‘সবচেয়ে বাজে’ দলকে রুখতে পারবে তো লিভারপুল!

‘সবচেয়ে বাজে’ দলকে রুখতে পারবে তো লিভারপুল!

ফন্ট সাইজ:

২৭শে এপ্রিল, ২০২৫। অ্যানফিল্ডে সেই স্মরণীয় রাতটির কথা লিভারপুল ভক্তদের এখনও মনে আছে হয়তো। ৫-১ গোলে টটেনহ্যাম হটস্পারকে গুড়িয়ে চার ম্যাচ বাকি থাকতেই যৌথভাবে রেকর্ড ২০তম লীগ শিরোপা নিশ্চিত করে অলরেডরা। প্রায় এক বছর পর সেই অ্যানফিল্ডে আসছে স্পার্সরা। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। গতবারের দাপুটে চ্যাম্পিয়নরা এবার লড়ছে অন্তত শীর্ষ চারে থাকার জন্য। অন্যদিকে, গতবারের মতো এবারও স্পার্সদের অবস্থা একদমই শোচনীয়। গত মৌসুমে একটুর জন্য অবনমন থেকে বেঁচে যাওয়া ক্লাবটি এবারও ঘোরাফেরা করছে সে অঞ্চলেই। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত সাড়ে ১০টায়। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রিমিয়ার লীগের সবচেয়ে বাজে ফর্মে থাকা দলটি স্পার্স। শেষ ৬ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ স্রেফ ১ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মৌসুমের দশম হারের তেতো স্বাদ এড়াতে মরিয়া লিভারপুল। আর্নে স্লটের অধীনে অলরেডদের চলতি মৌসুমটা মিশ্র অভিজ্ঞতার। গতবার ভক্তদের সামনে শিরোপা উল্লাসে মাতলেও, এবারের চিত্র ভিন্ন। অন্তত আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লীগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আজ তাদের জন্য জয় অপরিহার্য। যদিও শেষ দুই ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি শিরোপাধারীরা। গত ৩রা মার্চ উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের কাছে শেষ মুহূর্তে ১-০ গোলের হারে স্লট শিষ্যরা। পরে চ্যাম্পিয়নস লীগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে তুরস্কে গ্যালাতাসারাইয়ের মাঠে থেকেও তারা ফেরে একই স্কোরলাইনের হার নিয়ে। তবে আশার বানী হলো, স্পার্সদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতেই জিতেছে অলরেডরা। তবুও ম্যাচটিকে সামনে রেখে সতর্ক থাকছেন স্লট। তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমের সেই ৫-১ গোলের জয় এখন শুধুই ইতিহাস। টটেনহ্যাম বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। এমন দল সবসময়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আমাদের পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে, যাতে ঘরের মাঠে কোনো পয়েন্ট না হারাই।’ এদিকে, স্পার্সদের জন্য বর্তমান সময়টা তো লিভারপুলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি খারাপ। নতুন কোচ ইগর টুডোর দায়িত্ব নিয়ে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি গুনেছেন। প্রথম চার ম্যাচ হেরে অনাকাঙ্‌ক্িষত রেকর্ড গড়া এ কোচের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দলের চোট তালিকা। চ্যাম্পিয়নস লীগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৫-২ গোলে হারের রাতে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও জোয়াও পালিনহা মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সফরকারীরা মিকি ভ্যান দে ভেনকেও পাচ্ছে না। মোহাম্মদ কুদুস, জেমস ম্যাডিসন এবং রদ্রিগো বেন্তাঙ্কুরসহ মোট ১৩ জন নিয়মিত খেলোয়াড়কে ছাড়াই অ্যানফিল্ডে নামতে হচ্ছে তাদের। এমন জীর্ণ একাদশ নিয়ে শক্তিশালী লিভারপুলকে স্পার্স কিভাবে রুখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মূল শিষ্যদের অবর্তমানে টুডোর কিছুটা হতাশ থাকলেও লড়াইয়ের ঘোষণাই দিয়ে রাখলেন তিনি। স্পার্স বস বলেন, ‘আমাদের ১৩ জন খেলোয়াড় মাঠের বাইরে। এটি যেকোনো দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন। তবে অ্যানফিল্ডে আমরা স্রেফ আত্মসমর্পণ করতে আসিনি। এটি তরুণদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার এবং ক্লাবের সম্মান রক্ষার বড় মঞ্চ।’ আজকের স্বাগতিকদের শিবিরে সুখবর হলো, গোলকিপার অ্যালিসন বেকার ও ফেদেরিকো চিয়েসা দলে ফিরতে পারেন। তবে আলেকজান্ডার ইসাক এবং কনর ব্র্যাডলিদের এখনই মাঠে ফেরা হচ্ছে না। চ্যাম্পিয়নস লীগে ফিরতি লেগের কথা মাথায় রেখে হয়তো ফ্লোরিয়ান ভির্টজকে বিশ্রাম দিতে পারেন স্লট। অন্যদিকে, স্পার্সদের রক্ষণে বড় পরীক্ষা দিতে হবে আগের ম্যাচের আলোচিত গোলকিপার আন্তোনিন কিনস্কিকে। টেবিলের ষোড়শে থাকা স্পার্সদের জন্য আপাতত অবনমন জোন থেকে বাঁচার লড়াইটাই মুখ্য।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন