সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দলের আক্রমণভাগে ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে খেলিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবে বিশ্বনাথের পারফরম্যান্সে সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। তার মতে, একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাব থাকলে আক্রমণভাগে লড়াইটা কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা পরখ করে নিতে গতকাল মাঠে হাজির হয়েছিলেন ডুলি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারায় পাকিস্তান। রাতে মুখোমুখি হয় ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ১১ই নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা যে সহজ প্রতিপক্ষ নয়, সেটি ভালোই জানা ডুলির। দলটির স্কোয়াডে রয়েছেন ১৯ জন বংশোদ্ভূত ফুটবলার। তাদের অনেকেই অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও সাইপ্রাসের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন।
এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিততে হলে আক্রমণভাগে আরও ধারালো হতে হবে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে গোল করার দায়িত্ব নিতে হবে ফরোয়ার্ডদের। নম্বর নাইন হিসেবে একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডুলি বলেন, ‘নম্বর নাইন না থাকলে লড়াইটা কঠিন হয়ে পড়ে। আপনি কী করতে চান? আপনার এমন একজন খেলোয়াড় দরকার, যার মধ্যে গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি কিংবা গোল করার সুনিপুণ দক্ষতা আছে। প্রতিপক্ষকে আঘাত করার মানসিকতা থাকতে হবে, আক্রমণাত্মক হতে হবে, চাপ সৃষ্টি করতে হবে। শারীরিকভাবেও শক্ত হতে হবে। কারণ এ ধরনের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতে হলে আপনাকে শক্তিশালী হতে হবে।
নতুবা গোলকিপার সামনে এগিয়ে আসবে। আপনি যদি ওই জায়গায় যেতে ভয় পান, তাহলে সেখানে কাউকে রাখারই দরকার নেই।’ ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে ৬৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন বিশ্বনাথ। এ সময়ে কয়েকটি গোলের সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। তবে তার অবস্থান নেয়া, শারীরিক উপস্থিতি ও লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট ডুলি। কোচের মতে, বিশ্বনাথের সামনে আসা সুযোগগুলোও খুব একটা সহজ ছিল না। বিশ্বনাথের সুযোগ নষ্টের ব্যাখ্যায় ডুলি বলেন, ‘বুঝতেই পারছেন, তার সামনে যে সুযোগগুলো এসেছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্ভাগ্য ছিল। একবার তাকে অনেকদূর পর্যন্ত পা বাড়াতে হয়েছিল।
ঠিকমতো পজিশন নিতে পারেনি, তবে সে সেখানে উপস্থিত ছিল।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশের আক্রমণভাগে যোগ হচ্ছে নতুন শক্তি। ওই ম্যাচ দিয়েই স্কোয়াডে ফিরছেন মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী ও ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ। তাদের ফেরায় আক্রমণভাগে বিকল্প বাড়বে ডুলির হাতে। তবে প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাব পূরণে বিশ্বনাথকে আবারো সামনে দেখা যাবে কি না- সেটিই এখন দেখার বিষয়।
