নির্বাচন কমিশনের অতিসক্রিয়তা

মমতার অভিযোগ, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেরই প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে কোনও ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে কি? ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ একাধিক পুলিশ কর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিজিসহ একাধিক জেলার পুলিশ সুপারকেও রাতারাতি বদল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সরানো হয়েছে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজিকে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক বদলের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। কলকাতার দুই নির্বাচনী কর্মকর্তাকে (ডিইও)কেও বদল করেছে কমিশন।

বুধবার রাত পর্যন্ত এই অপসারণ প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপসারিত ১৯ জন আইপিএস অফিসারের মধ্যে ১৩ জনকে তামিলনাডু ও কেরলে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যাদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাদের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লিখেছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে বা কোনও মতামত না নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাকে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হতো। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই একজনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এবার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে যেভাবে টার্গেট করে এখানকার অফিসারদের বদলি করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজিপি, আইজিপিসহ পুলিশ প্রশাসনের অন্তত ৫০ জন সিনিয়র অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া জেলাশাসক, এসপিদেরও অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। এগুলো নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশে আসলে এগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। মমতার মতে, আমরা বর্তমানে যা দেখছি, তা কার্যত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং এক ঘোষণাহীন রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের ক্ষমতাসিন দলের ঘনিষ্ঠ যে সব অফিসারদের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ভর করে প্রশাসন পরিচালনা করতেন তাদেরকেই বেছে বেছে অপসারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতার আমলে যারা উপেক্ষিত হয়ে দূরে থেকে গিয়েছিলেন তাদেরকে তুলে এনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। অবশ্য নির্বাচন ঘোষণার পর প্রশাসনিক রদবদল কমিশন করতেই পারে।

শাসক দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, বিজেপির পরোক্ষ মদতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির উত্তর পর্যন্ত দেয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বরং নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে জ্ঞানেশ কুমার একের পর এক সিদ্ধান্ত কার্যকর করছেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট নেয়া হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। আর এই ভোটের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিজেপি নেতাদের দাবি মতো প্রতি দফায় ২৫০০ কোম্পানি অর্থাৎ প্রায় ২০হাজার আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানকে নিয়োগ করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রে নজরদারির জন্য এক বা একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার নির্দেশ জারি হয়েছে। ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককেও নিয়োগ করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন