সিলেটে ভোট উৎসবে শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

নীরবে হয়েছে টাকার খেলা। সংঘর্ষের সরঞ্জাম এনে মজুত রাখা। ভোটকেন্দ্রে প্রভাব ও দখলের চেষ্টা। সিলেটে সবই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর প্রমাণ গতকাল মিললো নগরের সুবহানীঘাটের মৌবনে। একটি বাসায় জমা রাখা হচ্ছে সংঘর্ষের সরঞ্জাম। এমন খবরে পুলিশ হয় সক্রিয়। পরে ঠিকই পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করেছে ওই সরঞ্জাম। সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী অভিযোগ করেছেন- প্রতিপক্ষরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এজন্য এ সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। এটি ভোটের দিনের জন্য অশনি সংকেত বলেও দাবি করেন তিনি। টাকার খেলার অভিযোগ করেছেন সিলেট-৬ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন- গ্রামাঞ্চলের ভোটারের কাছে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিয়ানীবাজারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের যে দাবি করা হয়েছিলো সেটিও প্রশাসন আমলে নেয়নি।

সিলেট-৪ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীও সীমান্ত এলাকার ভোটকেন্দ্র নিয়ে চিন্তিত। দুর্গম এলাকায় যাতে ব্যালট বাক্স অক্ষত থাকে সেজন্য তিনি সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়েছেন। সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চাকসু মামুন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও দখল হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। সেজন্য প্রশাসনের নজরদারী আরও বাড়াতে হবে। এই অবস্থায় অভিযোগ রয়েছে জামায়াতে ইসলামীরও। বিকালে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছেন নগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম। পরে বেরিয়ে এসে তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- কেন্দ্রের এজেন্টদের আগের দিন থেকেই হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে ভোটের পরিবেশে শঙ্কা থাকছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রার্থী ও সমন্বয়কদের মধ্যে যখন মুখোমুখি অবস্থা তখন সিলেটের প্রশাসন হাঁটছে ভিন্ন পথে। কারও চোখের দিকে তাকাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম।

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কার্যালয়ে বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জানিয়েছেন- সব অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দুপুরে তিনি সিলেট মহিলা কলেজে সাংবাদিকদের সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি বলেন- সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের ১০১৬টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুধু কেন্দ্রেই নয়, পার্শ্ববর্তী বাজারগুলোতেও স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা প্রশাসনের লোকজন মনিটরিং করছেন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন- ৮ কিলোমিটারের ভেতরে সেনাবাহিনীর টহলে কিছুটা সমস্যা আছে। সে কারণে বিজিবি মোতায়েন থাকবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সেনাবাহিনীও মুভ করবে। র‌্যাব-৯’র অধিনায়ক লে. কর্নেল তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন- ভোটকেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে যারা গোলযোগ করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে থাকবে র‌্যাব। এতে সব বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে বলে জানান- তিনি।

ভোটে মুখোমুখি যারা: সিলেট-১ আসনে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। সিলেট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে লড়ছেন ১১ দলের প্রার্থী ও খেলাফত নেতা মুনতাসির আলী। সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ১১ দলের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু। সিলেট-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে লড়ছেন জামায়াত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। সিলেট-৫ আসনে এক স্বতন্ত্র সহ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩ প্রার্থী। এরা হচ্ছেন- জমিয়ত সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বহিষ্কৃৃত বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন ও ১১ দলের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান। সিলেট-৬ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী এমরান চৌধুরীর মুখোমুখি হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন