ।অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন। আর প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীর এবং তাদের পালাতে সহায়তায় অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে।
এদিকে শনিবার ওসমান হাদি হত্যা অভিযুক্তদের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহযোগিতার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুর থেকে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত দিয়েছেন আদালত। এ সময়কালে তাকে জেলে গিয়ে জেরা করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন