জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অপপ্রচারে গুরুত্ব না দিয়ে পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, জাতি যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ কেউ দেশে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। এসব অপপ্রচারে গুরুত্ব না দেয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ভোট আপনার অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। আপনার পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট প্রদান করুন। গোটা দেশবাসী সেটিই প্রত্যাশা করে। মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সহায় হোন।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে গতকাল মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, ড. মোশাররফ হোসেন এবং সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান প্রমুখ।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরেরও বেশি সময় স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করেছে। চব্বিশের আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। সব জায়গায় ভোটদানের সুন্দর পরিবেশ আমরা আশা করি।
তিনি বলেন, এ সময় উদ্বেগজনক কিছু ঘটনা ঘটছে। আমাদের প্রার্থী, নেতৃবৃন্দ, এজেন্ট এবং কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, অফিসগুলোতে হামলা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটের এই পরিবেশকে নষ্ট করতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং জনগণ যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারে, সেজন্য একদল সন্ত্রাসী চেষ্টা করছে। জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন। এ আসনে গত রাতে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের অফিসে হামলা হয়েছে। এ আসনে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। আমরা বিকাশ নম্বর ও আইডি কার্ড চাচ্ছি- এমন তথ্য দিয়ে সেখানে একটি লিফলেট ছড়ানো হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। জামায়াত আমীরসহ নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন করতে একদল লোক এসব অসৎ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করছে।
গতকাল পাবনা সদরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মাইকিং করা হয়েছে। কিছু লোকের নাম উল্লেখ করে তাদের ধরিয়ে দিতে বলা হয়েছে, যারা মূলত জামায়াতের এজেন্ট হবেন এবং নির্বাচনী কর্মী। পরবর্তীতে যখন আমরা পুলিশ এবং রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করি, তখন তারা বলেন আমরা কিছুই জানি না। এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করে জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার একটি ঘৃণ্য প্রয়াস চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনের প্রার্থীর ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দু’জনকে মারাত্মকভাবে আঘাত ও জখম করা হয়েছে। রাতে রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়েছে এবং থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার আগের দিন রাজনগরে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, এই ধরনের হামলা বারবার ঘটছে। একটি দলের পক্ষ থেকে এসব আক্রমণাত্মক হামলা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে তারা সাহস হারিয়েছে। জনগণের সমর্থন তারা পাবেন না। এজন্য এ ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

তিনি বলেন, বরগুনায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এজেন্ট ও নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। ভোটের সময় তিনি এটি বলতে পারেন না। সেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তা আছেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। আমাদের জানা মতে, তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মনে হচ্ছে প্রশাসনের একটি অংশ যেকোনো কারণে একটি দলের দিকে হেলে পড়েছে। একটি দলকে অন্যায়ভাবে ও অন্যায্যভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই অতীতে সাড়ে ১৫ বছর যারা এগুলো করেছেন, তারা অন্যায় করেছেন; যা গ্রহণযোগ্য হয়নি। গত সাড়ে ১৫-১৬ বছর যারা নির্বাচনে জড়িত ছিলেন, তাদেরকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে। এই নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা আছেন, তাদের আমরা অনুরোধ করবো জনরোষে আপনাদের সরে পড়তে হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই আপনারা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে যাবেন না। সঠিক ও যথার্থ দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অবস্থায় যদি একপেশে ভূমিকা পালন করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের ছেড়ে দেবে না।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতা আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি ঢাকা থেকে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নিয়ে একটি সাজানো নাটক করেছেন। তিনি (দায়িত্বশীল) তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, আমার ব্যবসার জন্য আমি যাতায়াত করি। ব্যাংক বন্ধ, আমাকে কিছু লেনদেন করতে হবে। এজন্য তার সঙ্গে কিছু নগদ টাকা ছিল।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সাপেক্ষে তিনি এই টাকা বহন করেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীম সামাদ বলেছেন, অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

বিমানবন্দরের মতো একটি রেস্ট্রিকটেড এরিয়ায় সেখানে একটি নাটক সাজানো হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে টাকা পরিবহন করার পরও বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য হীন চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একদল লোক বিভিন্ন ধরনের সাজানো ঘটনাগুলো দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সামগ্রিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি এটি সুস্থ ধারার রাজনীতি নয়। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

নির্বাচনের এই সময়ে এতগুলো ক্যাশ টাকা নিয়ে কেউ কি আসলে বিমানবন্দর পাঠাতে পারে কিনা জানতে চাইলে জুবায়ের বলেন, যেহেতু চলাফেরার জন্য এখন গাড়ি সীমিত। বিভিন্ন ধরনের চেক করে। বিভিন্ন ধরনের বিষয় আছে। এখানে তিনি মনে করেছেন যে, আমার জন্য এটা সেফ। এটা করতেই পারি। আমি আমার ক্যাশ বহন করবো সেটা প্লেনে না ট্রেনে, নাকি হেলিকপ্টারে- যেটা তো তার রাইট আছে। আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উদ্দিনের মুক্তি দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর এ নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা এই ঘটনায় জড়িত, কাজটা করেছেন- আমরা অবিলম্বে তাদের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা করার জন্য কথা বলছি। তাকে মুক্তি দেয়া, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তার পরিবারের কাছে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন