আড়াইশ’ না হলেও আক্ষেপ নেই হৃদয়ের

আড়াইশ’ না হলেও আক্ষেপ নেই হৃদয়ের

ফন্ট সাইজ:

সিলেট টেস্টে রেকর্ডময় ডাবল সেঞ্চুরির পর ক্লান্তির কারণে তৃতীয় দিনের সংবাদ সম্মেলনে আসেননি তাওহীদ হৃদয়। গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষার অবসান হয় চতুর্থ দিনে। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২৪২ রান করা হৃদয় এদিন মন খুলে কথা বলেন। তাসকিন আহমেদ শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট না হলে সাদা পোশাকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আড়াইশ’ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু সেটি হয়নি। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে? হৃদয়ের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আমার এসব নিয়ে আক্ষেপ নেই।’ আক্ষেপ না থাকারই কথা। কারণ, এই হৃদয়ই কিছুদিন আগে মিরপুর টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে আক্রমণাত্মক শট খেলে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কেউ কেউ টেস্ট দলে তার জায়গা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতে।

সিলেটে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে শুধু বিপর্যয় থেকেই উদ্ধার করেননি, এনে দিয়েছেন ৩০ রানের লিডও। খেলেছেন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৪২ রানের ইনিংস। দেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ। এমন অবিশ্বাস্য ইনিংস গড়ার পথে সতীর্থদের অবদানও ভুলছেন না হৃদয়। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অষ্টম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটি। এরপর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে নবম উইকেটে যোগ করেন আরও ৮৫ রান। এই মাঠে নবম উইকেটে এটিও সর্বোচ্চ জুটি। বড় ইনিংসের পেছনে দুই সতীর্থের অবদানকে সামনে এনে হৃদয় বলেন, ‘সেট ব্যাটার হিসেবে চেষ্টা করেছি ওদের কাছ থেকে যতটুকু নেয়া যায়, দুইটা কথা বলে হোক কিংবা পরিকল্পনা দিয়ে হোক। যেভাবে তারা ব্যাট করেছে, আউটস্ট্যান্ডিং ছিল। তাদের জন্যই দল এতদূর এসেছে।

যেভাবে চাপ সামলেছে, দু’জনের কাছ থেকেই অসাধারণ এফোর্ট ছিল। দু’জন আগে থেকেই ভালো ব্যাটিং করে। টেস্টে অনেক সময় এমন হয়, রানের চাপ থাকে না। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়েছে।’
সিলেটে হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজ। প্রথম ইনিংসে ১১টি ছক্কা মেরেছেন তিনি, যা এক টেস্ট ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। তার ২৪২ রানের মধ্যে ১৫৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। তবে পরিকল্পনা করে শুধু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন, বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। হৃদয় বলেন, ‘অ্যাটাক করে খেলবো, বিষয়টা এমন নয়। যেটা প্রয়োজন, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করি। দলের পরিস্থিতি কী দাবি করছিল, সেটাই ভেবেছি। অনেক ফিল্ডার বাউন্ডারিতে ছিল। তখন চেষ্টা করেছি ওপর দিয়ে মারতে। চেষ্টা করেছি এবং সেটি কাজে লেগেছে। কিছু সময় কাউন্টার অ্যাটাক ছাড়া পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায় থাকে না। তাই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে আমাদের কিছু না কিছু কাউন্টার অ্যাটাক করা উচিত।’ এদিকে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের চাপে পড়েছে। চতুর্থ দিন শেষে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রান।

উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। তাই বড় লক্ষ্য তাড়া করেও ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখছেন হৃদয়। তার বিশ্বাস, শুরুটা ভালো করতে পারলে ৩৫০ রানও অসম্ভব নয়। ২৪২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসের পরও ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে পড়ে নেই হৃদয়। বরং তার চোখ এখন দলের জয়ের দিকে। আড়াইশ’ ছোঁয়া হয়নি, তাতে আক্ষেপ নেই; এখন অপেক্ষা সেই ডাবল সেঞ্চুরিকে স্মরণীয় করে রাখার মতো একটি জয়ের।