মহম্মদপুরে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পরিবারের দাবি ‘হত্যা’

মহম্মদপুরে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পরিবারের দাবি ‘হত্যা’

ফন্ট সাইজ:

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাহাতপুর এলাকায় প্রকাশ পোদ্দার (৫৮) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ির পাশে পানের বরজের কাছে থাকা একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রকাশ পোদ্দার রাহাতপুর এলাকার সুনীল পোদ্দারের ছেলে। তার পরিবারের দাবি- জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন নিহত প্রকাশের মেয়ে অথৈ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার প্রকাশ বাড়ি থেকে বের হয়ে পানের বরজে কাজ করার জন্য যান। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের পানের বরজের পাশে একটি গাছে রশির সঙ্গে তার লাশ ঝুলে থাকতে দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। নিহত প্রকাশ পোদ্দারের মা আশা পোদ্দার ও স্ত্রী শিপ্রা পোদ্দার বলেন, রাজাপুর কাঞ্চন নামের এক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করা জমি ভুল করে অন্য নামে রেকর্ড হয় সেই রেকর্ডটি আমাদের ঠিক করে দিতে বলে এবং এসব বিষয় নিয়েই মূলত কাঞ্চনের সঙ্গে প্রকাশ পোদ্দারের বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনাটি নিয়ে কাঞ্চন একাধিকবার প্রকাশ পোদ্দারকে মারধরের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। কয়েকদিন আগেও কাঞ্চন বাড়িতে এসে প্রকাশ পোদ্দারকে হুমকি-ধমকিও দিয়ে যান এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার কথাও বলেন। গত দুইদিন আগেও এই কাঞ্চন বাজারে যাওয়ার সময়ে প্রকাশকে মারতে উদ্যত হয়। এরপরই তার লাশ উদ্ধার হলো। তারা বলেন, প্রকাশ পোদ্দার আত্মহত্যা করার মতো লোক না। তাকে এই কাঞ্চনই তার দলবল নিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। প্রকাশ পোদ্দারের মেয়ে অথৈ রানী পোদ্দার বলেন, আমার বাবা ফাঁস নিতে পারেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মাগুরা পুলিশ সুপার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমরা খুব সাধারণ মানুষ। কখনো আমাদের দ্বারা কারোর ক্ষতি হয়নি। সেই আমার বাবাকেই এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এতটুকুই দাবি- আমি যেন আমার বাবার মৃত্যুর সঠিক বিচার পাই। এদিকে জমাজমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে অভিযুক্ত কাঞ্চন বলেন, আমি প্রকাশ পোদ্দার বা তার পরিবারের কাউকে কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি দেয়নি। আমার যে জমি নিয়ে ঝামেলা সেটি মূলত ভুলক্রমে অন্য একজনের নামে রেকর্ড হইছে। রেকর্ডটা সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা চলছিল এবং সেটি ঠিক করেও দিতে চেয়েছিল প্রকাশ। তবে এরই মধ্যে জানতে পারি প্রকাশ পোদ্দারের লাশ উদ্ধার হয়েছে।