সিলেটে মধ্যরাতে কাজ তদারকিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটে মধ্যরাতে কাজ তদারকিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরে চলছে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের হাত ধরেই চলছে এ কাজ। নগরকে বদলে দিতে চান মন্ত্রী। সঙ্গে সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। চলমান কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সিটি প্রশাসক। ঢাকায় থাকায় এতবেশি সময় দিতে পারেন না বাণিজ্যমন্ত্রী। শুক্রবার পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিলেটে আসেন মন্ত্রী। এরপরও নানা অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। মধ্যরাতে সিটি প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে নামলেন রাস্তায়। চলমান উন্নয়ন কাজ তিনি ঘুরে দেখলেন। কথা বলেছেন স্থানীয়দের সঙ্গেও। তবে কাজের মান যাতে বজায় থাকে সে নির্দেশনা রয়েছে তার। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাত ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রী নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সিসিকের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মধ্যরাতে মন্ত্রীর এমন তদারকি কার্যক্রম স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যান নগরীর কুশিঘাট এলাকা।

সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির এসফল্ট ব্যবহার করে চলমান সড়ক সংস্কার ও কার্পেটিং কাজের প্রতিটি দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার পাশাপাশি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি কাজের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই মানের সঙ্গে আপস করা চলবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার টেকসই ও জনকল্যাণমুখী উন্নয়নে বিশ্বাসী। জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দেশ জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এবং নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে খুব শিগগিরই সিলেটে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরীর সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, সিলেটকে আধুনিক পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিসিক বদ্ধপরিকর। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আমরা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মানসম্মত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। রাতের বেলায় এই আকস্মিক পরিদর্শন কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে কুশিঘাট এলাকার কাজ পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী নগরীর উপ-শহরে যান। সেখানে এসফল্ট দিয়ে সম্পন্ন হওয়া নবনির্মিত সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল ও রোড মার্কিংয়ের চলমান কাজ ঘুরে দেখেন। রাতের আলোয় রোড মার্কিংয়ের নিখুঁত ও মানসম্মত কাজ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নগরবাসীর যাতায়াত নিরাপদ করতে এ ধরনের কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। গভীর রাতের এই আকস্মিক পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রজি উদ্দিন খান ও শামসুল হক পাটোয়ারী, নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেবসহ সিসিকের বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অস্থিরতায় বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে না: পোশাক শিল্পে কয়েকদিনের অস্থিরতায় বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মন্ত্রী জানান, কোনো অস্থিরতাই কাম্য নয়। কারণ একটি অস্থিরতা নতুন আরেকটি অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তবে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। তাই এই কয়েকদিনের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ দু’পা পিছিয়ে বা এগিয়ে যাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থলবন্দরের বাণিজ্য বাড়াতে ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশকে উদ্যোগী হতে হবে। অপর একটি অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি বিকাশের বড় অন্তরায় অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্যতম পূর্বশর্ত।