বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে দীর্ঘদিন ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলেন টপ অর্ডারে। নতুন বল ও পাওয়ার প্লেতে খেলার দক্ষতা- সবই ছিল নখদর্পণে। তবে হুট করে বদলে গেছে ভূমিকা। ওয়ানডেতে এখন লিটন কুমার দাসের কাঁধে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব। টপঅর্ডার থেকে মিডল অর্ডারে থিতু হওয়া সহজ কাজ না হলেও মানিয়ে নিচ্ছেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দলের চাহিদা মতো ক্রিকেটই উপহার দেন ডানহাতি এ ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। সাকিব আল হাসান জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায়। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও সাবেক হয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে মিডল অর্ডার নিয়ে চিন্তায় বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ইনিংস বড় করতে পারছে না টাইগাররা। এই সমস্যা উত্তরণে অভিজ্ঞ লিটন দাসের প্রতি আস্থা রাখে টিম ম্যানেজম্যান্ট। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মিডল অর্ডারের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন লিটন। সেই পরীক্ষা খারাপ করেননি। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৩ রানে অপরাজিত থাকার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ ব্যাটিং উপহার দেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৩২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৪৩ রান। এমন লক্ষ্য তাড়ায় উইকেটে টিকে থাকা অব্দি টাইগারদের ম্যাচে রেখেছিলেন লিটন। মাজ সাদাকাতের বলে সাজঘরে ফেরার আগে ৩৩ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসে ৪টি বাউন্ডারি ও ২টি ছক্কা মারেন। নতুন পজিশনে মানিয়ে নেয়ার প্রমাণ সেই ম্যাচেই দিয়ে রাখেন। সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে ৫১ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন। পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফের বলে সাজঘরে ফেরার আগে ১টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন। টানা দুই ওয়ানডেতে চল্লিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে মিডল অর্ডারে খেলার সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন লিটন। যদিও দীর্ঘদিন ধরে
টপঅর্ডারে, বিশেষ করে ওপেনিংয়ে খেলা লিটনের জন্য চ্যালেঞ্জটা ভিন্নরকম। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের পর তা অকপটে স্বীকার করেন দেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। হারের পর একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লিটন বলেন, ‘ওপেনিংয়ে নামলে আপনি জানেন প্যাটার্নটা কেমন হবে। দুই প্রান্ত থেকে নতুন বল আসবে, মাঝে মাঝে শুরুতে স্পিনার আসতে পারে-সবই জানা থাকে।’ মিডল অর্ডারের গল্পটা ভিন্ন। সেখানে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি। ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটার বলেন, ‘মিডল অর্ডার ব্যাটারদের জন্য কাজটা বেশি কঠিন । কারণ আপনি পরিস্থিতি জানেন না। কখনো ৮ রানে ২ উইকেট পড়ে গেলে দ্রুত নামতে হয়, আবার কখনো ৩০ ওভারের পর নামার সুযোগ আসে।’ এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজের মানসিকতা ও প্রস্তুতিতেও বদল আনছেন লিটন। অনুশীলনে এখন বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।‘লিটন বলেন, ‘আমি দুইভাবেই মানিয়ে নেয়ার ও অনুশীলনের চেষ্টা করছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারি।’ আগেও মিডল অর্ডারে খেলার অভিজ্ঞতা আছে লিটনের। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবার চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। সেই ম্যাচে ৩৪ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হন। এরপর ২০১৯ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামেন লিটন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৬৯ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে খেলেন ২০ রানের ইনিংস। এরপর ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে একই পজিশনে ২২ ও ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। বিশ্বকাপের পর আবারো টপ অর্ডারে ফেরত আসেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেপিয়ারে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নামেন তিনি।
‘মিডল অর্ডার’ পরীক্ষায় মানিয়ে নিচ্ছেন লিটন
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৬ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
