ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি- প্রায় সব খেলাধুলাতেই রেফারির প্রয়োজন। মাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও বেশিরভাগ সময় তারাই থাকেন অবহেলিত এবং সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। ফেডারেশন বা সংস্থা থেকে রেফারিদের জন্য সম্মানী থাকলেও অনেক সময় দেখা যায় তা পাওনা খাতাতেই থেকে যায় বছরের পর বছর। রেফারি কিংবা আম্পায়াররা যাতে আরেকটু সুযোগ-সুবিধা পান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানী পান সেজন্য তাদেরকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আওতায় আনতে পরিকল্পনা করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন আমিনুল হক। এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানেই জানান সরকারের এই পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন,‘প্রতিটি সেক্টরে, গেমসে কিন্তু রেফারির প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা ক্রীড়া পরিষদের আওতায় নেই। আমাদের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি যে আমরা পরবর্তীতে সকল রেফারিদেরকে ক্রীড়া পরিষদের আওতায় এনে কীভাবে তাদেরকে একটি কমিউনিকেশনের মাধ্যমে তাদের আরও বেশি ইনভলভমেন্ট বাড়াতে পারি, তাদের যে সুযোগ-সুবিধা দরকার সেগুলো আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ দিতে পারি, সে বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এটা এখনো ফাইনাল পর্যায়ের না।’ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রেফারিদের গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা শুরু করেছি। পরবর্তীতে রেফারিদের সঙ্গে বসতে হবে। আমাদের ক্রীড়া পরিষদের যে নীতিমালা রয়েছে, কিছু জায়গা হয়তোবা পরিবর্তন করতে হবে। সেগুলো পরিবর্তন করে আমরা চাই যেন রেফারিরাও আমাদের একটি অংশ হয়। তাদেরকেও আমাদের ভিতরে নিয়ে আসা হবে।’ এদিকে, আগামী ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যে কারণে এখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া পরিষদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারা। সরকারের স্পোর্টসভিত্তিক এই কার্যক্রমের মিটিং শেষে এদিন হঠাৎ স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন করেন বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় সুইমিংপুলে গ্যাস সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্কোরবোর্ড অকেজো ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে। সেদিকে নজর দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। নতুন কুড়ি নিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৭টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে সিলেট থেকে এই যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাগুলো প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি। এছাড়া বিকেএসপির মাধ্যমে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা এবং সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও কর্মঠ জাতি গঠনে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’
আম্পায়ার রেফারিদের ক্রীড়া পরিষদের আওতায় আনবে সরকার
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৭ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
