আউরুস সেনাটে আছে কী

দিল্লি কাঁপাচ্ছে পুতিনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাগাড়ি

আউরুস সেনাটে আছে কী

ফন্ট সাইজ:

ব্রিকস সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সঙ্গে থাকছেন আরও কয়েকটি দেশের প্রধান বা প্রতিনিধিরা।

তবে সবচেয়ে কড়া নজর থাকছে ওই তিন রাষ্ট্রপ্রধানের দিকে। তার মধ্যে আবার পুতিন নিয়ে এসেছেন তার ব্যক্তিগত গাড়ি আউরুস সেনাটে। ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি সবার নজর এখন ওই গাড়ির দিকে। থাকবে না-ই বা কেন! এই গাড়িকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গাড়ি। গোপনীয়তা বজায় রাখার গাড়ি। কেউ বলেন এটি হলো পুতিনের ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। তার সঙ্গে এসেছে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিশাল বহর। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষভাবে তৈরি প্রেসিডেন্টের বিমান। এই বিমানকে প্রায়ই ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বলা হয়। রয়েছে তার সুরক্ষিত আউরুস সেনাট লিমুজিনও। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রনেতাই বিদেশ সফরে নিজেদের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার করেন। তবে বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত নেতা পুতিন বিদেশ সফরে নিজের গাড়িও সঙ্গে নিয়ে যান। পুতিনের অরাস আউরুস সেনাট বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় ও সুরক্ষিত গাড়িগুলোর একটি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুতিনের বহু শত্রু তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়। তাই তার ব্যবহৃত গাড়িতেও থাকে সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা।
গত বছর চীনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুতিনের সঙ্গে এই গাড়িতে চড়ার পর আউরুস সেনাট আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পুতিনের গাড়িবহরে সাধারণত প্রায় দুই ডজন গাড়ি থাকে। তবে বিদেশ সফরে তার জন্য থাকে বুলেটপ্রুফ ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধী আউরুস সেনাট। ‘চাকার ওপর দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই গাড়িটি পূর্ণ আকারের বিলাসবহুল লিমুজিন। এটি তৈরি করেছে রুশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আউরুস মোটরস। আউরুস মোটরস রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যামি (এনএএমআই), সোলার্স জেএসসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তাওয়াজুন হোল্ডিংয়ের যৌথ উদ্যোগ।

২০১৮ সালে আউরুস সেনাট বাজারে আসে। এটি রাশিয়ার ‘কোরতেজ’ প্রকল্পের অংশ। সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য দেশীয় বিলাসবহুল ও সাঁজোয়া গাড়ি তৈরির লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। গাড়িটির নকশায় সোভিয়েত আমলের জিস-১১০ লিমুজিনের প্রভাব রয়েছে। আউরুস সেনাটের বেসামরিক সংস্করণও তৈরি করা হয়। বছরে সর্বোচ্চ ১২০টি গাড়ি উৎপাদনের সীমা রাখা হয়েছে। এর দাম প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ রুবল, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।

আউরুস সেনাটের বৈশিষ্ট্য: পুতিনের আউরুস সেনাটে রয়েছে ৪.৪ লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ভি-৮ ইঞ্জিনের সঙ্গে হাইব্রিড ব্যবস্থা। ইঞ্জিনটি প্রায় ৫৯৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৮৮০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এতে রয়েছে ৯-গতির স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৬৩০ মিলিমিটার, প্রস্থ ২ হাজার মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৭০০ মিলিমিটার। এর হুইলবেস ৩ হাজার ৩০০ মিলিমিটার। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে উঠতে সময় লাগে প্রায় ৯ সেকেন্ড। ভারী সাঁজোয়া এই গাড়িটি প্রেসিডেন্টের গাড়িবহরের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান পূরণ করে। এতে রয়েছে অ্যাকটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন পরিবর্তনের সতর্কবার্তা, ইলেকট্রনিক ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা।

গাড়িটির ভেতরেও রয়েছে বিলাসিতার ছাপ। উচ্চমানের চামড়ার আসন, কাঠের সাজসজ্জা এবং অত্যাধুনিক ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে এতে। চরম আবহাওয়ার মধ্যেও যাতে গাড়িটি কার্যকরভাবে চলতে পারে, সেভাবেই এর নকশা করা হয়েছে।