চীন-ভারত মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামলানোর বার্তা

ভারতের পথে শি জিনপিং

চীন-ভারত মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামলানোর বার্তা

ফন্ট সাইজ:

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ভারত ও চীন। শুধু দক্ষিণ এশিয়া কেন, বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চেও পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশ। এমন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের সরকার প্রধানের সাক্ষাৎ হচ্ছে ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফরে আসবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার অবসান হয়েছে। তিনি ভারত সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন ভারতের সঙ্গে মতপার্থক্যগুলো ‘যথাযথভাবে’ সামলাতে কাজ করবে।

ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং শুক্রবার রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, চীন ও ভারত দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা জোরদার এবং মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে সামলানোর ওপর গুরুত্ব দেবে বেইজিং। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং বলেন, চীন ও ভারত প্রেসিডেন্ট শি ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করছে। আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন শি জিনপিং। প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে তিনি শনিবার বেইজিং থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। ভারত সফরে এসে প্রায় সাত বছর পর দেশটিতে পা রাখছেন শি। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, কাজানে ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর টানা তৃতীয় বছরের মতো এবারও দুই নেতা মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন।

শু ফেইহং আরও বলেন, চীন ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মতপার্থক্যগুলোও যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে চায়। তার ভাষায়, দুই দেশকে ভালো প্রতিবেশী ও পরস্পরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে। এর আগে মোদি-শি বৈঠক প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে, সহযোগিতা জোরদার করবে এবং দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামলাবে।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এর পর কয়েক বছর ধরে সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভারত-চীন সম্পর্ক শীতল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলেছে। কাজান ও তিয়ানজিনে মোদির সঙ্গে শির বৈঠকের পর সেই প্রক্রিয়া আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি ইতিমধ্যে বেইজিং ছেড়েছেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। শি’র সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল অফিসের পরিচালক চাই ছি। রয়েছেন পলিটব্যুরোর সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও।

ভারতের সময় আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।