রাজনগরে চা-বাগানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ

রাজনগরে চা-বাগানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ

ফন্ট সাইজ:

জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ নিযেছে মৌলভীবাজারের রাজনগরের উত্তরভাগ চা-বাগান। যেখানে বন উজাড় হচ্ছে, কেটে ফেলা হচ্ছে গাছ-গাছালি- ঠিক এমন সময়ে উত্তরভাগ চা-বাগান এ উদ্যোগ নিলো। বাগানের ৫০ একর নির্জন বনভূমিতে অভয়ারণ্যর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়েছে। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়ের অভয়ারণ্যর ব্যবস্থা করেছেন তারা। চা-বাগানের বড়তল লেকের পাশের বনভূমিতে এ অভয়ারণ্যের উদ্যোগ। উত্তরভাগ চা-বাগান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজনগরের উত্তরভাগ উইনিয়নের বিশাল এলাকা জুড়ে উত্তরভাগ চা-বাগান। এ বাগানে চা গাছের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল বনাঞ্চল। বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠা ঝোপঝাড়ে যেমন রয়েছে বন্যপ্রাণী তেমনি এ প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক। তাই বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। চা-বাগানের বড়তল লেকের পাশে জীববৈচিত্র্যর নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির আনাগোনা বেড়েছে।

ইতিমধ্যে ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় ও মৌলভীবাজার বনবিভাগের অনুমতি ক্রমে একটি আহত মেছোবাঘ ধরে চিকিৎসা দিয়ে তাকে স্যাটেলাইট বেল্ট পরিয়ে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চা-বাগানের শ্রমিক সাজু, জিতেন ও মদন বলেন- পাশে লেক থাকায় মেছো বাঘের বিচরণ বেশি। মেছো বাঘ মাছ খেতে ভালো বাসে। এখানে বন্যপ্রাণীর খাদ্যের পরিমাণ বাড়লে তাদের আনাগোনা আরও বাড়বে। সম্প্রতি উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ এবং ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর উত্তরভাগ ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিয়ে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। এ সময় ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের ম্যানেজার শিমুল নাথ বলেন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গণসচেতনতা সৃষ্টির একান্ত প্রয়োজন। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করে প্রকৃতির প্রতি মানুষকে আরও যত্নশীল হতে হবে।

উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা-বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার লোকমান চৌধুরী বলেন, নির্বিচারে বন উজাড়, অবৈধ শিকার, বন্যপ্রাণী পাচার, জলাভূমি ভরাট ও পরিবেশ দূষণের কারণে দিন দিন অনেক বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বাগানের মালিক পক্ষ প্রকৃতি সংরক্ষণে খুবই যত্নশীল তাই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহদী সরওয়ার বলেন, আমাদের অনুমতি সাপেক্ষে কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় আমাদের জানামতে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো চা-বাগান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে তারা কাজ শুরু করেছে।