ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ জন কয়েদির সাজা কমিয়ে প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেছেন। তার সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। আগামী জানুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ডেমোক্রেট দলের এই গভর্নর এক চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক এবং বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি নষ্ট করে। ২০০৬ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আদালতের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। ১৯৭৮ সালে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর সেখানে মাত্র ১৩ জনের সাজা কার্যকর করা হয়েছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
২০১৯ সালেই ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন নিউসাম। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন তাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টের সাতজন বিচারকের মধ্যে অন্তত চারজনের অনুমোদনের মাধ্যমে এই সাজা মওকুফ প্রক্রিয়াটি কার্যকর হবে। নিউসামের পদক্ষেপকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বর্ণবাদী ও ভুলপ্রবণ শাস্তির বিরুদ্ধে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে সাধুবাদ জানালেও, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শীর্ষ কৌঁসুলি নাথান হচম্যান জানান সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার অধিকার কেবল আইনসভা বা ভোটারদের হাতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফাঁসি কার্যকর বেড়েছে এবং ফেডারেল পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডকে জঘন্য অপরাধ দমনের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে সমর্থন করে আসছেন। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বর্তমানে ২৭টিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বৈধ রয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিল।
