‘হলোকাস্টের দায় অস্বীকারকারী মুসলিম অভিবাসীদের জার্মানি ছাড়তে হবে’

‘হলোকাস্টের দায় অস্বীকারকারী মুসলিম অভিবাসীদের জার্মানি ছাড়তে হবে’

ফন্ট সাইজ:

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসে বলেছেন, হলোকাস্টের জন্য জার্মানির ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করতে অস্বীকারকারী মুসলিম অভিবাসীদের আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে প্রেসে-এজেন্ট-এর (ডিপিএ) বরাতে জানা গেছে, এ বছর ম্যাকাবিয়া গেমসে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করা ইহুদি ক্রীড়াবিদদের সম্মানে বার্লিনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মের্ৎসে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের এই ঐতিহাসিক দায় ইসলামী দেশগুলো থেকে জার্মানিতে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, আর যে কেউ এই বিষয়টি মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তাকে আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাকাবিয়া গেমসে অংশ নেয়া একটি বাস্কেটবল দলের কোচ চ্যান্সেলরকে জানিয়েছিলেন, তার দলের ইহুদি ক্রীড়াবিদরা জনসমক্ষে দলের জ্যাকেট পরতে ভয় পাচ্ছেন। ওই জ্যাকেটে ডেভিডের তারকা চিহ্ন রয়েছে। এরপর মের্ৎসে জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ফন ভাইৎসেকারের ১৯৮৫ সালে বুন্ডেসটাগে দেয়া এক ভাষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ওই ভাষণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬০ লাখ ইহুদিকে গণহত্যায় জার্মানির ভূমিকা স্বীকার করা এবং এর মুখোমুখি হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছিল। ফন ভাইৎসেকার বলেছিলেন, তরুণরা হলোকাস্টের জন্য দায়ী ছিল না, তবে এর উত্তরাধিকারের দায় তাদের রয়েছে।

তিনি বলেন, আর এই বিষয়টি পুরো জার্মান সমাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, ওই বক্তব্যকে তিনি পাথরে খোদাই করা সত্য বলে মনে করেন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর আমি এর সঙ্গে যোগ করতে চাই, জার্মানিতে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে ইহুদিবিদ্বেষের উচ্চমাত্রা অব্যাহত রয়েছে। জার্মানির ইহুদিবিদ্বেষবিষয়ক গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ বিভাগের ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন (রিয়াস) চলতি বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বার্লিনে ইহুদিবিদ্বেষী ২ হাজার ১৯৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জার্মানির একজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, ইহুদি জীবন এখন এমন এক হুমকির মুখে রয়েছে, যা হলোকাস্টের পর যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ। প্রতিবেদনে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছর ২ হাজার ৫২১টি ঘটনার তুলনায় ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা এখনো দ্বিগুণেরও বেশি।