তাওহীদ হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট। ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বোলারদের শাসন করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ফিফটিতে বড় লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। এখন শেষ দিনে জয় তো দূরের কথা, ম্যাচ বাঁচানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকদের সামনে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকা ক্যারিবীয়রা এখন এগিয়ে ৩১৫ রানে। হাতে রয়েছে আরও সাত উইকেট। ১৪০ রানে অপরাজিত আছেন কাভেম হজ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু অপরাজিত রয়েছেন ২০ রানে।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলা। আগের দিন ৪ ওভার ব্যাট করে ৭ রান তুলেছিল সফরকারীরা। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই উল্টো বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা। দু’জনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে দ্রুতই প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৫ রান যোগ করেন তারা। শেষ পর্যন্ত ৩৬ রান করা দা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ৬১ রান করা কিংকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্লিপে তার ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
মধ্যাহ্ন বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১২৮ রান। প্রথম সেশনে দুই উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে সেই স্বস্তিও কেড়ে নেন হজ ও অভিষিক্ত উইকহ্যাম। দু’জন মিলে গড়ে তোলেন দুর্দান্ত এক জুটি। পেস কিংবা স্পিন কোনো আক্রমণেই তাদের আটকে রাখা
যায়নি।
দ্বিতীয় সেশনে বিনা উইকেটে আরও ১৩১ রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি তুলে নেন উইকহ্যাম। প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা এই ব্যাটসম্যান অভিষেক টেস্টেই দুই ইনিংসে অর্ধশতকের কীর্তি গড়েন। ১৯৭৮ সালের পর প্রথম ক্যারিবীয় ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে ফিফটি করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। অন্য প্রান্তে দ্রুত সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন
হজ। চা-বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড পৌঁছে যায় ২২৯ রানে। বিরতির পর সুইপ শটে বাউন্ডারি মেরে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হজ। এরপরও থামেনি তার ব্যাট। উইকহ্যামের সঙ্গে তার জুটি জমে ওঠে আরও। শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম।
৭৮ রান করা উইকহ্যামকে ফিরিয়ে দিনের তৃতীয় সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে গেছে সফরকারীদের হাতে। উইকহ্যাম ফিরলেও হজকে থামানো যায়নি। নতুন ব্যাটসম্যান আমির জাঙ্গুকে নিয়ে দিনের বাকি সময় নির্বিঘ্নে পার করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ রান করা জাঙ্গু দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ২০ রানে। আর হজ দিন শেষ করেন ১৪০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ১১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন দু’টি উইকেট। মিরাজের শিকার একটি, খরচ ৫৮ রান। চতুর্থ দিনের ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তাতে শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ।
টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫। ২০০৯ সালে গ্রেনাডায় এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এসেছিল সেই ঐতিহাসিক জয়। অথচ সিলেটে ক্যারিবীয়দের লিড এখনই ৩১৫ রান। পঞ্চম দিন সকালে হয়তো আরও বেশ কিছুক্ষণ ব্যাট করবে তারা। এরপর ইনিংস ঘোষণা করলেও অতি মানবীয় কিছু না ঘটলে টেস্ট ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র-ই হতে পারে। যদিও বাংলাদেশের নড়বড়ে ব্যাটিং নিয়ে আগাম মন্তব্য করা কঠিন। কারণ শেষ দিনে এক-দুই সেশনেও অলআউট হয়ে যেতে পারে টাইগার ব্যাটাররা। তখন ম্যাচ ড্র নয়, উল্টো হারতে পারে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে এরই মধ্যে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
