পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ‘উয়েনো ব্যাংক’। ব্যাংকটি পেনার মেয়াদে অতি দ্রুত দেশের অন্যতম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছিল এবং দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশকে নিজেদের গ্রাহক দাবি করেছিল। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিলে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের আমানত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের টাকা তুলতে না পেরে শত শত পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়ে এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পর রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
২০২৩ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসেন ৪৭ বছর বয়সী ট্রাম্পপন্থি পেনা। সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের( কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) অভিযোগে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সর্বসম্মত ভোট পড়েছিল। রাষ্ট্রীয় তহবিল এবং পেনশন খাতের ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ডলার (প্রায় ৯ হাজার ৯১৮ কোটি থেকে ১০ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) উয়েনো ব্যাংকে জমা রাখার বিষয়ে পেনার সাবেক শেয়ারমালিকানার যোগসূত্র নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। নিজের দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোরাসিও কার্তেসসহ সংসদ সদস্যরা অভিশংসনের পক্ষে অবস্থান নিলে পেনা এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানান, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ফিরিয়ে দেয়া নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন পেনা। তার পদত্যাগের পরপরই কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করে সিনেটে পাঠিয়েছে, যা সিনেটে অনুমোদিত হলে পেনা তার সংসদীয় দায়মুক্তি হারিয়ে সাধারণ আদালতে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।
