দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম চড়া। এর মধ্যে বৃষ্টির প্রভাবে আবারো বেড়েছে সবজির দাম। কাঁচামরিচ ও বরবটির দাম কেজিতে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা এবং শসার দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে কমেছে টমেটো ও পেঁপের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। মাছ ও মাংসের দাম চড়া থাকলেও তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে, দাম বাড়ানোর পরও বাজারে স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের সরবরাহ। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল। শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজারে নিত্যপণ্যের বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে বেশি দামেই ডিম ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। আগস্টের শুরুতে পণ্য দু’টির দাম বাড়ে; এরপর আর কমেনি। এখনো এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিমপাড়া মুরগিসহ ব্রয়লার মুরগি মারা যায়। পরে অনেক খামারি নতুন করে আর মুরগি পালন শুরু করেননি। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণেও খামারে মুরগি পালন কমেছে। এসব কারণে বাজারে ডিম-মুরগির দাম কিছুটা বেশি।
ওদিকে, সম্প্রতি সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা বাড়ানোর দাবি করলেও সরকার ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দেয়। এরপর গত ২রা সেপ্টেম্বর কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে। এই পরিস্থিতিতে চাহিদামতো তেল না দেয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন বিক্রেতারা। মুদি দোকানিরা বলছেন, অর্ডার দিয়েও তেল পেতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মগবাজার এলাকার মুদি দোকানি তাশরিফ বলেন, অর্ডার দিলেও তেল দেয় না কোম্পানি। দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। অভিযোগ জানিয়ে আরেক বিক্রেতা সালাহউদ্দিন বলেন, পর্যাপ্ত তেল তো দিচ্ছেই না, আবার লাভ দিচ্ছে একদম সীমিত। ১ লিটার তেল ১৯৮ টাকা কেনা, বিক্রি করতে হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। এ অবস্থায় তেল বিক্রি করাই মুশকিল হয়ে পড়ছে।
কাঁচা তরকারির বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকা, বরবটির দাম গত সপ্তাহে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে, গোল বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা এবং লম্বা বেগুন গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজি দামেই বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে শসার দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। তবে টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। পেঁপে বর্তমানে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে উভয় সবজির দাম ৮০ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে তা ৮০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পটোল। ধুন্দল ও চিচিঙ্গা গত সপ্তাহের মতো ৮০ টাকা করেই বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও টেংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।
বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচা তরকারির দাম সর্বদাই উঠানামা করে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই দাম বাড়তে কিংবা কমতে পারে। তবে এবার হঠাৎ বৃষ্টির ফলে কিছু কিছু সবজি ক্ষেতে নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবহন করতেও বাগড়ায় পড়তে হয়েছে। ফলে ক্ষেত থেকে খুচরা বাজারে আসতে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।
কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা সানাউল্লাহ খান বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেত ও বাজার থেকে সবজি আসার পরিমাণ কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। বর্তমানে বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। একই বাজারের বিক্রেতা খলিল বলেন, সরবরাহের ঘাটতির ফলে দাম বাড়ে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে সবজির দাম আবারো স্থিতিশীল হয়ে যাবে।
