সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ১

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অন্তঃসত্ত্ব্বা নারীসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্তত ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি’র কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়সাল। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। রেশমা আক্তার (২০) নামে আরেকজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বরিশালের শশীপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আর নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চলমান রয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।

বিষয়টি নিয়ে সদরঘাট নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুন বলেন, টার্মিনালে অবস্থান করা একটি লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। এসময় পেছন থেকে আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সদরঘাট পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টার্মিনালে অবস্থান করা একটি লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। এসময় পেছন থেকে আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত দু’জনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পল্টুনে তিল ধরার ঠাঁই নেই এমন অবস্থা বিরাজ করে। ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীবন্দর এলাকা জুড়ে মানুষ আর মানুষ। আসন না পেয়ে লঞ্চের ডেক, করিডোর পেরিয়ে শেষ ভরসা ছাদ। ঝুঁকি জেনেও সেখানেই বসে, শুয়ে গ্রামে ফিরছেন হাজারো যাত্রী। ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল করছে। ডেক ভরে গেলে ছাদে উঠে পড়ছেন অনেকে। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ আবার একাই-শুধু বাড়ি ফেরার তাগিদে।

সরজমিন দেখা যায়, লঞ্চ ছাড়ার আগেই ভিড়ে নড়াচড়া করা দায়। অনেকেই বলেন, টিকিট না পেয়ে বা দেরিতে এসে বাধ্য হয়েই ছাদে উঠছেন। ঘরমুখো এক যাত্রী জানান, ভিতরে জায়গা পাইনি, তাই ছাদেই বসে যাচ্ছি। না গেলে ঈদ করা হবে না। এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত লঞ্চ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভিড় কমাতে বিকল্প ঘাট থেকেও লঞ্চ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যাত্রীর চাপ এতটাই বেশি যেকোনো ব্যবস্থাই যথেষ্ট হচ্ছে না। অবরোধ-পরবর্তী সময়েও লঞ্চঘাটে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে। ছাদে ভ্রমণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। কিন্তু জীবনের ঝুঁঁকি আর পরিবারের টান-এই দুইয়ের মাঝে পড়ে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন বিপজ্জনক পথ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এই ভিড়। আর সেইসঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগও।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন