জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে থানার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে দলটির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুইপক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দু’টি থানার সামনের সড়কে মুখোমুখি হলে প্রথমে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শফিকুর রহমান ও সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জুলফিকার চৌধুরী রানা, মোহাম্মদ আলী, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা ও ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদারসহ নেতাকর্মীরা।
অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক, আজিজুর রহমান, আজাদ হোসেন বাবলু, মাসুম মাহমুদ তালুকদার এবং সদস্য এমদাদুল হক আফিন্দী, এডভোকেট শাহীনূর রহমান শাহীন, ইকবাল হাসান, ফরিদ মিয়া তালুকদার, আলী আক্কাস মুরাদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুর রহমান হিরন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওয়াহিদুর রহমানসহ নেতাকর্মীরা।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন- জুবায়ের আহমদ (২৯), জাহাঙ্গীর মিয়া (৩০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের কয়েল মিয়া (৩৮), শোয়াব আলী (৬১), জাহাঙ্গীর আলম (৩০), সানোয়ার হোসেন (৪৫), সাজেদা আক্তার (২৪), ফারুক আহমদ (৩৫), দ্বীন ইসলাম স্বপন (২৯), আশরাফ উদ্দিন (৪৯), আব্দুল মোশাব্বির (৩০), মো. সামাউল (৪০), কামাল হোসেন (৭৫) এবং মিজানুর রহমান (৪২)। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়জুর রহমান বলেন, শনিবার দুপুরে বিএনপি’র ১২ জন নেতাকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি’র দুইপক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দু’টি থানার সামনের সড়কে এলে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও এমপি তাৎক্ষণিক তাহিরপুর থেকে তার কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
